থাইরয়েড সমস্যা: সচেতনতাই সুস্থতার চাবিকাঠি
ডা. এ হাসনাত শাহীন।। আমাদের শরীরের বিপাক ক্রিয়া, শক্তি উৎপাদন এবং সার্বিক বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে গলার নিচে থাকা থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন। এই হরমোনের তারতম্য ঘটলেই শরীরে নানা জটিলতা দেখা দেয়।
বিশ্বব্যাপী ৭০ কোটির বেশি মানুষ আর বাংলাদেশে প্রায় ৩০ শতাংশ বা পাঁচ কোটির বেশি মানুষ থাইরয়েড জটিলতায় ভুগছেন, যার মধ্যে নারীর সংখ্যাই বেশি। অথচ সচেতনতার অভাবে অনেকেই সময়মতো চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন না। এই সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই প্রতিবছর ২৫ মে পালিত হয় ‘বিশ্ব থাইরয়েড দিবস’। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘থাইরয়েড সুরক্ষায় চাই সঠিক পুষ্টি’।
থাইরয়েডের প্রধান সমস্যা ও লক্ষণ
হাইপোথাইরয়েডিজম (হরমোনের ঘাটতি) এটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। প্রতি আটজন নারীর মধ্যে একজন এতে ভুগতে পারেন। অটোইমিউন, আয়োডিনের ঘাটতি বা অস্ত্রোপচারের কারণে এটি হতে পারে। এর লক্ষণ হলো– অতিরিক্ত ক্লান্তি, ওজন বৃদ্ধি, শীত শীত ভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য, ত্বক-চুলের সমস্যা এবং নারীদের অনিয়মিত মাসিক বা বন্ধ্যত্ব। নবজাতকের ক্ষেত্রে এটি হলে দৈহিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হয়ে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
হাইপারথাইরয়েডিজম (হরমোনের আধিক্য) হরমোন বেশি নিঃসৃত হলে বুক ধড়ফড় করা, অতিরিক্ত ঘাম ও গরম লাগা, ক্ষুধা বাড়লেও ওজন কমে যাওয়া এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যা দেখা দেয়। এ ছাড়া থাইরয়েড গ্রন্থি ফুলে যাওয়া, ব্যথা হওয়া, নডিউল বা ক্যান্সারও হতে পারে।
করণীয়
সুনির্দিষ্ট লক্ষণ না থাকায় থাইরয়েডের সমস্যা অনেক সময় আড়ালে থেকে যায়। তাই যে কোনো সন্দেহজনক উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে একজন হরমোন বিশেষজ্ঞের পরামর্শে সঠিক পরীক্ষা ও চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
থাইরয়েডের প্রতিটি সমস্যারই যথাযথ চিকিৎসা রয়েছে। হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে খাদ্যতালিকায় আয়োডিনযুক্ত লবণ, সামুদ্রিক মাছ, ডিম, জিঙ্ক ও সেলেনিয়াম সমৃদ্ধ বাদাম ও বীজ রাখা জরুরি। পাশাপাশি ভিটামিন ডি নিশ্চিত করতে হবে। অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার পরিহার ও সুষম খাদ্য গ্রহণই থাইরয়েড সুরক্ষার চাবিকাঠি।
সচেতনতাই এই নীরব ব্যাধি থেকে মুক্তির উপায়।
লেখক : ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ও হরমোন রোগ বিশেষজ্ঞ; ইনস্টিটিউট অব ওম্যান অ্যান্ড চাইল্ড হেলথ ও এডব্লিউসিএইচ। ইমপালস হাসপাতাল, ঢাকা।











