ঢাকা | মে ২৭, ২০২৬ - ৪:৫২ অপরাহ্ন

শিরোনাম

রাইখালীতে স্বেচ্ছাশ্রমে এলাকাবাসীর নির্মিত ঝুলন্ত বাঁশের সেতু

  • আপডেট: Wednesday, May 27, 2026 - 1:09 pm

কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি।।

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ২নং রাইখালী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের নারানগিরি ১নং পাড়ায় দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কাটাতে স্বেচ্ছাশ্রমে একটি অস্থায়ী ঝুলন্ত বাঁশের সেতু নির্মাণ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গত মঙ্গলবার (২৬ মে) ১৫ দিনের শ্রম ও স্থানীয়দের আর্থিক সহযোগিতায় সেতুটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়।

পাহাড়ি ও বাঙালি সম্প্রদায়ের প্রায় ১৫০টি পরিবারের বসবাস এই পাড়ায়। এলাকাবাসীর যাতায়াতের একমাত্র ভরসা ছিল নারানগিরি খালের ওপর নির্মিত একটি জরাজীর্ণ বাঁশের সাঁকো। ওই সাঁকো ব্যবহার করেই শিক্ষার্থীরা স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মন্দির ও প্যাগোডায় যাতায়াত করত। পাশাপাশি বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ কর্মস্থল এবং স্থানীয়রা সাপ্তাহিক রাইখালী বাজারে যেতে এই সাঁকো ব্যবহার করতেন।

এছাড়া অসুস্থ ও মুমূর্ষু রোগী, গর্ভবতী নারীসহ সাধারণ মানুষকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যেতে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পার হতে হতো। প্রতি বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলে সাঁকোটি ভেসে গিয়ে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলত।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. রাশেদ, মো. মানিক, মো. লোকমান, পুলু মারমা এবং এলাকার কারবারি সুইথি মং মারমা জানান, বছরের পর বছর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের চলাচল করতে হয়েছে। বিশেষ করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সাঁকো পারাপারে অভিভাবকদের মধ্যে সবসময় আতঙ্ক কাজ করত। বারবার সরকারি দপ্তরে আবেদন জানিয়েও স্থায়ী সেতু না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত এলাকাবাসী নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে অস্থায়ী ঝুলন্ত সেতুটি নির্মাণ করেন।

তাঁরা বলেন, “বর্ষা এলেই সাঁকোটি ভেসে যায়। তাই নিজেদের শ্রম ও আর্থিক সহায়তায় আমরা নতুন এই ঝুলন্ত সেতুটি নির্মাণ করেছি। তবে আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি, এখানে দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হোক।”

এ বিষয়ে ২নং রাইখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মংক্য মারমা বলেন, সাঁকোটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে ঝুলন্ত বাঁশের সেতু নির্মাণ করেছেন। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে একাধিকবার স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তিনিও দ্রুত স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানান।

কাপ্তাই উপজেলা প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম চৌধুরী মুঠোফোনে জানান, খালের ওপর স্থায়ী সেতু নির্মাণের প্রস্তাব ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে অনুমোদিত হয়েছে। অচিরেই টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং আগামী অর্থবছরের শুরুতেই নির্মাণ কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।