ঢাকা | ফেব্রুয়ারী ১৩, ২০২৬ - ১০:১৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম

জনমানুষের আস্থায় ৩০০ নং আসনে বিজয়ী সাচিং প্রু জেরী

  • আপডেট: Friday, February 13, 2026 - 6:58 pm

মিনহাজুল ইসলাম।

দুই যুগেরও বেশি সময় পর বান্দরবান-৩০০ আসনে এলো রাজনৈতিক পালাবদল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির মনোনীত প্রার্থী রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
বেসরকারি ফলাফলে দেখা যায়, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রার্থী এস এম সুজা উদ্দিন শাপলা কলি প্রতীকে পেয়েছেন ২৬ হাজার ১৬২ ভোট। ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন-এর প্রার্থী মো. আবুল কালাম হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ৭১৮ ভোট এবং জাতীয় পার্টি-এর প্রার্থী আবু জাফর মো. ওয়ালিউল্লাহ লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৪৩৫ ভোট।
একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৬৮ হাজার ৮১৭টি এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ৮৯ হাজার ৩৬৬টি, যা ভোটারদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ভিন্নমতের প্রতিফলন ঘটিয়েছে।
ফল ঘোষণার পর জেলা শহরজুড়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মিছিল, মিষ্টি বিতরণ ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে বিজয় উদ্‌যাপন করেন সমর্থকেরা। দীর্ঘ সময় পর আসনটিতে রাজনৈতিক পরিবর্তন আসায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহল ও প্রত্যাশার আবহ তৈরি হয়েছে।
বিজয়ের পর রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী বলেন, “এই জয় পাহাড়ের মানুষের। তারা পরিবর্তন ও উন্নয়নের পক্ষে রায় দিয়েছেন। আমি শান্তি, সম্প্রীতি ও টেকসই উন্নয়নের রাজনীতি এগিয়ে নিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”
সাধারণ ভোটারদের প্রত্যাশাও স্পষ্ট। বান্দরবান পৌর এলাকার বাসিন্দা অংসাথোয়াই মারমা বলেন, “আমরা চাই পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি ও সব সম্প্রদায়ের সমান সুযোগ নিশ্চিত হোক। নতুন এমপি যেন সকলের প্রতিনিধি হয়ে কাজ করেন।”
রুমা উপজেলার এক ব্যবসায়ী বলেন, “পর্যটন, সড়ক যোগাযোগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়ন হলে পুরো জেলার অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
আলীকদমের শিক্ষার্থী ম্রাসিং প্রু তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, “যুবকদের কর্মসংস্থান ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা বাস্তব পরিবর্তন দেখতে চাই।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও সমঅধিকারের প্রশ্নে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। দুই যুগেরও বেশি সময় পর আসনটিতে এই পরিবর্তন ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।