ধানের শীষে স্ত্রীকে তালাক, তিন সন্তানসহ জহুরার দায়িত্ব নিল বিএনপি
ফেনী সংবাদদাতা।। স্বামীর নিষেধ উপেক্ষা করে ধানের শীষে ভোট দেওয়ায় তালাকপ্রাপ্ত ফেনীর গৃহবধূ বিবি জহুরা ও তার তিন সন্তানের দায়িত্ব নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর গ্রামে জহুরার শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে এ ঘোষণা দেয় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’।
এ সময় সংসার পরিচালনা, সন্তানদের ভরণপোষণ ও পড়ালেখার দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দেয় বিএনপি। পাশাপাশি জহুরার সংসার পুনঃস্থাপনে এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন নেতারা।
আমরা বিএনপি পরিবারের সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুনের প্রতিনিধি দলে ছিলেন সংগঠনের সদস্য মোস্তাকিম বিল্লাহ ও আবদুল্লাহ আল মেজবাহ, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মশিউর রহমান বিপ্লব, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ও ফেনী-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু এবং ফেনী পৌর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন ভূঞা।
মিথুন জানান, তারেক রহমানের নির্দেশে নগদ অর্থসহায়তা নিয়ে আমরা বিএনপি পরিবারের নেতৃবৃন্দ ঢাকা থেকে জহুরার স্বামীর বাড়িতে যান। এ সময় জহুরার হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়। তার তিন সন্তানের ভরণপোষণ ও পড়ালেখার দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।
প্রতি মাসে পরিবারের খরচের অর্থ জহুরার কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে সংগঠনের পক্ষ থেকে। এছাড়া দ্রুত সময়ের মধ্যে জহুরার বসবাসের জন্য একটি নতুন ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হবে।
বিএনপি পরিবারের সহায়তা পেয়ে জহুরা বলেন, তিনি ধানের শীষে ভোট দিয়ে কোনো ভুল করেননি। পাশে দাঁড়ানোর জন্য তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে শুক্রবার রাতে জহুরার সঙ্গে দেখা করেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মশিউর রহমান বিপ্লবের নেতৃত্বে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল। তারা জহুরা, তার শাশুড়ি ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে পাশে থাকার আশ্বাস দেন। পরে বিষয়টি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নজরে আনা হলে তিনি আমরা বিএনপি পরিবারকে ফেনীতে পাঠান।
কাওসারের মা শরীফা খাতুন বলেন, তার ছেলে যে অপরাধ করেছে, তার শাস্তি হওয়া উচিত। তিনি বলেন, কাওসার ঘরে ফিরতে চাইলে জহুরাকে স্ত্রীর মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে হবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে স্বামীর নিষেধ অমান্য করে ভোট দিতে যাওয়ায় ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও ধর্মপুর বাঁশতলা এলাকার বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন কাওসার তার স্ত্রী বিবি জহুরাকে তালাক দেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা কাওসারকে মারধর করে আটক রাখেন। পরে স্ত্রীকে দেওয়া মৌখিক তালাক প্রত্যাহার করবেন বলে জানিয়ে কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে যান তিনি। কাওসার ওই এলাকার মৃত ইউসুফ হাজারীর ছেলে। ঘটনার পর তিন সন্তান নিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতে পড়েন জহুরা।
২০১৩ সালে ফেনী সদর উপজেলার মধুয়াই বাজার এলাকার নুর আহম্মদের মেয়ে বিবি জহুরার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন কাওসার। তাদের সংসারে আবদুল আলিম শুভ (১২), সাবিনা আফরিস ইভানা (৮) ও ইসরাত জাহান ইসমাত (৪) নামে তিন সন্তান রয়েছে।
পিতৃপরিবার অসচ্ছল হওয়ায় সন্তানদের কথা বিবেচনা করে জহুরা অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালান। কাওসার ফেনী শহরের রেলগেট এলাকায় বেডিং কারিগর হিসেবে কাজ করতেন। তবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি অনেকটা ঘরবন্দি জীবনযাপন করছিলেন।











