নারায়ণগঞ্জে গ্যাস বিস্ফোরণে একই পরিবারের পাঁচজন দগ্ধ, সবার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি।। নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার উত্তর ভূঁইগড় এলাকায় গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনায় একই পরিবারের ৫ জন দগ্ধ হয়েছেন বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
রোববার (১০ মে) সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটে সদর উপজেলার ভূঁইগড় গিরিধারা এলাকায় অবস্থিত মো. শাহজাহান মিয়ার ৮ তলা ভবনের নিচতলার পশ্চিম পাশের ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- মো. কালাম (৪৫), তার স্ত্রী সালমা (৪০), ছেলে মুন্না (১২), মেয়ে মুন্নি (১০) ও কথা (৭)।
এলাকার বাসিন্দারা জানান, বিকট শব্দ পেয় আমরার ছুটে আসি। পরে দেখি সবজি বিক্রেতা মো. কালাম ও তার স্ত্রী সন্তানসহ সবাই আগুনে পুড়ে গেছে। আমরা স্থানীয় থানা ও ফায়ার সার্ভিসকে খবরই দেই।
চিকিৎসকরা জানান, কালামের শরীরের ৯৫ শতাংশ এবং তার স্ত্রীর ৬০ শতাংশ পুড়ে গেছে। শিশুদের অবস্থাও অত্যন্ত সংকটাপন্ন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, বিকট শব্দে বিস্ফোরণের পর আশপাশের লোকজন ছুটে এবং দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল আরেফীন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ফ্ল্যাটের পশ্চিম পাশের কক্ষের থাকা রান্নাঘরসংলগ্ন গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বন্ধ কক্ষে গ্যাস জমে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
তিনি আরও বলেন, সকালে ওই ভাড়াটিয়া সিগারেটের লাইটার জ্বালানোর চেষ্টা করলে মুহূর্তেই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করছি। ওই কক্ষ থেকে আমরা একটি গ্যাস লাইটার পেয়েছি।
তিনি আরও বলেন, সাধারণ আগুনের তুলনায় এমন বিস্ফোরণে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হয়। বর্তমানে ভবনটির ওই ফ্ল্যাটটি পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
ফতুল্লার উত্তর ভূইগর এলাকার বাসিন্দা ও সবজি বিক্রেতা মো. কালামের ফ্ল্যাটে আজ ভোরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, রান্নাঘরের গ্যাস লাইনে লিকেজ থাকায় বদ্ধ কক্ষে আগে থেকেই গ্যাস জমে ছিল।
ভোরে কালাম সিগারেট জ্বালানোর জন্য লাইটার ব্যবহার করতেই জমে থাকা গ্যাসে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এই গ্যাসলাইন বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে কালামসহ তার স্ত্রী ও তিন সন্তান মারাত্মকভাবে আহত হন।
বিস্ফোরণের শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে ঢাকায় পাঠায়। দগ্ধরা হলেন—মো. কালাম (৪৫), তার স্ত্রী সায়মা (৪০), ছেলে মুন্না (১২), মেয়ে মুন্নি (১০) ও কথা (৭)। চিকিৎসকদের মতে, কালামের শরীরের ৯৫ শতাংশ এবং তার স্ত্রীর ৬০ শতাংশ পুড়ে গেছে।
শিশুদের অবস্থাও অত্যন্ত সংকটাপন্ন। মূলত বদ্ধ ঘরে গ্যাস জমে থাকাই এই গ্যাসলাইন বিস্ফোরণে দগ্ধ হওয়ার মূল কারণ বলে মনে করছে ফায়ার সার্ভিস।











