ট্রাম্প আশ্বস্ত করলেও হরমুজ পাড়ি দিতে নারাজ চার শতাধিক জাহাজ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক।। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনও স্বাভাবিক হয়নি। ডোনাল্ড ট্রাম্প জলপথটি নিরাপদ বলে বারবার আশ্বস্ত করলেও, নতুন করে হামলা আশঙ্কায় ঝুঁকি নিতে রাজি নন শিপিং কোম্পানিগুলো। খবর সিএনএনের।
ঝুঁকি নিতে অনীহা ও নিরাপত্তাহীনতা
বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম শিপিং কোম্পানি ‘হ্যাপাগ-লয়েডের’ ছয়টি কন্টেইনার জাহাজ হরমুজ প্রণালিতে আটকা পড়ে আছে। কোম্পানির মুখপাত্র নিলস হপ্ট জানিয়েছেন, কর্মীদের নিরাপত্তা তাদের কাছে সবার আগে। তাই বর্তমান ঝুঁকি বিবেচনায় তারা জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিচ্ছেন না। মূলত ইরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ও চলাচলের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার অভাবেই এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
বাজারের ওপর প্রভাব
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হয়। যুদ্ধবিরতির খবরে বুধবার তেলের দাম কিছুটা কমলেও বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) আবার ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন এই জলপথ দিয়ে শতাধিক কার্গো জাহাজ যাতায়াত করত। কিন্তু যুদ্ধবিরতির পর এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি তেল বা গ্যাস ট্যাঙ্কার এই পথ অতিক্রম করেছে। মেরিটাইম ট্রাফিক ডাটা অনুযায়ী, এখনও ৪ শতাধিক ট্যাঙ্কার এই অঞ্চলে আটকা পড়ে আছে।
ইরানি শুল্ক ও ডলার এড়িয়ে লেনদেন
শিপিং লজিস্টিক কোম্পানি ‘ফ্লেক্সপোর্টের’ প্রেসিডেন্ট সানে ম্যান্ডার্স এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানান, ইরান বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য নতুন করে ‘টোল’ বা শুল্ক দাবি করছে। অনেক ক্ষেত্রে এই শুল্কের পরিমাণ ২ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে। এই অর্থ মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে চীনা ইউয়ান বা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে গ্রহণ করা হচ্ছে। মজার ব্যাপার হলো, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেও সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে ইরানের সঙ্গে ‘যৌথ উদ্যোগে’ এই ধরনের শুল্ক চালুর ইঙ্গিত দিয়েছেন।
দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা
বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় সামাজিক বিনিয়োগ এবং মাল্টি-অ্যাসেট ব্রোকারেজ প্ল্যাটফর্ম ‘ইটোরোর’ বাজার বিশ্লেষক লাল আকোনারের মতে, জাহাজ চলাচল আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে অন্তত ছয় মাস সময় লাগতে পারে। যুদ্ধের প্রবাদে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম ইতোমধ্যেই ৪০ শতাংশ বা গ্যালন প্রতি ১ দশমিক ১৮ ডলার বেড়েছে। বিশ্লেষক জো ম্যাকমোনিকল সতর্ক করে বলেছেন, ‘এই যুদ্ধবিরতি অত্যন্ত ভঙ্গুর। যদি পরবর্তী এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি না হয়, তবে বিশ্ব অর্থনীতি ভয়াবহ পরিণতির দিকে ধাবিত হবে।’
আপাতত জাহাজ মালিকরা ‘অপেক্ষা করো এবং দেখো’ নীতি অনুসরণ করছেন। তাদের ধারণা, চীনা পতাকাবাহী জাহাজগুলোই প্রথম এই পথে চলাচলের ঝুঁকি নিয়ে পরিস্থিতির ‘পরীক্ষা’ করতে পারে। তবে পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা কাটছে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।











