ঢাকা | মার্চ ১৪, ২০২৬ - ১১:০১ অপরাহ্ন

শিরোনাম

লামা ফাইতংয়ে ব্রিকফিল্ডের নারকীয়তা, বিষাক্ত বায়ুতে স্থানীয়রা শ্বাস নিতে পারছেন না

  • আপডেট: Saturday, March 14, 2026 - 7:37 pm

লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি।

লামা উপজেলাস্থ ফাইতং ইউনিয়নের লাম্বাখোলাসহ কয়েকটি গ্রাম যেন ‘একেকটি নরকের টুকরো’(!)। ৩১টি ইটভাটার চুল্লি দিয়ে বের হওয়া কালো ধোঁয়া ও সড়কের ধূলিকণা মিশ্রিত বায়ুতে শ্বাস নিতে পারছেন না বাসিন্দারা। পাহাড় কর্তন, সবুজ কাঠ পোড়ানো, পানির উৎস শুকিয়ে ফেলাসহ জীবন ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে স্থানীয়রা। অনুসন্ধানে জানা যায়, ফাইতং ইউনিয়নে ১৭ ব্রিকফিল্ডে পুড়ছে বনের কাঠ। এর ফলে লামা উপজেলার প্রায় পাহাড় ন্যাড়া হয়ে মরুরূপ ধারণ করেছে। ইতিমধ্যে ব্রিকফিল্ডগুলো গিলে খেয়েছে আশপাশের অনেকগুলো পাহাড়। সবুজ বন ধ্বংস আর পাহাড় ধ্বংসে রাহুগ্রাস দিন দিন বেড়ে চলছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারা চেষ্টা করেও এই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে পারছেন না (!)। এই বাস্তবতায় পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিবেশ রক্ষায় সরাসরি সেনাবাহিনীকে কর্তৃত্ব করার ক্ষমতা দেওয়া হলে পাহাড়, জীবন-প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা যেতে পারে—এমনটা মনে করেন স্থানীয়রা।
চকরিয়া-লোহাগাড়া কেন্দ্রিক পরিবেশ বিধ্বংসী সিন্ডিকেট ভাঙতে হলে একক সেনাবাহিনীর অভিযান ছাড়া সম্ভব নয় বলে মনে করেন সচেতন সমাজ। ভুক্তভোগী ফাইতংবাসী নিজেদেরকে নরকের বাসিন্দা দাবি করে প্রতিনিয়ত অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন। “Farhad Ahmed” নামের এক ফেসবুক আইডিতে প্রকাশ হয়,
“ভয়াবহ পরিবেশ সংকট থেকে আপনি, আপনার পরিবার এবং সমগ্র ফাইতংকে সুরক্ষিত রাখতে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এটি কোনো ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক বিষয় নয়—এটি আমাদের বেঁচে থাকা, আমাদের ভবিষ্যৎ এবং আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম। আমাদের নিজেদের নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষার জন্য এখনই ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি। তাই আসুন, সবাই একসাথে এগিয়ে আসি এবং আমাদের প্রিয় ফাইতংকে রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখি।”
পার্বত্য লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নে প্রকৃতি ধ্বংসে নারকীয়তা কারা চালাচ্ছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দুর্বল তদারকি কেন—লামা বন বিভাগসহ আর কারোর স্বার্থ আছে কিনা; এসব বিষয় তদন্ত-অনুসন্ধানের দাবি রাখে।
আইন প্রয়োগ করে ব্রিকফিল্ড উচ্ছেদ সংক্রান্ত বিষয়ে লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মঈন বলেন, “আইন প্রয়োগ করেই তো আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ১১ মাস আগে ৭ ব্রিকফিল্ড উচ্ছেদ করেছি। তবে উচ্ছেদ করার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ কৌশলগত কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করলে উচ্ছেদ অভিযান সফল হতো। পরিকল্পনা করে অভিযান করলে একবারে না হোক, পর্যায়ক্রমে বন্ধ করা সম্ভব হবে।”
চলবে…
(এপিসোড-২)