মিরসরাইয়ে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়
মিরসরাই প্রতিনিধি
পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে ছুটে আসা ভ্রমণপিপাসু মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে উপকূলীয় এই জনপদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যবেষ্টিত স্থানগুলো।
জানা গেছে, এবারের ছুটিতে উপজেলার প্রায় ১৮টি পর্যটন স্পট ভ্রমণপিপাসুদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। সবুজ পরিবেশ, নির্মল হ্রদ, মনোরম ঝরনা ও সমুদ্রসৈকত প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকদের কাছে টানছে। দর্শনার্থীরা দিন দিন এই উপজেলার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন।
মিরসরাইয়ের ১৮টি পর্যটন স্পটের মধ্যে রয়েছে মুহুরী প্রজেক্ট, ডোমখালী সমুদ্রসৈকত, শিল্পজোন বসুন্ধরা পয়েন্ট সমুদ্রসৈকত, সব বয়সী ভ্রমণপিপাসুদের বিনোদনের অন্যতম আকর্ষণ আরশি নগর ফিউচার পার্ক, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃত্রিম লেক মহামায়া সেচ প্রকল্প ও হ্রদ, আট স্তরবিশিষ্ট জলপ্রপাত খৈয়াছড়া ঝরনা, রূপসী ঝরনা, বাওয়াছড়া প্রকল্প, বোয়ালিয়া ঝরনা, জাতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে উপকূলীয় বন, হিলসডেল মাল্টি ফার্ম অ্যান্ড মধুরিমা রিসোর্ট এবং মেলখুম ট্রেইল। এবারের ঈদে এখানকার পর্যটন স্পটগুলো হয়ে উঠেছে আরও মুখর।
ঈদের দিন বিকেল থেকে আরশি নগর ফিউচার পার্কে মানুষের ভিড় দেখা গেছে। সব বয়সী মানুষ সেখানে বেড়াতে এসেছেন। ছবি তুলছেন, গল্প করছেন। বিশেষ করে শিশুদের বেশি আনন্দ করতে দেখা গেছে। শিশুদের বিভিন্ন রাইডসে চড়তে দেখা গেছে। অনেক শিশু বিভিন্ন জীবের আকৃতির সঙ্গে ছবি তুলছে।
এছাড়া মহামায়া ইকোপার্ক, ডোমখালী ও বসুন্ধরা সমুদ্রসৈকতে ছুটে যাচ্ছে মানুষ। অপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা এক স্থান ডোমখালী।
চট্টগ্রাম শহর থেকে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আনোয়ার হোসেন বলেন, “সারা বছর ব্যস্ত থাকতে হয়। ঈদে ৬ দিনের ছুটি পেয়েছি। তাই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মহামায়ায় বেড়াতে এসেছি। বাচ্চারাও খুব মজা করছে। আমাদের কাছেও ভালো লাগছে।”
মিরসরাই উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়ন থেকে মুহুরী প্রজেক্টে বেড়াতে আসা কাউসার আহমেদ বলেন, “মুহুরী প্রজেক্টে আমার অনেকবার আসা হলেও আমার স্ত্রী প্রথমবার বেড়াতে এসেছে। তার কাছে ভালো লাগছে।”
আরেক পর্যটক নুরুল আমিন বলেন, “সবকিছু ঠিক আছে, শুধু জোরারগঞ্জ থেকে প্রজেক্ট যাওয়ার রাস্তাটি বাঁশখালী বাজার পর্যন্ত খুবই খারাপ অবস্থায় রয়েছে। মানুষ অনেক কষ্ট করে এই রাস্তা দিয়ে মুহুরী প্রজেক্টে যাতায়াত করে।”
মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোমাইয়া আক্তার বলেন, “ঈদের ছুটিতে উপজেলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে লোকজনের আনাগোনা বেড়েছে। ঝরনায় বিশেষ সতর্কতার সঙ্গে আসা-যাওয়া করতে বলা হয়েছে। গাইড ছাড়া কেউ যেন ঝরনায় না যায়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া আছে।”











