ঢাকা | মে ১২, ২০২৬ - ৫:৫৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম

জাতীয় প্রেসক্লাবে “পার্বত্য চট্টগ্রাম: সমসাময়িক বাস্তবতা, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ” শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

  • আপডেট: Monday, May 11, 2026 - 8:09 pm

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা।।
পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান পরিস্থিতি, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতি উদ্ভূত বিভিন্ন হুমকি এবং চলমান ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে জাতীয় প্রেসক্লাবে “পার্বত্য চট্টগ্রাম: সমসাময়িক বাস্তবতা, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ” শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১১ মে) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে চিটাগং হিল ট্র্যাক্টস স্টুডেন্ট পলিসি ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সমন্বয়ক রাসেল মাহমুদ। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের মুখপাত্র রিয়াজুল হাসান।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, পার্বত্য শান্তিচুক্তির দীর্ঘ সময় পরও পাহাড়ে স্থিতিশীলতা পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলোর কর্মকাণ্ড জাতীয় ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশকে নিয়ে অপপ্রচার ও বিভিন্ন ষড়যন্ত্র সম্পর্কে দেশবাসীকে সচেতন করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিচারপতি মো. ফারুক বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে ১৯০০ সালের হিল ট্র্যাক্টস রেগুলেশন এবং বিদ্যমান কিছু আইনি কাঠামোর কারণে সেখানে বসবাসরত বহু মানুষ তাদের সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি বলেন, শান্তিচুক্তির আগে ও পরে অসংখ্য মানুষ আত্মত্যাগ করেছেন। পাশাপাশি চাঁদাবাজি ও সহিংসতা উন্নয়ন কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।
বিশেষ অতিথি বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. আব্দুল্লাহ আল ইউসুফ বলেন, সরকার পার্বত্য অঞ্চলে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করেছে। সীমান্ত সড়ক নির্মাণ, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান এবং পর্যটন শিল্পের বিকাশের মাধ্যমে পাহাড়ের মানুষের জীবনমানে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
তিনি আরও বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছে। এত উন্নয়নের পরও কিছু গোষ্ঠীর নেতিবাচক প্রচারণা গভীরভাবে পর্যালোচনার দাবি রাখে।
সভায় বক্তারা বলেন, বর্তমান বিশ্বে তথ্যের পাশাপাশি “ন্যারেটিভ যুদ্ধ” অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম ইস্যুতেও বিভিন্ন পক্ষ আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে। এ প্রেক্ষাপটে দায়িত্বশীল গণমাধ্যম, তথ্যনির্ভর গবেষণা এবং ভারসাম্যপূর্ণ উপস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
তারা আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের বাস্তবতা অত্যন্ত জটিল ও বহুমাত্রিক। ভূমি বিরোধ, প্রশাসনিক জটিলতা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, উন্নয়ন কার্যক্রম ও বিভিন্ন গোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব মিলিয়ে সেখানে একটি জটিল বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। এসব বিষয়ে একপাক্ষিক উপস্থাপন বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে বলে মত দেন বক্তারা।
আলোচনা সভা থেকে পার্বত্য শান্তিচুক্তির পুনর্মূল্যায়ন, ১৯০০ সালের শাসনবিধি পুনর্বিবেচনা, ভূমি আইন সংস্কার, আঞ্চলিক পরিষদ ও পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাচন আয়োজন, চাঁদাবাজি ও সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, বিদেশে অপপ্রচার প্রতিরোধ এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের সব জাতিগোষ্ঠীর সমঅধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আব্দুল লতিফ মাছুম, সাবেক রাষ্ট্রদূত সাকিব আলী, কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকন, পার্বত্য নিউজের সম্পাদক মেহেদী হাসান পলাশ, মেজর (অব.) জাকির হোসাইন, সাংবাদিক ও গবেষক এইচ এম ফারুক, সিএইচটি সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক মো. মোস্তফা আল ইহযায, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক শেখ আদনান ফাহাদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।