ঢাকা | মার্চ ১২, ২০২৬ - ২:১৮ অপরাহ্ন

সংসদ অধিবেশন শুরু

  • আপডেট: Thursday, March 12, 2026 - 11:15 am

বিশেষ প্রতিনিধি।। বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টায় এ অধিবেশন শুরু হয়।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। এর পরপরই ভেঙে দেওয়া হয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ। এর দেড় বছর পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন। ওই নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট ৭৭টি আসন পেয়ে সংসদের প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় রয়েছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না থাকায় এবার সংসদে দলটির কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই।

 

সংবিধান অনুযায়ী সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের বৈঠক আহ্বানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই বাধ্যবাধকতায় ১২ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আজ সকাল ১১টায় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম বৈঠক শুরু হচ্ছে।

সংবিধান ও কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী বিদায়ী স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে প্রথম বৈঠক শুরুর কথা থাকলেও এবার তা হচ্ছে না। গত সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর পদত্যাগ এবং গণহত্যা মামলায় ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু কারাবন্দি থাকায় নতুন সংসদের সিনিয়র কোনো সদস্যের সভাপতিত্বে প্রথম বৈঠক শুরু হবে। সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, স্পিকারের চেয়ার ফাঁকা রেখেই কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে প্রথমে শুরু হবে অধিবেশন। এরপর বৈঠকে সভাপতিত্ব করার জন্য সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বর্তমান সংসদের একজন সিনিয়র সদস্যের নাম প্রস্তাব করবেন। অন্য একজন সংসদ সদস্য তা সমর্থন করবেন। তারপর ওই সিনিয়র সদস্যের সভাপতিত্বে বৈঠক শুরু হবে। প্রথম বৈঠকের সভাপতি হিসেবে বিএনপির সিনিয়র নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি শুরুতেই নতুন স্পিকার ও ডেপুটি নির্বাচন করবেন। স্পিকার নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ হলে কিছুক্ষণের জন্য অধিবেশন মুলতবি করা হবে। এই ফাঁকে রাষ্ট্রপতি নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পড়াবেন। শপথ গ্রহণ শেষেই নতুন স্পিকার মুলতবি বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন। অবশ্য ডেপুটি স্পিকার প্রথমে নির্বাচন না করা হলে নতুন স্পিকারের সভাপতিত্বে নির্বাচন করা হবে।

তবে অধিবেশন শুরুর আগেই সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি প্রথম দিনের বৈঠকেই বিরোধী দলের ওয়াক আউটের আশঙ্কাও সৃষ্টি হয়েছে।

ক্ষমতাসীন বিএনপি ও তাদের মিত্র সংসদ সদস্যদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়া, ওই পরিষদের শপথ-সংক্রান্ত চিঠি এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ নিয়ে উচ্চ আদালতের জারি করা রুলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করেছে। পাশাপাশি জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়েও সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে মতবিরোধ বাড়ছে।

এদিকে বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের বিষয়টিও নতুন করে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের জন্ম দিয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সংসদে ভাষণ দেওয়া নিয়ে বিতর্ক।

বিরোধী দল অধিবেশনে যোগ দিলেও রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় অধিবেশন বর্জন করতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। অবশ্য এ বিষয়ে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে খোলাসা করে কিছু বলা হয়নি। আজ এ বিষয়ে তারা দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করবে বলে জানা গেছে।

দীর্ঘ দেড় দশকের একতরফা সংসদের অবসান ঘটিয়ে নতুন একটি সংসদের যাত্রা শুরু হচ্ছে আজ। এবার সংসদে সরকারি দলের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও বিরোধী দলও তুলনামূলকভাবে বেশ শক্তিশালী। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে সরকারকে সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তারা জানিয়েছে, বিগত সময়ের মতো সংসদ বর্জনের সংস্কৃতি থেকে তারা বেরিয়ে আসবে, সংসদে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করবে এবং ভুল ধরিয়ে দিয়ে সংশোধনের পরামর্শ দেবে।

জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা, আস্থা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে সংসদের নতুন অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে উল্লেখ করে সরকারি দলের পক্ষে চিফ হুইফ নুরুল ইসলাম বলেন, আমরা সংসদকে একটি কার্যকর ও অর্থবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে চাই। আমরা বিশ্বাস করি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সংলাপ ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর সমাধান করা সম্ভব এবং সেই পথ ধরেই আমরা জাতিকে আরো শক্তিশালী ও স্বাবলম্বী ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিতে পারব।

অপরদিকে দেশ ও জাতির কল্যাণে সরকারের পদক্ষেপে সমর্থন-সহযোগিতা করবেন উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সরকার ভুল করলে আমরা সংশোধনের সুযোগ ও পরামর্শ দেব। এতে কাজ না হলে প্রতিবাদ করব; আর প্রতিবাদে কাজ না হলে জনগণের অধিকারের পক্ষে শক্ত হয়ে দাঁড়াব।

এদিকে ডেপুটি স্পিকার পদে বিরোধী দল থেকে নাম প্রস্তাব করার আহ্বান জানিয়েছিল সরকারি দল। তবে তাতে সাড়া দেয়নি বিরোধী পক্ষ। তাদের বক্তব্য, খণ্ডিতভাবে ডেপুটি স্পিকারের পদ নেওয়ার পরিবর্তে তারা জুলাই সংস্কারের পুরো প্যাকেজ বাস্তবায়ন চায়। মানুষ গণভোটে সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে। এটাকে অগ্রাহ্য করার কোনো সুযোগ নেই।