দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে খাগড়াছড়িতে সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের সংবাদ সম্মেলন
আরিফুল ইসলাম মহিন, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি-সম্প্রীতি জোরদার এবং সকল জাতিসত্তার ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতের দাবিতে লিফলেট বিতরণ ও পথসভা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সিএইচটি সম্প্রীতি জোট।
রোববার (১৮ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুর ১২টায় খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচি ও দাবিসমূহ তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের মুখপাত্র পাইশিখই মারমা। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের চৌদ্দটি সম্প্রদায়ের ঐক্যবদ্ধ সম্প্রীতির বন্ধনই এ অঞ্চলের শান্তি, উন্নয়ন ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রধান শক্তি। একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে পাহাড়ে বিভাজন সৃষ্টি করে জাতীয় ঐক্য দুর্বল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যা রুখে দিতে সকল নাগরিককে সচেতন হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সারা দেশের প্রায় ৫০টি জাতিগোষ্ঠীকে নিজ নিজ জাতির নাম উল্লেখপূর্বক বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে সংবিধানে স্বীকৃতি দিতে হবে। পাশাপাশি ‘উপজাতি’, ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’, ‘আদিবাসী’ কিংবা ‘সেটলার বাঙালি’—এ ধরনের বিতর্কিত সম্বোধন বাতিল করে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগোষ্ঠীকে স্পষ্টভাবে ‘বাঙালি ও অবাঙালি’ হিসেবে চিহ্নিত করার দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি সমস্যার ন্যায়সঙ্গত সমাধানকে অন্যতম প্রধান দাবি হিসেবে তুলে ধরা হয়। এ লক্ষ্যে ভূমি আইন সংশোধন, সকল জাতির প্রতিনিধিদের নিয়ে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন গঠন এবং বাঙালি ও অবাঙালি ভূমিহীনদের মধ্যে ন্যায্য ভূমি বণ্টনের আহ্বান জানানো হয়।
দেশপ্রেমিক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মর্যাদা রক্ষা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়েও জোর দেন সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার রক্ষক। সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চক্রের বিভ্রান্তিমূলক অপপ্রচার দেশের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। আধুনিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও জনবল বৃদ্ধির মাধ্যমে পাহাড়ে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে সেনাবাহিনীর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।
এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে— পার্বত্য চট্টগ্রামে পরিকল্পিত বিভাজন রোধ,
সকল জাতির মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা,
জনসংখ্যা অনুপাতে সমঅধিকার ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত,
সংসদীয় আসন সংখ্যা ৩ থেকে বাড়িয়ে ৯টি করার দাবি,
স্বাস্থ্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে সমান সুযোগ ও মানসম্পন্ন সেবা,
গর্ভবতী মা ও নবজাতকের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা,
এবং পাহাড়ের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ—এই দাবিগুলো তুলে ধরা হয়।
পাশাপাশি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও ডিজিটাল জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে নেতৃবৃন্দ বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পে ডিজিটাল মনিটরিং ও অডিট ব্যবস্থা চালু হলে জনগণের আস্থা বাড়বে এবং টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার থোয়াইচিং মং চাক, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও দৈনিক পার্বত্য কণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক শাহীন আলম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. নিজাম উদ্দিনসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।











