শহীদ জিয়া : নতুন প্রজন্মের সুমহান আদর্শ
ড. আবুল হাসনাত মোহাঃ শামীম।। বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ঘোষক এবং মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গণে বীরযোদ্ধা জিয়াউর রহমান পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হয়েছেন। স্বাধীনতার ঘোষক এবং একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বাংলাদেশের ইতিহাসে তিনি অমরত্ব পেয়েছেন। পেশাভিত্তিক কর্মজীবনে প্রথমে পাকিস্তান এবং পরে স্বাধীন বাংলাদেশের সেনাবাহিনীতেও সফলতার প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। বিদ্রোহে বিদ্রোহে তছনছ হতে যাওয়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ফিরিয়েছেন নিজস্ব মেধা এবং বুদ্ধিদীপ্ততার স্ফুরণে। সেনাবাহিনী প্রধান হিসেবেও তার ভূমিকা অতি উচ্চ মর্যাদায় শোভিত।
মেধাবী জিয়াউর রহমান স্কুলজীবন থেকেই ছিলেন বিনয়ী এবং চটপটে। তাঁর শিক্ষাজীবনের বেশিরভাগ পার হয়েছে কলকাতা ও করাচিতে। ১৯৫৩ সালে পাকিস্তান সামরিক একাডেমিতে ভর্তি হন তিনি। এরপর ১৯৫৫ সালে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হিসেবে কমিশন লাভ করেন।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন তিনি এবং পরবর্তী সামরিক জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপেই সফলতার চিহ্ন রেখেছেন। জিয়াউর রহমান শুরু থেকেই একজন চৌকস অফিসার হিসেবে প্রতিটি দায়িত্ব সফলতার সঙ্গে পালন করেন। ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে তাঁর বীরত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ ইতিহাসে তাঁকে অমর করেছে। এরপরে তিনি পূর্ব-পাকিস্তানের চট্টগ্রামে ৮ নম্বর বেঙ্গল রেজিমেন্টের কোম্পানি কমান্ডার হিসেবে নিযুক্ত হন।
১৯৫৩ সালে জিয়াউর রহমান পশ্চিম পাকিস্তানের কাকুলের পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। অফিসার ক্যাডেট হিসেবে যোগদান করে শুরু থেকেই তাঁর সুনাম ছড়িয়ে পড়তে থাকে। এরপর ১৯৫৫ সালে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট পদবীতে কমিশন প্রাপ্তির পর থেকে আর তাঁকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। বিশেষত একজন সুদক্ষ সেনা এবং কমান্ডো হিসেবে তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল। ফলে তাঁকে স্পেশাল ইন্টেলিজেন্স কোর্সে উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য সুপারিশও করা হয়। এই উচ্চতর প্রশিক্ষণ তিনি অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে শেষ করেন।
প্রশিক্ষণ প্রাপ্তির পর করাচিতে দুই বছর কর্মরত ছিলেন জিয়াউর রহমান। ১৯৫৭ সালে তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে স্থানান্তরিত হয়েছিলেন। ১৯৫৯ থেকে ১৯৬৪ সাল অবধি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বর্তায় জিয়াউর রহমানের উপর। নানাস্থানে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন তিনি।
সামরিক কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান সংসার জীবনে প্রবেশ করেন ১৯৬০ সালে। পরবর্তীকালের আপোসহীন দেশনেত্রী হিসেবে সুবিদিত এদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা বেগম খালেদা জিয়া হলেন তাঁর স্ত্রী। বিয়ের পর বেশিদিন পূর্ব পাকিস্তানে দায়িত্ব পালনের সুযোগ হয়নি। পাক-ভারত যুদ্ধ বেধে গেলে তাঁর দায়িত্ব পড়ে পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায়।
১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একটি কোম্পানির কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এই সময় খেমকারান সেক্টরে অসীম বীরত্বের পরিচয় দেন জিয়াউর রহমান। সাহসিকতা প্রদর্শন করে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে তখন তিনি বিশেষ ভাবে সম্মানিত হয়েছিলেন। সেই যুদ্ধে পাকিস্তানের যেসব কোম্পানি সর্বাধিক বীরত্বসূচক পুরস্কার লাভ করে তার মধ্যে অন্যতম ছিল জিয়াউর রহমানের কোম্পানি। পাক-ভারত যুদ্ধে বীরত্বের জন্য পাকিস্তান সরকার কর্তৃক তাঁকে হিলাল-ই-জুরাত খেতাবে ভূষিত করা হয় তখন।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হয়ে যুদ্ধে সাফল্যের জন্য জিয়াউর রহমানের ইউনিট বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ দু’টি সিতারা-ই-জুরাত এবং নয়’টি তামঘা-ই-জুরাত পদকও লাভ করেছিল। তাঁর সাফল্য দেখে পাকিস্তান সেনাবাহিনী এই দক্ষতাকে অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এরপর তিনি ১৯৬৬ সালে পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে প্রশিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। নতুনভাবে নিয়োগ লাভ করে সেখানেও সফলতা দেখান তিনি। এই বছরই পশ্চিম পাকিস্তানের কোয়েটায় অবস্থিত কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজে স্টাফ কোর্সে যোগ দেন।
