মিরসরাইয়ে দাম বেড়েছে নির্মাণসামগ্রীর, স্থবির উন্নয়নকাজ
মিরসরাই প্রতিনিধি।।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি ও জ্বালানি তেলসংকটে আমদানি-রপ্তানি পণ্যসহ সব ধরনের নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন ঠিকাদার ও নির্মাণ খাতের ব্যবসায়ীরা। অনেকে এরই মধ্যে কাজ বন্ধ রেখেছেন। উন্নয়নকাজের গতি শ্লথ হয়ে গেছে। নির্মাণাধীন ঘরবাড়ির নির্মাণকাজ শেষ করতে হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ মানুষ।
জানা যায়, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের রডের দাম টনপ্রতি ৯০ হাজার থেকে বেড়ে বর্তমানে এক লাখ টাকা ছাড়িয়েছে। এখন জ্বালানি তেলসংকটে সেই রড পরিবহনে বাড়তি ব্যয় হচ্ছে।
মিরসরাইয়ে বিক্রেতা পর্যায়ে রড ও সিমেন্ট সরবরাহকারী (ডিলার) বিসমিল্লাহ স্টিল হাউসের স্বত্বাধিকারী মো. আল মামুন জানান, চট্টগ্রাম থেকে ১৪ টন রড নিয়ে বারইয়ারহাটে আসতে ট্রাক ভাড়া ছিল ১০-১৩ হাজার টাকা। জ্বালানিসংকটে এখন তা বেড়ে হয়েছে ১৫-১৮ হাজার টাকা।
একইভাবে ৪০০ বস্তা সিমেন্ট চট্টগ্রাম থেকে মিরসরাই আনতে পরিবহন ব্যয় ছিল ৫ হাজার টাকা। এখন লাগছে ৭ হাজার ২০০ টাকা। হঠাৎ করে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি ও দেশে জ্বালানি তেলসংকটে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির দ্বিমুখী বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
রড ও সিমেন্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কাঁচামাল আমদানিতে প্রভাব পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দাম বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর আগে দেশে প্রতি টন প্রথম গ্রেডের রডের দাম ছিল ৭৭-৮৩ হাজার টাকার মধ্যে। যুদ্ধ শুরুর পরপরই তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮০-৮২ হাজার টাকায়। আর চলতি সপ্তাহে রড টনপ্রতি ৯৫-৯৭ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।
একইভাবে প্রতি ব্যাগ (৫০ কেজি) সিমেন্টের দাম ছিল ৪৫০-৪৮০ টাকা। চলতি সপ্তাহে তা ৫১০-৫৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
তবে পরিবহন মালিকরা বলছেন, দেশে জ্বালানি তেলের দাম না বাড়লেও ফিলিং স্টেশনগুলো থেকে তেল সংগ্রহে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। চট্টগ্রাম থেকে মালামাল নিয়ে কম দূরত্বের গন্তব্যে যেতেও ১০০ থেকে ১২০ লিটার ডিজেল লাগে। কিন্তু ফিলিং স্টেশন থেকে দৈনিক ২০-৩০ লিটারের বেশি পাওয়া যায় না। তেলের অভাবে কখনো কখনো ২ থেকে ৩ দিন পর্যন্ত গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখতে হয়। আবার বাড়তি টাকা দিয়ে অনেক ক্ষেত্রে তেল সংগ্রহ করতে হয়। যার প্রভাব পড়ছে জীবনযাত্রায়। ফলে গাড়ি ভাড়া স্বাভাবিকভাবেই বাড়ছে।
পরিবহন শ্রমিক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, জ্বালানি তেলের সংকটে অনেক কর্মচারী বেকার বসে আছেন। ফিলিং স্টেশন থেকে প্রতিদিন ২০-৩০ লিটারের বেশি ডিজেল পাওয়া যায় না। ফলে এক ট্রিপ মালামাল নিয়ে যেতে তেলের জন্য ২-৩ দিন অপেক্ষা করতে হয়। এতে গাড়ি ভাড়া, কর্মচারীদের খরচ—সব মিলিয়ে নিজেদেরই লোকসানে পড়তে হচ্ছে।
বালু-সিমেন্ট-রড বিক্রেতা আব্দুল আজিজ জানান, আগে করেরহাট থেকে মিরসরাইয়ে এক ট্রাক বালু আনতে পরিবহন ভাড়া ১৫ শত টাকা থেকে ২ হাজার টাকা লাগত। এখন পরিবহন ভাড়া লাগে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা।
তিনি বলেন, নির্মাণসামগ্রীর দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ঠিকাদার ও নির্মাণ খাতের ব্যবসায়ীরা সংকটে পড়েছেন। সরকারি প্রকল্পের উন্নয়নকাজের গতি শ্লথ হয়ে গেছে। ঠিকাদাররা লোকসানের ভয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ রেখেছেন। নির্মাণাধীন ঘরবাড়ির নির্মাণকাজ শেষ করতে অনেকে হিমশিম খাচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মিরসরাইয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। কিন্তু নির্মাণসামগ্রীর দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় অবকাঠামো, যোগাযোগ ও আধুনিকায়নের অনেক প্রকল্পে গতি কমেছে।











