ঢাকা | ফেব্রুয়ারী ২৫, ২০২৬ - ৫:৪৯ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

দলের সিদ্ধান্তকে প্রাধান্য দিতে চাই, সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী হাসনা হেনা

  • আপডেট: Tuesday, February 24, 2026 - 7:31 pm

সুফিয়া বেগম কহিনু, চট্টগ্রাম।।
চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে যাকে বিএনপি পাগল নেত্রী হিসেবে চিনেন, যার এই নামেই সর্বপরিচিত—তিনি হলেন অ্যাডভোকেট হাসনা হেনা। বিএনপির প্রতিটি মিছিল-মিটিংয়ে তাকে প্রথম সারিতে দেখা যেত। তার কথাবার্তা, স্লোগান ও বক্তব্য সবসময় ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে। কোনো আপোষ নয়, কারো কাছে মাথা নত নয়—আন্দোলন চলবে। বিএনপির বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়ে যেত।
হাসনা হেনার আন্দোলনকে দমন করতে ও তার মুখ একেবারেই বন্ধ করে দিতে ২০২২ সালে তৎকালীন ক্ষমতায় থাকা চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির ফ্যাসিবাদের দোসররা তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক জিয়াউদ্দিন জিয়ার নেতৃত্বে সুকৌশলে অ্যাডভোকেট হাসনা হেনার ‘ল’ এবং সদস্যপদ ও সনদ স্থগিত করে। তারপরও হাসনা হেনা দমে থাকার নারী নন। একদিকে বিএনপির মিছিল-মিটিং, আরেকদিকে তার সদস্যপদ ও সনদ ফিরিয়ে আনতে ত্রিমুখী আন্দোলন চালিয়ে গেছেন।
২০০৬ সালে আইনজীবী সমিতির তালিকাভুক্ত হন হাসনা হেনা। ২০ বছর আইন পেশায় থেকেও রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে অবিচল থেকে বিএনপির গড়োনার রাজনীতিতেই নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। চট্টগ্রাম মহানগরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ড লালখান বাজার এলাকায় যাদের এক নামে পরিচিত বিএনপি পরিবার বলে। মহানগর নেতাদের কাছেও প্রতিষ্ঠাতা বিএনপির কর্মী হিসেবেও পরিচিত ছিলেন হাসনা হেনার বাবা মরহুম অ্যাডভোকেট মহসিন ভূঁইয়া।
অ্যাডভোকেট হাসনা হেনা শিক্ষাজীবনে বি.এস.এস (অনার্স) ও এম.এস.এস (রাষ্ট্রবিজ্ঞান) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শেষ করে পরবর্তীতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়-এর অধীনে এলএলবি পাস করে আইন পেশায় নিয়োজিত হন।
২০১১ সালে আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য এবং ২০১৮ সালে সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেন হাসনা হেনা। জাতীয়তাবাদী চট্টগ্রাম আইনজীবী ফোরামের মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ও যুগ্ম সম্পাদক পদেও দায়িত্ব পালন করেন।
অ্যাডভোকেট হাসনা হেনা বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের সঙ্গেও সামাজিক কাজ নিরলসভাবে করে যাচ্ছেন, যেমন—ব্লাস্ট, জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি, লিগ্যাল এইড বাংলাদেশ ও মানবাধিকার কমিশন।
হাসনা হেনা দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় থেকেও বড় পদ-পদবীর লালায়িত ছিলেন না। একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে কাজ করার লক্ষ্যেই রাজনীতি করছেন বলে জানান। বর্তমানে বিএনপি সরকার গঠন করেছে, খুব শিগগিরই সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী দিতে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম থেকে অনেকেই প্রার্থী হতে দৌড়ঝাঁপ করছেন।
এ বিষয়ে কথা বললে হাসনা হেনা বলেন, তিনি রাজনীতি করেন দেশ ও দশের জন্য। জনগণের ভালোবাসাই তার সম্পদ। তিনি প্রার্থী হবেন কি না—বিষয়টি জনগণের উপর নির্ভর করে এবং দলের হাইকমান্ডের দিকনির্দেশনাকেই প্রাধান্য দিতে চান। দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন তিনি।
দল নীতি নির্ধারকরা তাকে যে দায়িত্ব দেবেন, তিনি সেটিই পালন করবেন। তবে এই মুহূর্তে তাদের নৈতিক দায়িত্ব হলো বিএনপির চেয়ারপারসন ও সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর হাতকে শক্তিশালী করা। পাশাপাশি দলের ভাবমূর্তি নষ্ট না হয় সেদিকে খেয়াল রেখে মাদককারবারি, ভূমিদস্যু, চাঁদাবাজ ও দখলবাজদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।