প্রশিক্ষকের দায়িত্ব সাফল্যের সঙ্গে পার করে ১৯৬৯ সালে তিনি মেজর পদে উন্নীত হন। নতুন করে তিনি আবার ফিরে আসেন পূর্ব-পাকিস্তানে। তখন জয়দেবপুরে দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড-ইন-কমান্ডের দায়িত্ব লাভ করেন জিয়াউর রহমান। এই সময়েই অ্যাডভান্সড মিলিটারি অ্যান্ড কমান্ড ট্রেনিং কোর্স নামক একটি উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য তিনি গমন করেছিলেন পশ্চিম জার্মানিতে। এরই মাঝে কয়েক মাস তিনি যুক্ত হয়েছিলেন ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সাথে একটি যৌথ প্রশিক্ষণ ওয়ার্কশপে।
বিভিন্ন দায়িত্ব পালন ও প্রশিক্ষণ শেষে ১৯৭০ সালে তিনি আবার ফিরে আসেন পূর্ব-পাকিস্তানে। এবার নিজ দেশে ফিরে তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত হন চট্টগ্রামে নবগঠিত অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে। এই সময়েই বাংলাদেশের ইতিহাসের পট পরিবর্তনের আবহ ধেয়ে আসে। এই দেশের মাটির প্রতি বিনীত শ্রদ্ধার স্বাক্ষর রাখতে এখানে তিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন।
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পশ্চিম পাকিস্তানি সশস্ত্র হানাদার বাহিনী পূর্ব পাকিস্তানের নিরস্ত্র মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। অপারেশন সার্চলাইট নাম দিয়ে নারকীয় গণহত্যা চালায়। তখনকার আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান বিপন্ন জাতিকে কোনো ধরণের নির্দেশনা না দিয়েই গ্রেফতার বরণ করে নেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হাতে। শেখ মুজিব গ্রেফতার হওয়ার পর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতাদের বেশিরভাগ আত্মগোপনে চলে যায়। সবার পলায়ন এবং আত্মগোপনের ফলে ভয়াবহ এক সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে পড়ে যায় পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ।
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ পশ্চিম পাকিস্তানি বাহিনীর আক্রমণে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ যখন দিশেহারা তখন তাদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ ঘোষণা করে সরাসরি প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু করে দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। তিনি শুধু তার বাহিনী নিয়ে বিদ্রোহ করেই দায়িত্ব শেষ করেননি। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে অমর হয়েছেন।
চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার পর তার বাহিনী সহ তিনি সামনে থেকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেন। শক্তিশালী পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে তাঁদের প্রাথমিক প্রতিরোধ ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে পাকিস্তান সেনাবাহিনী তাঁর সক্ষমতা সম্পর্কে জানতো বলে তারা তাকে প্রতিহত করার জন্য সব ধরণের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিল। যদিও সফলতার মুখ তারা দেখতে পারেনি। প্রবল পরাক্রান্ত পাকিস্তানি বাহিনীকে প্রতিরোধ করে জিয়াউর রহমানের সেনাদল চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী অঞ্চল দীর্ঘদিন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাদের সেই দূরন্ত প্রতিরোধ এখনও পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর ইতিহাসে অন্যতম বিস্ময়কর ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে কৌশলগত দিক থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ১ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। শুরুতে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, রাঙ্গামাটি, মিরসরাই, রামগড়, ফেনী প্রভৃতি স্থানে মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত করায় তাঁর কৃতিত্ব অনবদ্য। অন্যদিকে তাঁর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরবর্তীতে ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এই তিনটি ব্যাটালিয়নের সমন্বয়ে মুক্তিবাহিনীর প্রথম নিয়মিত সশস্ত্র ব্রিগেড গঠন করা হয়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের এই বিখ্যাত ব্রিগেড ফোর্সের নাম দেওয়া হয়েছিল জেড ফোর্স। জিয়াউর রহমান এই সময় তাঁর ব্রিগেড ফোর্স তথা জেড ফোর্সের অধিনায়ক হিসেবে সফলতার সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেছিলেন।
স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণা থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমান সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে হয়েছিলেন ইতিহাসের মহানায়ক। তাঁর যুদ্ধ পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অপরিসীম দক্ষতা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে তাঁর অনন্য অবস্থান তৈরি করেছে। বিশেষত, ১৯৭১ সালের এপ্রিল হতে জুন পর্যন্ত ১ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন তিনি। তারপর জুন হতে অক্টোবর পর্যন্ত যুগপৎভাবে ১১ নম্বর সেক্টরের পাশাপাশি জেড-ফোর্সের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব ছিল তাঁর। স্বাধীনতা যুদ্ধে সীমাহীন বীরত্ব প্রদর্শনের জন্য তাকে বীর উত্তম উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল।
