নারীর গোপনে গোসলের ভিডিও ধারণ, ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে দুই যুবক কারাগারে
রংপুর প্রতিনিধি
রংপুর মহানগরের হারাগাছ থানার একটি এলাকায় এক নারীর গোপনে গোসলের ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে যৌন সম্পর্কের প্রস্তাব ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (তারিখ) পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদের রংপুর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, রংপুর সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য কার্তিক এলাকার বাসিন্দা ইয়ানুস আলীর ছেলে এমদাদুল হক (৩২) এবং একই এলাকার মজমুলের ছেলে মোকারেম ওরফে মোকা (২০)।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হারাগাছ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহাবুব রহমান জানান, বৃহস্পতিবার রাতে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে এমদাদুল হকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরপরই অভিযান চালিয়ে এমদাদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, প্রতিবেশী মোকারেমের কাছ থেকে ওই ভিডিওটি পেয়েছিলেন। পরে পুলিশের অভিযানে মোকারেমকেও আটক করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় সাত মাস আগে ভুক্তভোগী নারী নিজ বাড়ির বাথরুমে গোসল করার সময় মোকারেম গোপনে ভিডিও ধারণ করেন। দীর্ঘদিন পর গত ২০ জুলাই তিনি ওই নারীর হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও পাঠিয়ে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে ভিডিওটি প্রতিবেশী এমদাদুলের হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে দেন।
এরপর ২২ জুলাই গভীর রাতে এমদাদুলও ভুক্তভোগীর হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিওটি পাঠিয়ে যৌন সম্পর্কের প্রস্তাব দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসআই মাহাবুব রহমান জানান, গ্রেপ্তার হওয়া দুজনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে সংশ্লিষ্ট ভিডিও ও হোয়াটসঅ্যাপের বার্তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করলে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
রংপুর মেট্রোপলিটন আদালতের কোর্ট পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হারাগাছ থানার পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালতই দেবেন।










