ঢাকা | এপ্রিল ১২, ২০২৬ - ১০:৩৮ অপরাহ্ন

শিরোনাম

মহালছড়িতে বিজু, সাংগ্রাই ও বৈসু’র আনুষ্ঠানিকতা শুরু

  • আপডেট: Sunday, April 12, 2026 - 7:34 pm

মহালছড়ি প্রতিনিধি।।
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার মহালছড়ি উপজেলার চাকমাদের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক উৎসব ফুলবিঝু’র মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী এই উৎসব শুরু হয়। ১২ই এপ্রিল (রবিবার) সকাল ৮টার সময়ে মনাটেক যাদুগানালা মৎস্যচাষ বহুমুখী সমবায় সমিতি ও মনাটেক কজমা ক্লাবের উদ্যোগে এক র‍্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে ফুল ভাসানো হয়। এতে শত শত সব বয়সের নারী-পুরুষ ফুল ভাসানোতে অংশ নেন খাগড়াছড়ি জেলা মহালছড়ি মুবাছড়ি ইউনিয়নের মনাটেক গ্রামের যাদুগানালা মৎস্য লেকে।
এ সময় মনাটেক যাদুগানালা মৎস্যচাষ বহুমুখী সমবায় সমিতি লিঃ-এর সভাপতি রত্ন উজ্জল চাকমার সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বিমল কান্তি চাকমা। বক্তব্যে তিনি বলেন, পুরনো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে বরণ করতে তিন দিনব্যাপী এই উৎসব ফুলবিঝু, মূলবিঝু ও গোজ্যপজ্য দিন হিসেবে পালন করা হয়।
আমাদের বিঝুর অন্যতম মূল আকর্ষণ হলো “পাজন”। পাজন হলো বিভিন্ন সবজি বা তরকারি দিয়ে রান্না করা খাবার। পাজন ছাড়া বিঝু যেন কল্পনার অতীত। পাজনে কমপক্ষে ৩৬ পদের তরকারি থাকতে হয়।
পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়িদের মধ্যে এই উৎসব বিভিন্ন নামে পরিচিত। ত্রিপুরাদের বৈসু, মারমাদের সাংগ্রাই, চাকমাদের বিঝু, খুমি ও ম্রোদের চাংক্রাই, খিয়াং ও লুসাইদের সাংগ্রাই এবং তঞ্চঙ্গ্যাদের বিষু। এই নামে যেমন রয়েছে ভিন্নতা, তেমনি রয়েছে উদযাপনের ক্ষেত্রেও ভিন্নতা।
ঠিক কবে থেকে পাহাড়িদের মধ্যে এই উৎসবের প্রচলন শুরু হয়েছিল, তার নির্দিষ্ট কোনো ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট জানা সম্ভব না হলেও যুগ যুগ ধরে এই ঐতিহ্যবাহী সামাজিক উৎসবটি পালন করে আসছেন। এটি পাহাড়িদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারক-বাহক।
এই উৎসবকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ। পূর্বের কলহ ভুলে নতুন করে সবাই হিংসা-বির্দেশ ভুলে ফুলবিঝুতে গঙ্গাজলে বা গঙ্গা মায়ের উদ্দেশ্যে পুষ্পাঞ্জলি বা ফুল ভাসিয়ে নিবেদন ও প্রার্থনা করেন। অতীতের সব দুঃখ, কষ্ট ও গ্লানি গঙ্গার জলে ভাসিয়ে নতুন বছরে সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনা করা হয়, যা সকলের পরিবার ও জীবনে বয়ে আনে।
এদিকে মারমা ও ত্রিপুরা পাড়া এলাকাগুলোতে তাদের ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাই ও বৈসুর আমেজে এলাকা সরগরম।