ঢাকা | এপ্রিল ১০, ২০২৬ - ১:৩৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম

বাঘাইছড়িতে বিজিবির অভিযানে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ উদ্ধার

  • আপডেট: Friday, April 10, 2026 - 10:42 am

বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি।।

রাঙ্গামাটি জেলার সীমান্তবর্তী বাঘাইছড়ি উপজেলার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (২৭ বিজিবি)।

বিজিবি কর্তৃপক্ষ জানায়, ৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ১১টা ৪৫ মিনিটে মারিশ্যা ব্যাটালিয়ন (২৭ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, পিএসসি-এর নেতৃত্বে জীপতলী ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় একটি বিশেষ টহল দল অবস্থান নেয়। অভিযানে অংশ নেন ক্যাপ্টেন অমিত কুমার সাহা (অপারেশন অফিসার), সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ হাফিজুর রহমানসহ বিজিবির একটি টহল দল।

এ সময় ৩-৪ জন সন্দেহভাজন চোরাকারবারি ঘটনাস্থলের কাছে আসলে বিজিবি সদস্যরা তাদের ধাওয়া করলে তারা পাহাড়ের গভীরে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে মালিকবিহীন পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি বিদেশি পিস্তলসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করে বিজিবি।

উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে— ১টি ৭.৬৫ মি.মি. বিদেশি পিস্তল (চায়না, মডেল CZ83), ১ রাউন্ড তাজা গুলি, ৯টি খালি গুলির খোসা, পিস্তল বহনের ব্যাগ ও কভার, ১টি দেশীয় একনলা বন্দুক ও ৭টি খালি খোসা, ৫টি চাইনিজ চাপাতি (বড় ২টি, ছোট ৩টি), ২টি দেশীয় ধারালো দা, ১টি লোহার হাতুড়ি, ১টি বাটুল গুলতি, ২৬টি কাঁচের মার্বেল ও ৫টি স্টিলের মার্বেল, ১টি পুরাতন স্কুল ব্যাগ।

বিজিবি সূত্রে আরও জানা গেছে, ইয়াবা ও বিদেশি অবৈধ সিগারেটের একটি বড় চালান পাচারের উদ্দেশ্যে চোরাকারবারিরা এই এলাকায় অবস্থান করছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধারকৃত এসব অস্ত্র ও সরঞ্জাম অবৈধ চোরাচালান এবং সিগারেট পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মারিশ্যা জোন (২৭ বিজিবি)-এর জোন কমান্ডার লেঃ কর্নেল জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, মারিশ্যা জোনের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত চোরাচালান প্রতিরোধ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়াও মারিশ্যা জোনের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় চোরাকারবারিদের বিভিন্ন অভিনব পদ্ধতিতে চোরাচালানি তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে চোরাচালান প্রতিরোধকল্পে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আভিযানিক টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও আটকের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন মারিশ্যা জোন কমান্ডার।