ঢাকা | মার্চ ২৮, ২০২৬ - ২:১৩ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

রাঙামাটির দুর্গম ফারুয়ায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সেনাবাহিনীর মানবিক সহায়তা

  • আপডেট: Friday, March 27, 2026 - 10:31 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

 

রাঙামাটি পার্বত্য জেলার বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী, ঘর তৈরির জন্য ঢেউটিন এবং নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে দুর্গম পাহাড়ের অসহায় পরিবারগুলোর মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গতকাল (২৬ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে সেনাবাহিনীর বিলাইছড়ি জোন অধিনায়কের বিশেষ নির্দেশনায় এই সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ফারুয়া আর্মি ক্যাম্প থেকে ক্যাপ্টেন মোঃ ইনান বিন নাজমুল-এর নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর একটি দল উপজেলার ৩ নম্বর ফারুয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্গম ‘পানছড়ি ত্রিপুরা পাড়া’য় এই মানবিক কর্মসূচি পরিচালনা করেন। মূলত গত ১৭ মার্চ সংঘটিত এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এই পাড়ার বেশ কয়েকটি পরিবার তাদের ঘরবাড়ি ও সহায়-সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছিল।

 

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যাতে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে এবং পুনরায় মাথা গোঁজার ঠাঁই করে নিতে পারে, সেজন্য সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বড় আকারের ত্রাণ ও অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এই মানবিক কর্মসূচির আওতায় বিতরণকৃত সামগ্রীর মধ্যে ছিল মোট ৭৫ হাজার টাকা নগদ অর্থ এবং ঘরবাড়ির সংস্কারের জন্য ২০ বান্ডেল ঢেউটিন। এ ছাড়া খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ১০০ কেজি চাল, ৪২.৫ লিটার ভোজ্য তেল, ৪০ কেজি ডাল এবং ২০ কেজি চিনি বিতরণ করা হয়।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হঠাৎ লাগা এই অগ্নিকাণ্ডে পরিবারগুলো চরম বিপাকে পড়েছিল। সব হারিয়ে তারা যখন দিশেহারা, ঠিক তখনই সেনাবাহিনীর এই সময়োপযোগী ও তাৎক্ষণিক সহায়তা তাদের দুর্দশা লাঘবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো সেনাবাহিনীর এই মানবিক উদ্যোগে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তারা বলেন, এই সহায়তা তাদের নতুন করে ঘর বাঁধার এবং পুনরায় ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি জোগাবে।

 

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দীর্ঘকাল ধরে পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি রক্ষার পাশাপাশি যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সংকট বা অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনায় সাধারণ মানুষের ভরসার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সেনাবাহিনীর এই ধরনের ধারাবাহিক সহায়তা কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে এবং দুর্গম এলাকার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।