ঢাকা | ফেব্রুয়ারী ২০, ২০২৬ - ৫:২৭ অপরাহ্ন

একুশ ও শেকড়হীন প্রজন্মের সংকট

  • আপডেট: Friday, February 20, 2026 - 2:10 pm
মো. মামুন হাসান।। ফেব্রুয়ারি মানেই আমাদের চেতনার মিনার। অথচ আজ সেই মিনারের পাদদেশে দাঁড়িয়ে আত্মোপলব্ধির বড় অভাব বোধ করি। ১৯৫২ সালে সালাম বরকতরা যখন বুকের রক্তে রাজপথ ভিজিয়েছিলেন তখন লক্ষ্য কেবল একটি ভাষা ছিল না ছিল নিজেদের অস্তিত্ব আর স্বকীয়তার রক্ষা। সেই রক্তস্নাত ইতিহাস আমাদের শিখিয়েছিল মাথা নত না করার অমর দীক্ষা। কিন্তু আজ বর্তমান প্রজন্মের দিকে তাকালে একুশের সেই মর্মবাণী কোথায় যেন খেই হারিয়ে ফেলে। আধুনিক হওয়ার ইঁদুর দৌড়ে আমরা কি তবে আমাদের প্রাণের ভাষাকেই নিলামে তুলছি?

আজকের তারুণ্য প্রযুক্তির জোয়ারে ভাসছে। তারা বিশ্বনাগরিক হতে চায় যা অবশ্যই ইতিবাচক। কিন্তু এই গ্লোবালাইজেশনের দোহাই দিয়ে আমরা যে অদ্ভুত এক জগাখিচুড়ি ভাষা তৈরি করছি তা কি স্মার্টনেস নাকি আমাদের ভাষাগত দেউলিয়া অবস্থা? এফএম রেডিও থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পর্যন্ত সর্বত্রই এক বিকৃত বাংলিশ সংস্কৃতির জয়জয়কার। নিজের ভাষাকে শুদ্ধভাবে বলতে না পারা বা লিখতে না পারাটা এখন অনেকের কাছে ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অবক্ষয় আসলে আমাদের শিকড় ছিঁড়ে ফেলার নামান্তর। মনে রাখতে হবে পরনির্ভরশীল ভাষা দিয়ে কোনো জাতি কখনো বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারেনি।

একুশ মানে কেবল ফেব্রুয়ারি মাসের একুশ তারিখের পুষ্পস্তবক অর্পণ নয়। একুশ মানে সারা বছর নিজের সত্তাকে লালন করা। অন্য ভাষা শেখা বা জানা অবশ্যই গৌরবের কিন্তু নিজের মাকে অবজ্ঞা করে নয়। বর্তমান প্রজন্মের কাছে আমার প্রশ্ন তোমরা যখন ভিনদেশি সংস্কৃতির আদলে নিজেকে সাজাও তখন কি সেই তপ্ত দুপুরের রাজপথের রক্তরেখার কথা মনে পড়ে? ভাষার মর্যাদা রক্ষা করা কেবল সরকারের বা একাডেমির কাজ নয় এটি আমাদের প্রত্যেকের ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা। শুদ্ধ উচ্চারণ আর শুদ্ধ লেখনী হোক আমাদের প্রতিরোধের হাতিয়ার।

পরিশেষে বলব আধুনিকতা মানে নিজের পরিচয় মুছে ফেলা নয়। বরং নিজের ঐতিহ্য আর ভাষাকে সঙ্গী করে আধুনিক পৃথিবীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করাই হলো প্রকৃত সৃজনশীলতা। একুশের সেই অমর গান যেন কেবল প্রভাতফেরির সুরেই সীমাবদ্ধ না থাকে তা যেন মিশে থাকে আমাদের প্রতিটি স্পন্দনে ও মননে। যে জাতি নিজের ভাষাকে সম্মান দিতে জানে না মহাকাল তাদের ক্ষমা করে না। আসুন শেকড়কে চিনি এবং পৃথিবীকে নিজের ভাষায় আমাদের অস্তিত্ব জানান দেই।

লেখক: ইনস্ট্রাক্টর (টেক) ও বিভাগীয় প্রধান ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ,সাতক্ষীরা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।