ঢাকা | ফেব্রুয়ারী ১১, ২০২৬ - ৭:৫৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম

দায়িত্বশীল ভোটেই শক্তিশালী বাংলাদেশ

  • আপডেট: Wednesday, February 11, 2026 - 4:53 pm

মুহাম্মদ টিপু সুলতান।। আগামীকাল ১২ তারিখ বৃহস্পতিবার পুরো জাতির জন্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। আমাদের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন। এতে আপনার একটি ভোট জাতি ও রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্যে অতিমূল্যবান পজিটিভ সম্পদ। অতএব নাগরিকগণ ও রাষ্ট্রকে বিশ্বের দরবারে উঁচু স্থানে আসীন করার লক্ষ্যে স্বার্থ আর অর্থের কাছে আপন ভোটকে যাকে-তাকে না দিয়ে নিজ নিজ আসনের যোগ্য, সৎ ও নিষ্ঠাবান প্রার্থীকে নির্বাচিত করবেন, এতেই নিজে, সমাজ ও রাষ্ট্র উপকৃত হবে।

গণতন্ত্র কেবল একটি শাসনব্যবস্থা নয়; এটি একটি মূল্যবোধ, একটি নৈতিক দায়বদ্ধতা, একটি ঐতিহাসিক অঙ্গীকার। স্বাধীনতার দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও রক্তস্নাত ইতিহাসের মধ্য দিয়ে অর্জিত এই রাষ্ট্র আজ আমাদের হাতে ন্যস্ত। সেই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব কার হাতে অর্পিত হবে—তা নির্ধারণের পবিত্র সুযোগই নির্বাচন। আর সেই নির্বাচনে আপনার একটি ভোট শুধু সংখ্যা নয়, এটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণের মৌলিক উপাদান।

ভোটাধিকার নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার, কিন্তু তার চেয়েও বড়—এটি একটি আমানত। এই আমানত অপব্যবহার করা মানে কেবল ব্যক্তিগত ভুল নয়, বরং জাতীয় দায়িত্বে অবহেলা। সাময়িক প্রলোভন, ব্যক্তিগত সুবিধা বা ক্ষুদ্র স্বার্থের বিনিময়ে ভোট প্রদান করা মানে আগামী প্রজন্মের স্বপ্ন ও সম্ভাবনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা।

আজ বিশ্বরাজনীতির প্রেক্ষাপটে যে দেশ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করে, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করে এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে—সেই দেশই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্মানিত হয়। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বিশ্বদরবারে আমাদের রাষ্ট্রের মর্যাদা বৃদ্ধি করে। অতএব আমাদের প্রত্যেকের সচেতন অংশগ্রহণ জাতীয় ভাবমূর্তি রক্ষার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

আমাদের ভাবতে হবে—আমরা কেমন বাংলাদেশ চাই? একটি ন্যায়ভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত, মানবিক ও উন্নয়নমুখী রাষ্ট্র? নাকি বিভক্ত, দুর্বল ও স্বার্থান্ধ নেতৃত্বের হাতে পরিচালিত এক অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ? এই প্রশ্নের উত্তর নিহিত রয়েছে ব্যালটের ভাঁজে। একটি সঠিক সিদ্ধান্ত পাঁচ বছর ধরে উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করতে পারে; আবার একটি ভুল সিদ্ধান্ত জাতিকে পিছিয়ে দিতে পারে বহু দূর।

সুতরাং যোগ্যতা, সততা, দেশপ্রেম, নৈতিক দৃঢ়তা ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা—এই মানদণ্ডে প্রার্থীকে বিবেচনা করা জরুরি। ব্যক্তির চেয়ে বড় হলো আদর্শ, দলীয় পরিচয়ের চেয়ে বড় হলো রাষ্ট্রীয় স্বার্থ, আর সাময়িক লাভের চেয়ে বড় হলো দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণ।

ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হওয়া মানে কেবল দায়িত্ব পালন নয়; এটি গণতন্ত্রের প্রতি আনুগত্যের প্রকাশ, স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার। প্রত্যেক সচেতন নাগরিকের অংশগ্রহণেই শক্তিশালী হয় জাতীয় ঐক্য, সুদৃঢ় হয় রাষ্ট্রের ভিত।

আসুন, আমরা শপথ করি—স্বার্থ ও অর্থের মোহকে পরিহার করে, বিবেকের আলোয় আলোকিত হয়ে, জাতির বৃহত্তর কল্যাণকে প্রাধান্য দিয়ে আগামীকাল আমরা ভোট প্রদান করব। আমাদের একটি ভোটই হোক সততা, ন্যায়, উন্নয়ন ও জাতীয় মর্যাদার পক্ষে উচ্চারিত দৃঢ় ঘোষণা।

গণতন্ত্রের এই মাহেন্দ্রক্ষণে আমাদের অংশগ্রহণই প্রমাণ করবে—আমরা দায়িত্বশীল নাগরিক, আমরা সচেতন ভোটার, আমরা মর্যাদাবান জাতির গর্বিত সন্তান।

রাষ্ট্রের অগ্রযাত্রায় আমাদের ভোট হোক আলোকবর্তিকা, আমাদের সিদ্ধান্ত হোক ইতিহাস নির্মাণের প্রজ্ঞাময় পদক্ষেপ।

লেখক : প্রাবন্ধিক