ঢাকা | জুলাই ৯, ২০২৬ - ১১:৩১ অপরাহ্ন

শিরোনাম

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চন্দনাইশে ভয়াবহ বন্যা, পানিবন্দি হাজারো মানুষ

  • আপডেট: Thursday, July 9, 2026 - 9:36 pm

চন্দনাইশ প্রতিনিধি

টানা তিন থেকে চার দিনের ভারী বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শঙ্খ নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে তীর উপচে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। পাশাপাশি বরুমতি খাল ও বিভিন্ন ছড়া-ঝোরার পানি নিম্নাঞ্চলে প্রবাহিত হয়ে মাঠ-ঘাট, ফসলি জমি ও বসতবাড়ি প্লাবিত করেছে। এতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

বুধবার (৮ জুলাই) রাত ১২টার পর থেকে পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাঠ, রাস্তা-ঘাট তলিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় চন্দনাইশ পৌর সদরসহ উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল। পুকুর ও মৎস্য খামার পানিতে তলিয়ে গেছে। গ্রামীণ সড়ক ডুবে যাওয়ায় অনেক এলাকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। কৃষিজমি, সবজি ও বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

চন্দনাইশ পৌর সদরের নয়াহাট কোমরসমান পানিতে তলিয়ে যায়। বাজারের বিভিন্ন দোকানে পানি ঢুকে মালামালের ক্ষতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারে তখনও হাঁটুসমান পানি জমে রয়েছে। বাজারসংলগ্ন হারলা, দক্ষিণ জোয়ারা ও পূর্ব চন্দনাইশ এলাকার বাড়িঘরেও বুধবার রাত ১টা থেকে পানি প্রবেশ শুরু হয়। এসব এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্ক ও নির্ঘুম রাত কাটান।

পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ হারলা এলাকায় প্রায় ২০০ থেকে ২৫০টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া পূর্ব জোয়ারা, পশ্চিম হারলা, এলাহাবাদ, উত্তর গাছবাড়িয়া, জোয়ারা, বরকল, পাঠানদণ্ডী, কানামাদারী, কেশুয়া, বরমা, বাইনজুরী, মাইগাতা, সাতবাড়িয়া, বৈলতলী, দক্ষিণ হাসিমপুর, হাছনদণ্ডী, চাগাচর ও জামিজুরিসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকার খবর পাওয়া গেছে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, শস্য, সবজি ও অন্যান্য কৃষিজ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে। তবে বৃহস্পতিবার বৃষ্টিপাত কিছুটা কমে এলেও পানি খুব ধীরগতিতে নামছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করেছে এবং কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। তবে দুর্গত এলাকায় বর্তমানে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বন্যায় মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি, তবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।