ঢাকা | মার্চ ১৬, ২০২৬ - ৭:৪৮ অপরাহ্ন

শিরোনাম

বান্দরবানে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

  • আপডেট: Monday, March 16, 2026 - 4:35 pm

বান্দরবান।

বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ের প্রতিটি পাড়ায় চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ৬৫ জন শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয় ফার্স্ট এইড প্রশিক্ষণ। প্রশিক্ষণটি রুমা উপজেলার রুমা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ০৩ মার্চ হতে ১৬ মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার ১৬ মার্চ সকাল ১০ ঘটিকার সময় রুমা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই ফার্স্ট এইড প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৩৬ বীর রুমা জোনের জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মেহেদী হাসান সরকার (এসবিপি, পিএসসি)। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-অধিনায়ক মেজর মাহফুজুর রহমান (পিএসসি), ক্যাপ্টেন আরফ হাসান উদয়, রেজিমেন্টাল মেডিকেল অফিসার ক্যাপ্টেন মো. সোহাগ মিয়া সজীবসহ বান্দরবান পার্বত্য জেলায় কর্মরত ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সংবাদকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মেহেদী হাসান সরকার (এসবিপি, পিএসসি) বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অন্যতম লীলাভূমি। এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মধ্যে লুকিয়ে আছে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল এবং জনপদ। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ায় এই অঞ্চলগুলো সমতল ভূমির চেয়ে অনেকাংশে পিছিয়ে রয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা তার মধ্যে অন্যতম। বান্দরবানের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং কিছু কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। দুর্গম এলাকা হওয়ায় এই স্বাস্থ্য সুবিধাসমূহ স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সবসময়ই হিমশিম খায়। দুর্গম এলাকাগুলোতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য উপযুক্ত স্বাস্থ্যকর্মী প্রয়োজন। এই প্রেক্ষিতে, ৩৬ বীর রুমা জোনের তত্ত্বাবধানে রুমা উপজেলায় কমিউনিটি নার্সিং ট্রেনিংয়ের আয়োজন করা হয়। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দুর্গম পাড়াগুলো হতে বাছাইকৃত পাড়াবাসীদেরকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার ওপর প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। উক্ত প্রশিক্ষণে সর্বমোট ৬৫ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করে। প্রশিক্ষণটি রুমা উপজেলার রুমা হাই স্কুল প্রাঙ্গণে ০৩ মার্চ হতে ১৬ মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত প্রশিক্ষণে প্রতিটি সদস্যকে প্রাথমিক রোগ নির্ণয়, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং বিভিন্ন বাস্তবসম্মত বিষয়ে জ্ঞান দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ শেষে প্রতিটি পাড়ায় প্রয়োজনীয় ঔষধ এবং চিকিৎসা সহায়ক সামগ্রী সম্বলিত একটি করে প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যাগ প্রদান করা হয়। তাছাড়াও প্রত্যেক সদস্যকে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার জন্য একটি করে প্রত্যয়নপত্র এবং প্রাথমিক চিকিৎসা হ্যান্ডবুক প্রদান করা হয়। রুমা উপজেলার দুর্গম পাড়াগুলোর পাড়াবাসীদের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য আর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দৌড়াতে হবে না। আমরা শিক্ষার্থীদের এমনভাবে প্রশিক্ষণ দিয়েছি যাতে তারা তাদের পাড়ায় প্রতিটি মানুষের কাছে চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে পারে। পরিশেষে তিনি বলেন, এসব প্রশিক্ষণ ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে। পাহাড়ে চিকিৎসা সেবা প্রতিটি ঘরে ঘরে, মহল্লায়, পাড়ায় পাড়ায় পৌঁছে দিতে কাজ করে যাবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

শিক্ষার্থীরা বলেন, ৩৬ বীর রুমা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী হাসান সরকার (এসবিপি, পিএসসি) নিজে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যাগ, সার্টিফিকেট, হ্যান্ডবুক ও বিভিন্ন ওষুধ বিতরণ করেন। উক্ত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে পেরে প্রশিক্ষণার্থী এবং পাড়াবাসী অত্যন্ত আনন্দিত। তারা আশা করছে ভবিষ্যতেও এই প্রশিক্ষণ চলমান থাকবে।