ঢাকা | মে ২৪, ২০২৬ - ১:৫৬ পূর্বাহ্ন

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জবাবদিহি নিশ্চিত করার তাগিদ ইউনিসেফের

  • আপডেট: Saturday, May 23, 2026 - 12:51 pm

ডেস্ক রিপোর্ট।। বাংলাদেশে শিশুদের ওপর সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। সংস্থাটি বলেছে, মেয়েশিশু ও ছেলেশিশুরা ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হচ্ছে। যেসব জায়গায় তাদের সবচেয়ে নিরাপদ থাকার কথা ছিল, সেখানেই এসব সহিংসতার শিকার হয়েছে তারা।

আজ শনিবার (২৩ মে) বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্সের পাঠানো বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়েছে। বিবৃতিতে স্কুল, মাদরাসা, কর্মক্ষেত্র ও পরিবারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে ইউনিসেফ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেছে, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে নারী ও শিশুদের ওপর নৃশংস ও যৌন সহিংসতার ঘটনার বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব ঘটনা দেশব্যাপী শিশু সুরক্ষা ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার জরুরি প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে এসেছে।

সংস্থাটি মনে করে, সহিংসতা প্রতিরোধে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা, সুরক্ষামূলক ব্যবস্থার অভাব, শিশুবান্ধব পুলিশ ও বিচারব্যবস্থার ঘাটতি এবং সামাজিক সেবামূলক কাজের সীমাবদ্ধতাগুলো দ্রুত সমাধান করা দরকার। একই সঙ্গে সহিংসতার শিকার নারী ও শিশুদের মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা প্রদান এবং স্কুল, মাদরাসা, কর্মক্ষেত্র ও পরিবারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

ইউনিসেফের ভাষ্য, সম্প্রদায় নীরব থাকলে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। সংস্থাটি শিশু, নারী, পরিবার ও কমিউনিটির সদস্যদের প্রতি সহিংসতা, নির্যাতন বা শোষণের ঘটনা রিপোর্ট করার আহ্বান জানিয়েছে। এ ক্ষেত্রে চাইল্ড হেল্পলাইন ১০৯৮–এর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে সহায়তা ও রেফারেল সেবা পাওয়া যায়।

ভুক্তভোগীদের ছবি, ভিডিও বা ব্যক্তিগত পরিচয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ বা ছড়িয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধেও সতর্ক করেছে ইউনিসেফ। সংস্থাটি বলেছে, এ ধরনের কাজ বেঁচে থাকা ভুক্তভোগীদের ট্রমা, পরিবারের কষ্ট এবং তাদের প্রতি অসম্মান আরও বাড়িয়ে দেয়।

গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ইউনিসেফ বলেছে, ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকারকে সম্মান করতে হবে এবং কোনো ধরনের ছবি বা পরিচয় প্রকাশ থেকে বিরত থাকতে হবে। এর পরিবর্তে সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার, কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং অপরাধীদের দায়মুক্তির অবসানের দাবিতে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিবৃতির শেষে সংস্থাটি বলেছে, প্রতিটি শিশুর সর্বত্র সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রয়েছে কমিউনিটিতে, স্কুলে, ঘরে।