সফল যোদ্ধা জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের প্রতিটি সংকটে নিজ কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। তিনি রাজনীতিতে প্রবেশের পর বাংলাদেশের মানুষ নতুন করে ‘রাজনীতি’ বিষয়টাকে চিনতে পেরেছে। তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় পাওয়া যায় ১৯৭৫ সালের ১১ নভেম্বর বেতার ও টেলিভিশনে প্রদত্ত ভাষণে। এই ভাষণে তৎকালীন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান বলেছিলেন, ‘আমি রাজনীতিবিদ নই। আমি একজন সৈনিক।…. রাজনীতির সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই এবং আমাদের সরকার সম্পূর্ণ নির্দলীয় ও অরাজনৈতিক।’ তাঁর রাজনৈতিক জীবনে এই বিষয়টিকে তিনি অক্ষরে অক্ষরে পরিপালন করার চেষ্টা করেছেন।
রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশের আগে গণমানুষের চাহিদা সম্পর্কে বোঝার চেষ্টা করেছিলেন জিয়াউর রহমান। শুরুতে বাংলাদেশের মানুষের উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধির উপর জোর দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। এই উদ্দেশ্য সামনে রেখে ১৯৭৭ সালের ২২শে মে ‘আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে তিনি ঘোষণা করেন যুগান্তকারী ১৯ দফা কর্মসূচি। এই কর্মসূচি মূলত বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কাছে একজন নেতা হিসেবে তাঁর জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল।
দেশের উত্তাল এক পরিস্থিতিতে জিয়াউর রহমান দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তখনও তিনি ছিলেন একজন সফল সামরিক শাসক। প্রতিটি বিদ্রোহ এবং সংকট সফলতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশের ভেতরে রাজনৈতিক দলগুলো তখন বিভিন্ন দল উপদলে বিভক্ত, বিচ্ছিন্ন এবং দিশেহারা অবস্থায় দিন পার করছিল। তাই রাজনৈতিক দিক থেকে তাঁর প্রতিপক্ষও তখন কেউ নেই। একজন সাহসী নেতা হিসেবে জিয়াউর রহমান সফলভাবে প্রমাণ করতে পেরেছেন অন্য কারও মতো তিনি জোর করে ক্ষমতা দখল করেন নাই। বাংলাদেশের রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে শাসনকাজ পরিচালনায় তাঁর পেছনে তখন বিশাল জনসমর্থন।
রাজনৈতিক দিক থেকে নিজের গ্রহণযোগ্যতা যখন তুঙ্গে তখন রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি প্রতিষ্ঠা তাঁকে সফলতার শীর্ষে নিয়ে যায়। ১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বে বিএনপি দ্রুত একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। সময়ের আবর্তে সেই দলটিই বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সংগ্রামের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রম মূলত শুরু হয়েছিল জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই। দেশের প্রয়োজনে তিনি তাঁর শাসনামলে বিভিন্ন ধরণের উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর গৃহীত এই সব কর্মকাণ্ড থেকে কৃষি, শিল্প, শিক্ষা, এবং অবকাঠামোগত প্রতিটি খাতে অভূতপূর্ব পরিবর্তন দৃশ্যমান হতে থাকে। আর এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ও বিদেশী শত্রুরা এদেশকে ধ্বংস করে দেয়ার ষড়যন্ত্র শুরু করে।
এমন সময় ১৯৮১ সালের ৩০ মে একদল সামরিক কর্মকর্তা সেই ষড়যন্ত্রের সুযোগ গ্রহণ করে। তারা নির্মমভাবে হত্যা করে বাংলাদেশের সফল রাষ্ট্রনায়ক গণমানুষের প্রিয় নেতা জিয়াউর রহমানকে। এই মহানায়কের অকাল মৃত্যু বাংলাদেশের উন্নয়নের রাজনীতিকে হঠাৎ করে ভয়াবহ এক সংকটের দিকে নিয়ে যায়। এই সংকট উত্তরণে দীর্ঘদিন লড়াই সংগ্রাম করতে হয়েছে এবং হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষকেই।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সবথেকে বড় সফলতা তাঁর উত্তরাধিকার। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ এই ব্যক্তিত্ব তাঁর উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে গিয়েছেন তাঁরই সহধর্মিনী আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে। তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক জাগরণ ও ফ্যাসিবাদ থেকে উত্তরণের সংগ্রামে যে ভূমিকা রেখেছেন তা নিঃসন্দেহে বিশ্বের যে কোনো হিসেবে কিংবদন্তীতূল্য। পরবর্তীকালে তাঁর সুযোগপুত্র তারেক রহমান একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে যেভাবে সফলতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন তাতে করে আরও অনেক অনেক যুগ বাংলাদেশের মানুষ পরম শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে এই মহানায়কের নাম। রণাঙ্গণ থেকে রাষ্ট্রপরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের জন্য সুমহান এক আদর্শের নাম শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
লেখক : ডাইরেক্টর (ফিন্যান্স) জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন।











