ঢাকা | ফেব্রুয়ারী ২৫, ২০২৬ - ৯:৪৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম

রাঙামাটিতে টিসিবির ট্রাক সেলে স্বস্তির চিত্র

  • আপডেট: Wednesday, February 25, 2026 - 5:22 pm

রাঙামাটি প্রতিনিধি।
নিম্নআয়ের মানুষের জন্য রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রম শুক্রবার ও শনিবার বাদে পুরো রমজান মাসজুড়ে চলবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে একযোগে ট্রাক সেল পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিটি ট্রাকে প্রতিদিন ৪০০ জনের জন্য পণ্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। টিসিবির নির্ধারিত প্যাকেজ অনুযায়ী একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ দুই লিটার সয়াবিন তেল, দুই কেজি মসুর ডাল, এক কেজি চিনি, এক কেজি ছোলা ও আধা কেজি খেজুর কিনতে পারেন।
সয়াবিন তেল (প্রতি লিটার) ১১৫ টাকা, চিনি (প্রতি কেজি) ৮০ টাকা, মসুর ডাল ৭০ টাকা, ছোলা ৬০ টাকা, আধা কেজি খেজুর ৮০ টাকা ও বাজারের ব্যাগ ১০ টাকা। সব মিলিয়ে ৬০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে পুরো প্যাকেজটি, যা বাজার থেকে কিনতে গেলে প্রায় ৯৫০ টাকা ব্যয় হতো। অর্থাৎ একজন ক্রেতা প্রায় ৩৫০ টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় করতে পারছেন।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টায় মাস্টার কলোনি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ট্রাকে থাকা পণ্য প্রায় শেষ পর্যায়ে। লাইনে দাঁড়িয়ে টোকেন সংগ্রহ করে শৃঙ্খলাভাবে পণ্য নিচ্ছেন ক্রেতারা। প্রতিটি পয়েন্টে প্রশাসনের প্রতিনিধি সার্বিক পরিস্থিতি তদারকি করছেন।
মাস্টার কলোনিতে টিসিবির ট্রাক সেলের পরিবেশক জহিরুল ইসলাম বলেন, পণ্যের তুলনায় ক্রেতার উপস্থিতি সব সময়ই বেশি থাকে। চাহিদা বেশি হওয়ায় যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা না সৃষ্টি হয়, সে জন্য আগেভাগেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, গত বছরের অভিজ্ঞতা থেকে এবার জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিয়ে ১০ টাকা মূল্যের ব্যাগে পণ্য আগেই প্যাকেটজাত করে আনা হচ্ছে। ক্রেতারা লাইনে দাঁড়ালে সিরিয়াল অনুযায়ী প্রত্যেককে টোকেন দেওয়া হয়। পরে টোকেন জমা দিয়ে মূল্য পরিশোধ করলে আমরা সরাসরি পণ্য বুঝিয়ে দিই। এতে সময় সাশ্রয় হচ্ছে এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশে বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে। কোনো ধরনের হট্টগোল ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে পণ্য বিতরণ করা যাচ্ছে।
মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের আয় কম। বাজারে গেলে সব জিনিসের দাম অনেক বেশি। এখানে ৬০০ টাকায় তেল, ডাল, চিনি, ছোলা আর খেজুর একসঙ্গে পেয়েছি। বাজারে কিনতে গেলে আরও অনেক টাকা লাগত। টিসিবির জন্য আমরা কিছু টাকা বাঁচাতে পারছি, এটা আমাদের জন্য বড় উপকার।
গৃহিণী আয়শা আক্তার বলেন, আমরা লাইনে দাঁড়িয়ে সহজেই টোকেন পেয়েছি। কোনো ঝামেলা হয়নি, ঠেলাঠেলিও নেই। কম দামে দরকারি জিনিস পেয়ে খুব ভালো লাগছে।
এছাড়া ফ্যামিলি কার্ডধারীদের জন্য ওয়ার্ডভিত্তিক নির্ধারিত স্পটেও বিক্রয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে।