ঢাকা | ফেব্রুয়ারী ৯, ২০২৬ - ১০:১৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম

চট্টগ্রাম ১ আসনে নেচে গেয়ে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা

  • আপডেট: Monday, February 9, 2026 - 7:15 pm

মিরসরাই প্রতিনিধি।
গানে উঠে আসছে এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা, প্রার্থীর জীবনকাহিনি, দলীয় আদর্শ এবং ভোটারদের প্রতি আহ্বান। ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১ মিরসরাই আসনে শেষ সময়ে চলছে নেচে গেয়ে প্রচার-প্রচারণা।
উপজেলার ১৬ ইউনিয়ন ও দুই পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় নেচে গেয়ে ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা চলছে। মাইকিং ও পথসভা পেরিয়ে এবার ভোটারদের মন জয় করতে প্রার্থীরা বেছে নিচ্ছেন নির্বাচনী গান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব গান ছড়িয়ে দিয়ে ভোটারদের কাছে নিজেদের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা। উপজেলার ১৬ ইউনিয়ন ও দুই পৌরসভায় আনাচে-কানাচে চলছে গানে গানে নির্বাচনী প্রচারণা।
ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করা হচ্ছে প্রার্থীদের থিম সং। কোথাও জনপ্রিয় সুরে লেখা নতুন কথা, আবার কোথাও একেবারে মৌলিক গান—সব মিলিয়ে ডিজিটাল প্রচারণায় নির্বাচনী গানের জোয়ারে সরগরম হয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম-১ আসন।
এসব গানে উঠে আসছে এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা, প্রার্থীর জীবনকাহিনি, দলীয় আদর্শ এবং ভোটারদের প্রতি আহ্বান।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ডিজিটাল প্রচারণার এই নতুন ধারা রাজনীতির মাঠে ভিন্ন এক মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটার ও শিশুদের মুখে মুখে শোনা যাচ্ছে পছন্দের প্রার্থীর নির্বাচনী গান। চায়ের দোকান কিংবা হাটবাজারে আড্ডার মূল আলোচনাতেও জায়গা করে নিচ্ছে এসব গান। বিশ্লেষকদের ধারণা, ভবিষ্যতের নির্বাচনগুলোতে ডিজিটাল গান রাজনৈতিক প্রচারণার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠতে পারে।
চট্টগ্রাম-১ আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান বলেন, ‘তরুণ ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে ডিজিটাল গান এখন সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম হয়ে উঠেছে। তরুণরা সাধারণত লিফলেট পড়তে আগ্রহী নয়, কিন্তু গান শুনে খুব সহজেই বার্তাটি বুঝে নেয়। সে কারণেই নির্বাচনী প্রচারণায় চারটি আলাদা প্রচারমূলক গান ব্যবহার করা হচ্ছে, যা অল্প সময়ের মধ্যেই তরুণ ভোটারদের মনে জায়গা করে নিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব গান ছড়িয়ে দিয়ে তরুণরাই ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছে। দেশের যুবসমাজ, ছাত্রসমাজ ও টিনেজারদের মধ্যে এসব গান ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেকেই এসব গান ব্যবহার করে টিকটক ভিডিও তৈরি করছে, এমনকি তরুণীরাও “দাঁড়িপাল্লা”র গান দিয়ে ভিডিও বানাচ্ছে। এতে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়, গানগুলো তারা মন থেকেই গ্রহণ করেছে।’
স্থানীয় এক তরুণ ভোটার আব্দুল কাদের (২২) বলেন, ‘ফেসবুকে স্ক্রল করতে করতে হঠাৎ বিভিন্ন প্রার্থীর নির্বাচনী গান চোখে পড়ে। মজার ছলে শুনলেও প্রার্থীর কাজের পরিকল্পনাগুলো জানা যায়, এতে আগ্রহ তৈরি হয়।’
মিরসরাইয়ের ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের কলেজ শিক্ষার্থী রিদওয়ান হাসান বলেন, ‘গানগুলো ভালো লাগলেও শুধু গান শুনে ভোট দেব এমন নয়। প্রার্থীর বাস্তব কাজ ও প্রতিশ্রুতিও আমাদের দেখতে হবে।’
মিরসরাই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী নুরুল আমিন বলেন, ‘নির্বাচনী গান এখন প্রচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এই গানের মাধ্যমে আমাদের দাবি, সংগ্রাম ও জনগণের আকাঙ্ক্ষা খুব সহজে মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম গান শুনে রাজনীতির বার্তা দ্রুত গ্রহণ করে। নির্বাচনী গান মানুষের মধ্যে উৎসাহ ও সচেতনতা তৈরি করে, যা একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।’
স্থানীয় নির্বাচনী বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী গান একটি কৌশলগত প্রচারণা। শহর, আধা-শহর ও গ্রামাঞ্চলে তরুণ ভোটারদের মধ্যে এসব গান ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিচ্ছে। কম খরচে অল্প সময়ে বিপুলসংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হওয়ায় ভবিষ্যতে এই প্রবণতা আরও বাড়বে বলে তারা মনে করছেন।
তবে ভোটারদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ বলছেন, গানের মাধ্যমে প্রার্থীদের বার্তা সহজে বোঝা যাচ্ছে। আবার অনেকে মনে করছেন, গানের পাশাপাশি বাস্তব কর্মসূচি ও প্রতিশ্রুতির দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
ষাটোর্ধ্ব ভোটার আজিজুল হক বলেন, ‘রাজনীতিতে সৃজনশীলতা ভালো, তবে গান যেন কেবল শো না হয়ে বাস্তব অঙ্গীকারের প্রতিফলন হয়।’
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার সোমাইয়া আক্তার বলেন, ‘ডিজিটাল প্রচারণা নির্বাচনী আচরণবিধির আওতাভুক্ত। গানে কোনো উসকানিমূলক বক্তব্য, প্রতিপক্ষকে হেয় করা কিংবা নির্ধারিত সময়ের বাইরে প্রচারণা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নুরুল আমিন, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফেরদৌস আহমদ চৌধুরী, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী রেজাউল করিম, জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ শাহাদাৎ হোসেন, মুসলিম লীগ প্রার্থী শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী এবং জাসদ (আসম আব্দুর রব) মনোনীত প্রার্থী একেএম আবু ইউসুফ।