লামা-আলীকদমে তামাক চাষিরা বিপাকে
লামা প্রতিনিধি।।
লামা-আলীকদমে বিপাকে পড়েছে তামাক চাষিরা। জাপান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে কৃষক হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। বিক্ষুব্ধ তামাক চাষিরা যে কোনো সময় প্রতিবাদে ফুঁসে উঠতে পারে।
শত শত কৃষককে চাষে উদ্বুদ্ধ করে এখন তামাক নিতে গড়িমসি করছেন টোব্যাকো কোম্পানিগুলো। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) আলীকদমের একটি ক্রয়কেন্দ্রে কৃষকদের সঙ্গে জাপান টোব্যাকো কোম্পানির লোকদের উত্তেজনাকর বাকবিতণ্ডা হয়। তামাকপাতার মান নির্ণয় (গ্রেডিং) ক্ষেত্রে কৃষকদের ঠকানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অপরদিকে ব্রিটিশ আমেরিকা ও আবুল টোব্যাকো কোম্পানি এখনো তামাক ক্রয় শুরু করেনি।
জানা যায়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো তামাক ক্রয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়েছে। অপরদিকে জ্বালানি তেলের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশীয় কোম্পানিগুলোও পরিবহন ব্যয় নিয়ে নানান শঙ্কায় রয়েছে। এর ফলে উৎপাদিত তামাক নিয়ে হাজারো কৃষক হতাশায় ভুগছেন। জানা গেছে, কৃষকদের রোষানলে পড়ার আশঙ্কায় ভুগছেন কোম্পানির লোকেরা।
তামাক চাষিরা অন্য ফসলের চেয়ে বেশি মুনাফার আশায় চড়া সুদে ঋণ নিয়ে এই ঝুঁকিপূর্ণ চাষে বিনিয়োগ করে আসছেন। কিন্তু কোম্পানির খামখেয়ালিপনায় এসব তামাকের প্রকৃত মূল্য না পেলে অনেক কৃষক দেউলিয়া হয়ে এলাকা ছাড়তে হবে। বিগত চার দশকে এ ধরনের ঘটনায় প্রান্তিক পর্যায়ের অনেক চাষি দেনা পরিশোধ করতে না পেরে আত্মহত্যা করার নজির রয়েছে।
সরকারের কৃষি বিভাগের অমনোযোগিতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে লামা-আলীকদমে প্রচুর পরিমাণ সেচযোগ্য কৃষিজমিতেও তামাকপাতা চাষ হয়ে আসছে। সরকারি ভর্তুকি মূল্যে বিদ্যুৎ, সার ইত্যাদি সুবিধা নিয়ে তামাক চাষের সুফল নিচ্ছে কোম্পানিগুলো। এর ফলে এই অঞ্চলে ধানসহ জীবনঘনিষ্ঠ অনেক নিত্যপণ্যের চাষ হতাশাজনকভাবে কমে গেছে।
সবুজ গাছপালা উজাড়, বাতাসে বিষক্রিয়া মিশে শ্বাসকষ্ট, ক্যান্সারসহ প্রাণঘাতী নানান রোগ ছড়াচ্ছে। শুকিয়ে গেছে নদী, ঝিরি-ঝর্ণা, জলাশয় এবং জীববৈচিত্র্য চরম হুমকির মুখে পড়েছে।
কৃষকরা জানান, এত ক্ষতি স্বীকার করেও অর্থকরী বিকল্প চাষের সুযোগ না পেয়ে আমরা পরিবেশ ও জীবনঘাতী তামাক উৎপাদন করে সেই পণ্য বিক্রি করতে না পারার যন্ত্রণাটা সকল কর্তৃপক্ষের অনুধাবন করা দরকার।
এ বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও টোব্যাকো কোম্পানির কারো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।











