ঢাকা | মে ২৪, ২০২৬ - ২:৩৯ পূর্বাহ্ন

মিরসরাইয়ে পশুর হাটে গরুর দাম চড়া, জমেনি বেচাকেনা

  • আপডেট: Saturday, May 23, 2026 - 6:54 pm

মিরসরাই প্রতিনিধি।।

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পশুর হাটগুলোতে কোরবানির পশু উঠতে শুরু করেছে। তবে বিক্রেতারা দাম বেশি চাওয়ায় এখনো বেচাকেনা তেমন একটা জমেনি বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।

গত বুধবার থেকে উপজেলার ২১টি স্থায়ী ও অস্থায়ী বাজারে কোরবানির পশু উঠতে শুরু করেছে।

উপজেলার প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, চলতি বছর মিরসরাইয়ে ৫৩ হাজার ৮৩০টি পশুর চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় ৬০ হাজার ৩০০টি কোরবানির পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। গত তিন বছরে এখানে প্রায় ৮ হাজার পশুর চাহিদা বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার বড় বাজার মিঠাছড়া বাজারে গিয়ে দেখা যায়, প্রচুর পরিমাণ গরু উঠলেও বেচাকেনা তেমন হচ্ছে না। ক্রেতারা শুধু ঘুরে ঘুরে গরুর দাম দেখছেন। দুপুরের পর অল্পসংখ্যক গরু বিক্রি হলেও তার তুলনায় ছাগল বিক্রি হয়েছে বেশি।

বাজারে আসা দুর্গাপুর এলাকার ক্রেতা মামুন জানান, কোরবানির এখনো বেশ কয়েকদিন বাকি আছে। মূলত হাটে দাম কেমন তা দেখতে তিনি এসেছেন। গরুর মালিকরা চড়া দাম হাঁকাচ্ছেন, আর সে কারণেই বেচাকেনা কম হচ্ছে বলে মনে করেন রহিমুদ্দিন বাদশা।

বড়দারোগাহাট বাজারে গরু বিক্রি করতে আসা মহামায়া এলাকার খামারি সাইফুল জানান, এবার কোরবানির জন্য তিনি ২০টি গরু মোটাতাজা করেছেন। এর মধ্যে বাড়িতে ৫টি গরু বিক্রি হয়ে গেছে। বাকি গরু নিয়ে তিনি বাজারে এসেছেন, তবে ক্রেতা সংখ্যা খুবই কম। ক্রেতারা গরুর যে দাম বলছেন, তাতে বিক্রি করা সম্ভব নয় বলে জানান রহিম উদ্দিন বাদশা।

এদিকে বাজারের তুলনায় এ বছর খামারগুলোতে কোরবানির পশু বেশি বিক্রি হচ্ছে। ঝামেলা এড়াতে অনেকে খামার থেকে পশু কিনে কোরবানির আগ পর্যন্ত সেখানেই রেখে দিচ্ছেন।

ডোমখালী আরসিবি এগ্রো খামারের ম্যানেজার রাশেদ নূর জানান, ঈদের এখনো কয়েকদিন বাকি থাকলেও তাদের খামারের অর্ধেক গরু বিক্রি হয়ে গেছে। গত ২০ দিন আগে থেকে তাদের বেচাকেনা শুরু হয়েছে। ক্রেতারা এসে পছন্দ করে দরদাম করে কিনে নিচ্ছেন এবং কোরবানির আগদিন পর্যন্ত খামারে গরু রাখার সুযোগ পাচ্ছেন।

রাশেদ নূর আরও জানান, এবার তাদের খামারে কোরবানির জন্য ২০০টি গরু ও ২৫টি মহিষ প্রস্তুত রয়েছে। এসব গরুর দাম ৯০ হাজার থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত। লাইভওয়েটেও (জীবন্ত ওজন) তারা পশু বিক্রি করছেন। ৩০০ কেজি পর্যন্ত ওজনের গরু প্রতি কেজি ৫০০ টাকা এবং এর চেয়ে বেশি ওজনের গরু কেজি ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও মহিষ প্রতি কেজি লাইভওয়েট ৫০০ টাকা।

নিজামপুর বাজারের ইজারাদার মো. সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি প্রায় ৬ লাখ টাকা দিয়ে বাজারটি ইজারা নিয়েছেন। কোরবানিতে ঠিকমতো গরু বিক্রি না হলে তাকে লোকসান গুনতে হবে। শুক্রবার বাজারে কিছু গরু-ছাগল এলেও একদমই বেচাকেনা হয়নি, তাই তিনি মঙ্গলবারের হাটের অপেক্ষায় রয়েছেন।

মিরসরাই উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জাকিরুল ফরিদ জানান, খামারি ও প্রান্তিক কৃষকেরা হাটে পশু তুলতে শুরু করলেও বেচাকেনা এখনো পুরোদমে শুরু হয়নি। শনি ও রোববার থেকে হাটে পুরোদমে বেচাকেনা শুরু হবে বলে আশা করছেন ডা. জাকিরুল ফরিদ।

ডা. জাকিরুল ফরিদ আরও জানান, এবার খামারি ও প্রান্তিক কৃষক মিলে চাহিদার তুলনায় বেশি পশু প্রস্তুত করেছেন। পাশাপাশি পশুর হাটগুলোতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মেডিকেল টিম নিয়মিত কাজ করছে।