ঢাকা | জানুয়ারী ২৫, ২০২৬ - ১২:১৫ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

যুবদল নেতাকে দাওয়াত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে ফটিকছড়িতে সংঘর্ষ, আহত অন্তত ৭

  • আপডেট: Saturday, January 24, 2026 - 8:28 pm

মু. আজিজ, ফটিকছড়ি।
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নের সরকারপাড়া এলাকায় একটি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার সবক প্রদান ও বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে দাওয়াত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সরকারপাড়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসায় অনুষ্ঠান শেষ হয়। এ সময় স্থানীয় যুবদল নেতা ঘোষণা কবিরকে দাওয়াত না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি মাদ্রাসার সভাপতি আব্দুল হান্নানের কাছে কারণ জানতে চান। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
একপর্যায়ে ঘোষণা কবির অভিযোগ করেন, দাওয়াত না দেওয়ার পেছনে সমাজের সর্দার তাজুল ইসলামের মদদ রয়েছে। এ সময় তিনি তাজুল ইসলামকে গালাগাল করেন। তাজুল ইসলাম ও তার ভাইয়েরা এর প্রতিবাদ জানালে ঘোষণা কবিরের ভাই ও মামাতো ভাইদের সঙ্গে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে তাজুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম, হুমায়ুন মিয়া, ওয়াসীমসহ অন্তত সাতজন আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে হেয়াকো জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাজুল ইসলামের অবস্থা গুরুতর দেখে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। বাকি আহতরা হেয়াকো জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
উল্লেখ্য, ঘটনাস্থল হেয়াকো বিজিবি ক্যাম্প থেকে মাত্র ১০০ ফুট দূরে অবস্থিত। আহত তাজুল ইসলাম দাঁতমারা ইউনিয়ন শ্রমিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এদিকে অভিযুক্ত যুবদল নেতা ঘোষণা কবির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আজ সকালে মাদ্রাসার অনুষ্ঠানে আমার সিনিয়র নেতারা অতিথি ছিলেন। তারা আমাকে ফোন করে জানান, কিন্তু আমি অনুষ্ঠানের বিষয়টি আগে জানতাম না। ফলে সিনিয়রদের কাছে ছোট হয়েছি। অনুষ্ঠান শেষে সভাপতির কাছে কেন দাওয়াত দেওয়া হয়নি জানতে চাইলে তাজুল ইসলাম ক্ষুব্ধ হয়ে আমার ওপর অতর্কিত হামলা করেন। পাশের দোকানে থাকা আমার ভাইয়েরা বাঁচাতে এলে তাদেরও হামলা করা হয়।”
দাঁতমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোবারক হোসেন খান বলেন, “পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এখনো কোনো পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”