ঢাকা | মার্চ ২৪, ২০২৬ - ৩:৫২ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

জাতীয় নির্বাচনের পর হতাশ হওয়া যাবে না-ঈদগাঁও জামায়াতের পুনর্মিলনী

  • আপডেট: Monday, March 23, 2026 - 10:59 pm

ঈদগাঁও প্রতিনিধি, কক্সবাজার।

অনুষ্ঠিত হয়েছে ঈদগাঁও উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর ঈদ পুনর্মিলনী। ২৩ মার্চ সোমবার বিকেলে ঈদগাহ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এর আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম অঞ্চল টিম সদস্য ও কক্সবাজার জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ছলিম উল্লাহ বাহাদুর ও কক্সবাজার-৩ আসনে জামায়াত মনোনীত সাংসদ প্রার্থী শহিদুল আলম ভিপি বাহাদুর। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা ছৈয়দ নুর হেলালী। উপজেলা জামায়াত সেক্রেটারি মাওলানা নুরুল আজিম ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঈদগাঁও উপজেলা শাখার সভাপতি তৈয়ব উদ্দিনের যৌথ সঞ্চালনায়

এতে আরও বক্তব্য দেন বান্দরবান জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক ফারুক আহমদ, রামু উপজেলা জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মাওলানা বশির উদ্দিন, ইসলামাবাদ ইউনিয়নে জামায়াত মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী জয়নাল আবেদীন, কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি মিডিয়া বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর ইমাম খাইর, ঈদগাঁও উপজেলা ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা এনামুল হক ইসলামাবাদী, উপজেলা জামায়াতের যুব বিভাগের দায়িত্বশীল মাওলানা ছরওয়ার কামাল, উপজেলা ইসলামী ছাত্রশিবির সভাপতি মোঃ আব্দুল্লাহ প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ঈদের আনন্দ আল্লাহর তায়ালার পক্ষ থেকে একটি বিরাট নেয়ামত। ঈদ মুসলমানদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। এর চেয়েও বড় উৎসব উদযাপনের জন্য আমরা অপেক্ষায় রয়েছি।

তাদের মতে, জামায়াত এদেশে অসংখ্য শহীদের নজরানা পেশ করেছে। অনেক জাতীয় নেতা হাসিমুখে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলেছেন। জাতীয় নির্বাচনের পর আমাদেরকে হতাশ হলে চলবে না। চূড়ান্ত বিজয়ের দিনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, অনেক পরাজয়ের ভেতরও জয় নিহিত রয়েছে। প্রমাণস্বরূপ তারা উদাহরণ পেশ করেন যে, ষষ্ঠ হিজরীতে হুদায়বিয়ার সন্ধি সম্পাদিত হয়েছিল। সন্ধির শর্তাবলি দেখে সাহাবীরা মনে করেছিলেন যে, এ চুক্তি ছিল মুসলমানদের জন্য অপমানজনক। তাই সাহাবীরা তা সম্পাদন করতে রাজি ছিলেন না। পরে মহানবী (সা.)-এর নির্দেশে সাহাবীরা মনক্ষুণ্ণ অবস্থায় সে সন্ধি মেনে নিয়েছিলেন। এ অবস্থায় আল্লাহর পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট বিজয়ের ইঙ্গিত দিয়ে কোরআনের আয়াত নাজিল হয়েছিল। এ চুক্তি সম্পাদনের দুই বছরের মাথায় মুসলমানরা প্রায় ১০ হাজার সৈন্য-সামন্ত নিয়ে বিনা রক্তপাতে পবিত্র মক্কা নগরী জয় করেন, যা ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে ইতঃপূর্বে প্রদত্ত ইঙ্গিতের সুস্পষ্ট বিজয়।

জামায়াতের আলোচকরা বলেন, নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং বা কারচুপির মাধ্যমে আমাদেরকে হারানো হয়েছে। অথচ দেশব্যাপী সৃষ্টি হয়েছিল জামায়াতের পক্ষে বিশাল গণজোয়ার। আমাদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার যে ঘাটতি রয়েছে তা পূরণের জন্য হয়তো আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে আরও পাঁচ বছর সময় দিয়েছেন। বিগত সময়ে জামায়াতের কার্যক্রমই নিষিদ্ধ ছিল। ছিল কঠিন পরিবেশ-পরিস্থিতি। আল্লাহর ইচ্ছায় আমরা এখন মুক্ত আকাশে কার্যক্রম চালাতে সক্ষম হচ্ছি।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় অতি সন্নিকটে। চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের জন্য আমাদেরকে দ্বিগুণ বেগে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। রাজনৈতিক কার্যক্রম প্রচার ও প্রসারের মাধ্যমে আগামীতে তাগুতের সকল ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দিতে হবে।

দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন উপজেলা জামায়াত নেতা মাস্টার নুরুল হক।

এতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাস্টার ছৈয়দ নুর হেলালী, মাস্টার ছৈয়দুল আলম হেলালী, মাওলানা ফাজেল ইবনে শরীফ, মাওলানা বশির আহমদ, আলহাজ্ব আব্দুর রশিদ, মমতাজ উদ্দিন আহমদ মহসিন, ব্যাংকার মিজানুর রহমান, মুফিজুর রহমান মুফিজ, ডাক্তার সুলাইমান মোর্শেদ, লায়েক ইবনে ফাজেল, বেদারুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলমগীরসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ইউনিট থেকে আগত নেতৃবৃন্দ।