ঢাকা | মার্চ ৩, ২০২৬ - ১১:১৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম

ফেব্রুয়ারিতে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার ১০ নারী-শিশু, খুন তিনজন: এইচআরএসএস

  • আপডেট: Tuesday, March 3, 2026 - 8:45 pm

ডেস্ক রিপোর্ট।। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সারাদেশে ২৩৬ জন নারী ও কন্যা শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৩ জনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায় সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ১৬টি জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ এবং এইচআরএসএসের সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ফেব্রুয়ারিতে ২৩৬ জন নারী ও কন্যা শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৪৫ জন নারী, শিশু ও কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এ ছাড়া ১০ জন নারী ও কন্যা শিশু গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন এবং তিনজনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। যৌন নিপীড়ণের শিকার হয়েছেন ৯০ জন নারী ও কন্যা শিশু, তন্মধ্যে শিশু ১১ জন।

পারিবারিক সহিংসতায় ৪১ জন নিহত, ২৬ জন আহত ও ৩০ জন আত্মহত্যা করেছেন। যৌতুকের জন্য ১ জন নারী নিহত ও ২ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া এসিড হামলায় নিহত হয়েছেন একজন নারী।

উল্লেখযোগ্যভাবে ৯৫ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৪৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৫১ জন শিশু শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

সীমান্ত সংক্রান্ত হতাহত, আটক ও অবৈধ পুশইনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে তিনটি হামলার ঘটনায় ৬ জন নিহত ও ৯ জন আটক হয়েছেন।

অন্যদিকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে ২টি সহিংসতার ঘটনায় ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া ৮ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজারের টেকনাফে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে মিয়ানমারের আরাকান আর্মি থেকে ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত শিশু হুজাইফা আফনান (৯) ২৭ দিন পর মারা গেছেন।

শ্রমিক নির্যাতনের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাসে ৩৩টি শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনায় ৫ জন নিহত এবং ১২৩ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং সুরক্ষামূলক সরঞ্জামের অভাবে ২০ জন শ্রমিক কর্মক্ষেত্রে মারা গেছেন।

এ ছাড়া ১ জন গৃহপরিচালিকা নিহত এবং ১ জন আহত হয়েছেন।

এ বিষয়ে এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা এবং মানবাধিকার সুরক্ষার জন্য রাষ্ট্র ও সমাজের সকল স্তরে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী সহিংসতা, মব সহিংসতা, হেফাজতে মৃত্যু, রাজনৈতিক উত্তেজনা, এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের বিষয়গুলো সমাধান না হলে মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।

সংস্থাটি সরকারের প্রতি মানবাধিকার রক্ষায় আরও জবাবদিহিমূলক ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি সব নাগরিক, গণমাধ্যমকর্মী, নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার সংস্থার প্রতি অধিক সক্রিয় ও সোচ্চার ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানিয়েছে।