ঢাকা | জুলাই ১৯, ২০২৬ - ১২:৩৭ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

ঈদগাঁও উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের নতুন ভবন নির্মাণে সাড়ে ৫ কোটি টাকার বরাদ্দ

  • আপডেট: Saturday, July 18, 2026 - 8:50 pm

ঈদগাঁও প্রতিনিধি, কক্সবাজার:

 

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ঈদগাঁও ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের নতুন ভবন নির্মাণে ৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অর্থায়নে পুরনো পরিত্যক্ত ভবনগুলো ভেঙে সেখানে আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। তবে নতুন ভবনের সুসংবাদের পাশাপাশি আবাসন সংকট, নিরাপত্তার অভাব এবং চিকিৎসকদের বেতন কোড জটিলতার কারণে বর্তমানে সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যসেবা পরিচালিত হচ্ছে।

 

কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাবের জানান, ঈদগাঁও ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের তিনটি পরিত্যক্ত ভবন ইতোমধ্যে ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অর্থায়নে এবং স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের (এইচইডি) তত্ত্বাবধানে নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে। নির্মাণকাজ শেষে ভবনটি জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় এবং কক্সবাজার সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

 

তিনি আরও বলেন, নির্মাণকাজের টেন্ডার, বাস্তবায়ন ও অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রম বিধি অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন হবে।

 

কক্সবাজার সদর উপজেলার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা টিটু চন্দ্র শীল জানান, নতুন ভবন নির্মাণে সরকার ৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। বর্তমানে টেন্ডারের মাধ্যমে পুরনো ভবন অপসারণের কাজ চলছে। এরপর স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের তত্ত্বাবধানে নতুন টেন্ডারের মাধ্যমে মূল ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হবে।

 

তিনি বলেন, বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় পরিচালিত একটি প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলেও প্রকল্পের অর্থ বাংলাদেশ সরকারের (জিওবি) তহবিল থেকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পুরো কার্যক্রমের সমন্বয় করছে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়।

 

ঈদগাঁও উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রোখসানা আফাজ জানান, সীমিত জনবল ও অবকাঠামো নিয়েই স্বাস্থ্যসেবা সচল রাখা হচ্ছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর হাসপাতালের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে প্রধান ফটক স্থাপনসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

তিনি বলেন, বর্তমানে একটি ভবনে তিনটি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসনের ব্যবস্থা না থাকায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি ঈদগাঁওয়ে পূর্ণাঙ্গ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

 

নতুন ভবন নির্মাণ শেষ হলে সেখানে মেডিকেল অফিসার ও কনসালটেন্ট নিয়োগের পাশাপাশি বহির্বিভাগ (ওপিডি), মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রসূতি সেবা চালুর সুযোগ সৃষ্টি হবে। তবে এটি ৫০ শয্যার হাসপাতাল না হওয়ায় রোগী ভর্তি করা সম্ভব হবে না।

 

চিকিৎসকদের অন্যত্র বদলি বা চলে যাওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নতুন উপজেলা হওয়ায় ঈদগাঁওয়ের জন্য এখনও পৃথক অর্থনৈতিক বেতন কোড চালু হয়নি। ফলে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের বেতন-ভাতা সংক্রান্ত জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে অনেক আগেই প্রয়োজনীয় প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। বেতন কোড চালু হলে স্থায়ীভাবে চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া সহজ হবে এবং চিকিৎসক সংকটও অনেকাংশে দূর হবে।

 

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ঈদগাঁও উপজেলার বিপুল জনগোষ্ঠী আধুনিক ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবে এবং স্থানীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।