ঢাকা | মার্চ ১৬, ২০২৬ - ২:৪৫ অপরাহ্ন

লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নে ৩১ ব্রিকফিল্ড গিলে সবুজ বনাঞ্চল

  • আপডেট: Monday, March 16, 2026 - 11:43 am

লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি।।

লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নে অবৈধ ব্রিকফিল্ডের নানাবিধ দূষণে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কাঠ ও কয়লা পোড়ানো থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া, বিষাক্ত গ্যাস এবং ছাই বায়ু, মাটি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করছে। অবৈধ ইটভাটাসমূহ উচ্ছেদে মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে পারছেন না প্রশাসন। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, প্রশাসনের চেয়ে ব্রিকফিল্ড সিন্ডিকেট সদস্যদের শক্তি বেশি।

সকল আইন অমান্য করে ফাইতং ইউনিয়নের লোকালয়ে গড়ে ওঠা এসব ইটভাটা বন উজাড় এবং পাহাড় ধ্বংস করছে। ফাইতং ইউনিয়নে অনুমোদনহীন ৩১টি ইটভাটা পরিবেশ ও প্রকৃতি শেষ করে দিচ্ছে। এর মধ্যে ১৫ থেকে ১৭টি ভাটায় সরাসরি বনের কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। এর ফলে চুল্লির চিমনি থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া ও ছাই বায়ুমণ্ডলকে বিষাক্ত করে তুলছে। স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রিকফিল্ড চুল্লির কালো ধোঁয়া ও ধূলিকণা বাতাসের সঙ্গে মিশে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায় এবং আশপাশে ফসল উৎপাদন ব্যাহত করে, যা পরিবেশের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করে।

তাছাড়া কয়লার পরিবর্তে কাঠ পোড়ানোর ফলে বনাঞ্চল ধ্বংস হচ্ছে। ইটভাটার উত্তাপ এবং ছাইয়ে আশপাশের জমির ফসল ও উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, এমনকি অনেক গাছগাছালি মরে যাচ্ছে।

‘ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩’ অনুযায়ী আইন মানা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এই আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নে গঠিত সিন্ডিকেট পাহাড়-প্রকৃতি মেচাকার করে কীভাবে অবৈধ ইটভাটা চালু রেখেছে—এর উত্তর নেই।

বান্দরবান জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, লামা উপজেলা বা জেলার কোথাও ব্রিকফিল্ড করার কোনো অনুমোদন নেই। সে কারণেই জেলার প্রতিটি উপজেলায় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর লাগাতার উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

এদিকে এত অভিযানের পরও লামা উপজেলার ফাইতংয়ে জনবসতি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে অবৈধভাবে এতগুলো ইটভাটা পরিচালিত হচ্ছে—কোন যাদুবলে; এমন প্রশ্নে সচেতন সমাজ বিস্ময়ে হতবাক হচ্ছে (!)।

সরেজমিনে দেখা যায়, একেকটি ইটভাটা এলাকায় কাঠের বিশাল মজুদ রয়েছে। এসব কাঠ জব্দ করে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা নিতে পারেন কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তা না করে বন বিভাগের সংশ্লিষ্টরা দায়সারাভাবে কিছু অভিযান পরিচালনা করে, যা দৃশ্যত মহাসাগর থেকে এক চা-চামচ পানি উঠানোর মতো।

স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানান, বন বিভাগ ও ব্রিকফিল্ড মালিক সিন্ডিকেটের একটি যোগসূত্র আছে। আইনের প্রয়োগ শিথিল রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে মাসে মাসে মোটা অঙ্কের ঘুষ দিয়ে ম্যানেজ করে রাখা হয়।

এই বিষয়ে বন বিভাগের চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, “স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হবে।”

চলবে…