লামায় সহকারী যুগ্ম জজ আদালত স্থাপনের দাবিটি এখন গণদাবিতে রূপ নিয়েছে
লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি।
বৃহত্তর লামাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ‘লামায় সিভিল কোর্ট (দেওয়ানি আদালত) তথা সহকারী যুগ্ম জজ/সিনিয়র সহকারী জজ আদালত’ চালু করা। জনবহুল পার্বত্য লামা উপজেলার ভৌগোলিক অবস্থান, ভূ-আয়তন ও জনসংখ্যা বিবেচনায় বিচারিক সেবা নিশ্চিতসহ বিচারপ্রার্থীদের চাপ কমাতে লামায় সিভিল কোর্টের অপরিহার্যতা রয়েছে মর্মে জনদাবি উঠেছে।
১৮ জানুয়ারি ২০২৬ লামায় সিভিল কোর্ট স্থাপনের জন্য স্থানীয় সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী ও বান্দরবান জেলা সমাজসেবা পরিষদের সদস্য এম. রুহুল আমিন সচিব, আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বরাবর একটি আবেদন করেছেন। আবেদনপত্রে বান্দরবান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই জোর সুপারিশ করেছেন। স্থানীয়রা মনে করেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় লামায় সিভিল কোর্ট স্থাপন অনুমোদনে দ্রুত ও কার্যকরী ব্যবস্থা নেবেন।
সাবেক মহকুমা বৃহত্তর লামায় বিগত শতাব্দীর ৭০-এর দশক থেকে বিচারিক আদালত ছিল। বর্তমানে (২০০৮-০৯ সালে বিচার বিভাগ পৃথক হলে) লামা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার সংখ্যা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। তথ্যানুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই উপজেলায় ৯০ শতাংশ মামলার সূত্রপাত হয় মূলত ভূমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে।
এই বাস্তবতায় লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি (পূর্বতম লামা মহকুমার অধিক্ষেত্র) উপজেলার জমিজমা সংক্রান্ত মামলায় সেবাপ্রার্থী প্রজাদের কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলা অতিক্রম করে বান্দরবান জেলা সদরে পৌঁছাতে হয়। দক্ষিণের এই তিন উপজেলার সঙ্গে বান্দরবান জেলা সদরের দূরত্ব—লামা থেকে ৯৫ কিলোমিটার, আলীকদম থেকে ১২৫ কিলোমিটার এবং নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে ১২৫ কিলোমিটার।
বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলার হাজিরা দিয়ে সেদিন ফেরা সম্ভব হয় না এবং বেশির ভাগ প্রান্তিক মানুষকে মামলার হাজিরার আগের দিন পৌঁছাতে হয়। ফলে জেলা সদরে হোটেলে খাওয়া ও বোর্ডিংয়ে থাকতে হয়। এ কারণে বিচারপ্রার্থী প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আর্থিক ও সময়—দুই দিকেই লোকসান হচ্ছে। মামলার জট কমানো ও বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে লামা উপজেলায় সিভিল কোর্ট স্থাপনে জনগণের দাবিটি মৌলিক বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন।
এ বিষয়ে বৃহত্তর লামাবাসী বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ, বান্দরবান পার্বত্য জেলা এবং সচিব, আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।











