ঢাকা | মে ২৫, ২০২৬ - ৮:১১ অপরাহ্ন

শিরোনাম

বৃষ্টি উপেক্ষা করে জমজমাট মিরসরাইয়ের বারইয়ারহাট পশুর হাট

  • আপডেট: Monday, May 25, 2026 - 6:48 pm

 

মিরসরাই প্রতিনিধি :

টানা বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করেই চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বারইয়ারহাট পৌর পশুর বাজার ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়ে জমজমাট হয়ে উঠেছে। ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসায় শেষ মুহূর্তের বেচাকেনায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে এই অঞ্চলে।

সকাল থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি এবং মাঝে মাঝে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হলেও দুপুরের পর থেকে বাজারে মানুষের ঢল নামে।

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে পছন্দের পশুটি কিনতে মিরসরাই ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা ও ফেনী জেলা থেকে ছুটে আসছেন শত শত ক্রেতা।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টির কারণে হাটের কিছু কিছু জায়গায় কাদা তৈরি হলেও মানুষের উৎসাহে কোনো কমতি নেই। বিক্রেতারা দূর-দূরান্ত থেকে নানা আকারের গরু ও ছাগল নিয়ে হাজির হয়েছেন। বিশাল আকৃতির গরুর পাশাপাশি এবার বাজারে মাঝারি ও ছোট আকারের গরুর চাহিদা ও বিক্রি সবচেয়ে বেশি।

হাটে আসা কয়েকজন ক্রেতা জানান, বৃষ্টির কারণে যাতায়াত ও হাটে হাঁটাচলায় কিছুটা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তবে শেষ মুহূর্তের অতিরিক্ত ভিড় এড়াতে এবং পছন্দের পশুটি আগেভাগে লুফে নিতে তারা আজই বাজারে চলে এসেছেন। দামের ব্যাপারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তারা বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার পশুর দাম কিছুটা চড়া।

অন্যদিকে বিক্রেতারা জানান, গোখাদ্যের দাম ও লালন-পালন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পশুর দাম গত বছরের চেয়ে কিছুটা বেশি রাখা হচ্ছে। তবে বাজারে ক্রেতার সমাগম ভালো থাকায় তারা ন্যায্য দাম পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।

বারইয়ারহাট পৌরসভা ও বাজার ইজারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, হাটের সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জাল টাকা শনাক্তকরণে বসানো হয়েছে বিশেষ বুথ।

এছাড়া ক্রেতা-বিক্রেতাদের হয়রানি ও ছিনতাই রোধে পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি ইজারা কর্তৃপক্ষের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দল সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। বৃষ্টি ও কাদার মাঝেও যাতে হাটের কার্যক্রম ব্যাহত না হয়, সেজন্য বালু ও ইটের খোয়া ফেলে চলাচলের পথ সচল রাখা হচ্ছে।

বাজার কমিটির এক কর্মকর্তা জানান, “বৃষ্টির কারণে শুরুতে কিছুটা বিঘ্ন ঘটলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বারইয়ারহাট পশুর বাজার পুরোপুরি জমে উঠেছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যাপারিরা এখানে গরু নিয়ে এসেছেন এবং বেচাকেনাও বেশ সন্তোষজনক। আমরা ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি।”