লংগদু–নানিয়ারচর সড়কের কাজে বাধা: নিরাপত্তা জোরদারের দাবি
লংগদু (রাঙামাটি) প্রতিনিধি।
স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও বহু চেষ্টা সত্ত্বেও রাঙামাটি জেলা সদরের সঙ্গে তিন উপজেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। লংগদু–নানিয়ারচর সংযোগ সড়কের কাজ কয়েকবার শুরু হলেও নানা কারণে বারবার থমকে গেছে।
অনেক আন্দোলন ও দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর রাঙামাটি জেলা পরিষদের অনুদানে সড়কটির মাটি কাটার কাজ শুরু হয়। ২০২৫ সালে শুরু হওয়া এ কাজ গত আট মাস ধরে চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে লংগদু থেকে নানিয়ারচর পর্যন্ত মোটরসাইকেলে চলাচলের মতো একটি পথ তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি জাতীয় নির্বাচনের কারণে কয়েকদিনের জন্য কাজ বন্ধ ছিল। এ সময় স্কাভেটরগুলো নানিয়ারচর অংশে রেখে দেওয়া হয়। নির্বাচনকালীন ছুটি শেষে চালকরা কাজে এসে দেখেন, মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত দুটি স্কাভেটরের যন্ত্রপাতি লুটপাট ও ভাঙচুর করা হয়েছে এবং ইঞ্জিনে বালি ও পানি ঢুকিয়ে সেগুলো অকেজো করে দেওয়া হয়েছে। এতে লংগদু, নানিয়ারচর ও বাঘাইছড়ি এলাকার মানুষের উন্নয়ন ও দীর্ঘদিনের স্বপ্নে ধাক্কা লেগেছে বলে স্থানীয়রা জানান।
সংযোগ সড়কের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জানায়, স্থানীয় প্রশাসন ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় মাটি কাটার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। তবে গত রাতে পাহাড়ি সন্ত্রাসী বা কোনো অজ্ঞাত শক্তি চলমান দুটি গাড়ি নষ্ট করে দেয়। এমন ঘটনায় শ্রমিক ও ঠিকাদারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মাঝেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সমস্যা সমাধান হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে বাকি কাজ সম্পন্ন করা হবে বলেও তারা জানান।
কাজ চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিশেষ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিরাপত্তা ও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থানে সেনাবাহিনীর অস্থায়ী পোস্ট স্থাপনের জন্যও তারা সহযোগিতা চেয়েছে।
এদিকে লংগদু–বাঘাইছড়ির উন্নয়নের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত নানিয়ারচর সড়কের কাজে বাধা সৃষ্টি করায় স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, দ্রুত সড়কের কাজ সম্পন্ন করতে হবে, সন্ত্রাসীদের আস্তানা ভেঙে দিতে হবে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার করে এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে হবে। লংগদুবাসী সতর্ক করে বলেন, দ্রুত কাজ শেষ না হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আবারও আন্দোলনে নামবেন তারা।











