ঢাকা | মার্চ ২৭, ২০২৬ - ৬:০৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম

লামায় মামলাধীন দোকানের তালা ভাঙালেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা

  • আপডেট: Friday, March 27, 2026 - 2:41 pm

মুহাম্মদ কামরুজ্জামান, লামা (বান্দরবান)।।

লামায় বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে থানায় এফ.আই.আর ট্রিট করে মামলার আইও বিরোধপূর্ণ দোকানের তালা ভাঙতে পারে কিনা; এমন প্রশ্ন তুলেছেন মামলার বিবাদী আলমগীর নামের এক ব্যবসায়ী।

ওই ব্যবসায়ী জানান, বিগত ২০২৩ সালের ২৬ জুলাই তারিখে কাপড় ব্যবসায়ী আব্দুল মাবুদ-এর কাছ থেকে ৩৪ লাখ টাকা মূল্যে ১৭৪ বর্গফুটের লামা বাজারস্থ একটি দোকান প্লট স্থাপনাসহ নোটারী পাবলিক কক্সবাজার কার্যালয়ে হস্তান্তর চুক্তিনামার মাধ্যমে ক্রয় করে দখল বুঝে নেন। এর পর ১লা আগস্ট/২৩ তারিখে ভাড়া চুক্তিনামা দলিলের মাধ্যমে বিক্রেতা মোঃ আবদুল মাবুদকে মাসিক ৬ হাজার টাকা করে ভাড়া দেন।

কিন্তু ভাড়াটিয়া আব্দুল মাবুদ মাসিক ভাড়া প্রদানে চুক্তি লঙ্ঘন করতে থাকে এবং এক পর্যায়ে বিক্রিত দোকান প্লটটির মালিকানা নিজের দাবি করে।

এই ঘটনায় ক্রয়সূত্রে দোকান প্লটের মালিক আলমগীর লামা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিগত ২৫ এপ্রিল/২৪ তারিখে পিটিশন মামলা দায়ের করেন।

মামলায় তদন্ত শুনানি শেষে বিগত ১৬ সেপ্টেম্বর/২৫ তারিখে বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশে বলা হয়, “সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী নালিশী জমিতে বাদীর দখল রয়েছে। ফলে উক্ত ভূমিতে ২য় পক্ষ প্রবেশ করলে শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা থাকায় ১ম পক্ষের দখলীয় ভূমিতে ২য় পক্ষের প্রবেশ বারিত করা হলো। মামলা নথিজাত।”

এই আদেশের পর স্থানীয় গণ্যমান্যদের মধ্যস্থতায় বিক্রেতা মোঃ আবদুল মাবুদ দোকান ঘরটি ক্রেতা-মালিক আলমগীরের দখলে ছেড়ে দেন। ওই সময় ৪ মাসের ভাড়া বাকি থাকায় কয়েকটি কাপড়ের বান্ডিল আলমগীরের জিম্মায় দোকানে রেখে যান।

এদিকে নোটারী পাবলিক চুক্তিনামার শর্তানুযায়ী আব্দুল মাবুদ যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে নামজারি করে দিতে বললে, কিছু মানুষের কুপরামর্শে অতিরিক্ত ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। চাহিত টাকা দিতে না পারলে আলমগীরকে উচ্ছেদ, মামলা-হামলা করার হুমকি দেয় মোঃ আবদুল মাবুদ গং। এসব বিষয়েও আলমগীর বাদী হয়ে মোঃ আব্দুল মাবুদসহ ৮ জনকে আসামি করে লামা বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সি.আর মামলা নং ৪৪৮/২৫ দায়ের করেন, যা বর্তমানে সহকারী পুলিশ সুপার লামা সার্কেলের তদন্তাধীন আছে।

এছাড়াও দেওয়ানী কার্যবিধি আইনের ৩৯ নং আদেশ রুল ১/২ এবং ১৫১ ধারায় প্রতিকার চেয়ে এ বিষয়ে আলমগীর বাদী হয়ে আব্দুল মাবুদসহ তিনজনকে বিবাদী করে বান্দরবান বিজ্ঞ সিনিয়র সিভিল জজ আদালতে ঘোষণা ও চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মোকাদ্দমা করেন। যার নং ১৭০/২০২৫। এই মামলাটিও তদন্তাধীন আছে বলে সূত্র জানিয়েছেন।

অপরদিকে মোঃ আব্দুল মাবুদ বাদী হয়ে লামা বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতে একটি সি.আর মামলা ৪২/২৬ দায়ের করেন। মামলায় আলমগীরসহ অপরাপর ৫ জনকে আসামি করা হয়। এই মামলায় বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালত লামা থানাকে এফ.আই.আর ট্রিট করার নির্দেশ দেন। ১৫ মার্চ লামা থানা অফিসার ইনচার্জ মামলাটি এফ.আই.আর ভুক্ত করে সাব-ইন্সপেক্টর এসএম গোলাম কিবরিয়াকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেন।

এদিকে এক ভিডিওতে দেখা যায়, ২৬ মার্চ সন্ধ্যায় সাব-ইন্সপেক্টর এসএম গোলাম কিবরিয়া বিরোধীয় দোকানে গিয়ে ওয়ার্কশপ শ্রমিক দিয়ে ইলেকট্রিক যন্ত্রের মাধ্যমে দোকানের তালা ভেঙে কলাপসিবল গেট খুলে বস্তাভর্তি কিছু একটি গণনা করেন।

বাদী-বিবাদীর অনুপস্থিতিতে কিংবা আদালতের নির্দেশ ব্যতীত মামলার আইও মামলাধীন কোনো দোকানের তালা ভাঙতে পারে কি না; এমন প্রশ্ন করে অভিযোগ তুলেছেন মামলার বিবাদীসহ অনেকেই।

এ বিষয়ে মামলার আইও জানান, “এফ.আই.আর ট্রিট করে আসামিদের সন্ধান করছি এবং দোকানের ভিতরে মালামাল কী আছে তার তালিকা প্রণয়নের জন্য দোকানের তালা ভাঙা হয়েছে।” তালা ভাঙার বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা আছে কিনা—এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার আইও এই প্রশ্নের কোনো উত্তর না দিয়ে বলেন, “ওসি স্যারের সঙ্গে কথা বলেন।” ওসি ছুটিতে থাকার কারণে তাঁর বক্তব্য নেওয়া যায়নি। তবে থানার অন্য এক কর্মকর্তা জানান, যেহেতু চুরির ধারা আছে, তাই মামলার তদন্তের স্বার্থে আইও এমনটা করতে পারেন।