ঢাকা | ফেব্রুয়ারী ৭, ২০২৬ - ৮:০৯ অপরাহ্ন

শিরোনাম

জীবদ্দশায় এমন রাষ্ট্রীয় পদক পাওয়াটা ভাগ্যের ব্যাপার: ববিতা

  • আপডেট: Saturday, February 7, 2026 - 5:08 pm

বিনোদন রিপোর্টার।। উপমহাদেশের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নায়িকা ববিতা ২০২৬ সালের ‘একুশে পদক’-এ ভূষিত হতে যাচ্ছেন। গত বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়। এর আগে নায়কদের মধ্যে জীবদ্দশায় প্রথম স্বাধীনতা পদক পেয়েছিলেন নায়ক রাজ রাজ্জাক। একুশে পদকপ্রাপ্তিতে গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই মুঠোফোনে প্রিয়জনদের কাছ থেকে শুভেচ্ছা পাচ্ছেন। দেশে বিদেশের অগণিত ভক্তের কাছ থেকেও শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছেন তিনি।

একুশে পদকপ্রাপ্তিতে ববিতা বলেন, ‘মহান আল্লাহর কাছে অসীম শুকরিয়া যে তিনি আমাকে সুস্থ রেখেছেন, ভালো রেখেছেন। অনেক অনেক ভালোলাগার বিষয় এটাই যে আমি জীবদ্দশায় একুশে পদক পেতে যাচ্ছি। জীবদ্দশায় এমন রাষ্ট্রীয় পদক পাওয়াটাও ভাগ্যের ব্যাপার। আমি রাষ্ট্রের প্রতি এবং যারা আমাকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করেছেন তাদের প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।

ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘অনেক অনেক ধন্যবাদ, কৃতজ্ঞতা আমার সকল ভক্ত ও দর্শকদের প্রতি, কারণ তারা সবসময়ই আমার সকল কাজের অনুপ্রেরণা দিয়ে এসেছেন। অভিনয়ে থাকি কিংবা না থাকি, তারাই আমার ভালো মন্দের খোঁজ নিয়েছেন। তারা আমাকে অনুপ্রেরণা দিয়ে আজকের এই পর্যায়ে নিয়েছে এসেছেন। কৃতজ্ঞতা সংবাদ মাধ্যমের প্রতি। কারণ আমার অভিনয় জীবনের শুরু থেকে আজ অবধি সংবাদ মাধ্যম সবসময় আমার পাশে ছিলো, এখনো আছে।’

চলচ্চিত্রে ববিতার যাত্রা শুরু হয়েছিল প্রয়াত নির্মাতা জহির রায়হানের হাত ধরেই। সেই স্মৃতিকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘একুশে পদকপ্রাপ্তিতে সংবাদ মাধ্যমেরও যে উচ্ছ্বাস তা অনুভব করছি এই খবর প্রাপ্তির পর থেকেই। আর যেহেতু চলচ্চিত্রে আমার আসা শ্রদ্ধেয় শহীদ জহির রায়হানের হাত ধরে, তাই আমার একুশে পদকপ্রাপ্তি তাকেই শ্রদ্ধার সাথে উৎসর্গ করছি ।’

১৯৭৫ সালে ববিতা ‘নয়নমনি’ সিনেমাতে অভিনয়ের জন্য প্রথম শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। এরপর ১৯৭৬ সালে ‘বসুন্ধরা’ সিনেমার জন্য এবং ১৯৭৭ সালে ‘বাদী থেকে বেগম’ সিনেমার জন্য তিনি একই সম্মাননা লাভ করেন। এরপর ‘রামের সুমতি’, ‘হাছন রাজা’, ‘পোকা মাকড়ের ঘর বসতি’ (শ্রেষ্ঠ প্রযোজক হিসেবে), ‘কে আপন কে পর’ সিনেমার জন্য একই সম্মাননায় ভূষিত হন তিনি।

২০১৬ সালে চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য তিনি ‘আজীবন সম্মাননা’য় ভূষিত হন। ববিতা অস্কারজয়ী বিশ্ববরেণ্য চলচ্চিত্র নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের ‘অশনি সংকেত’ সিনেমাতে অভিনয় করে দেশে বিদেশে বাংলা ভাষাভাষী দর্শকের কাছে এক অনন্য উচ্চতায় চলে গিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে ২০২৩ সাল থেকে ৫ আগস্ট ববিতা ডে হিসেবে উদযাপিত হয়ে আসছে। ববিতা সর্বশেষ নারগিস আক্তারের ‘পুত্র এখন পয়সাওয়ালা’ সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন। সিনেমাটি ২০১৫ সালে মুক্তি পায়। এরপর আর তাকে নতুন কোনো সিনেমাতে দেখা যায়নি।

সিনেমায় অভিনয় প্রসঙ্গে ববিতা বলেন, ‘যদি আমার চরিত্রকে কেন্দ্র করে গল্প আবর্তিত হয় এবং গল্প যদি ভালোলাগে তবেই সিনেমাতে অভিনয় করবো। গল্প আর চরিত্র যদি ভালো না লাগে তবে আর কোনোদিন অভিনয়ে ফেরা হবে না।’

ববিতা জানান, প্রায় তিনশত সিনেমায় তিনি অভিনয় করেছেন। ববিতার প্রযোজনা সংস্থার নাম ছিলো ‘ববিতা মুভিজ’। ‘ফুলশয্যা, ‘আগমন’, ‘লটারী’, ‘চন্ডিদাস রজকিনী’, ‘পোকা মাকড়ের ঘর বসতি’ ও ‘লেডি স্মাগলার’ তার প্রযোজিত সিনেমা। ববিতার একমাত্র ছেলে অনিক কানাডাতে ডেলয়েড-এ চাকুরী করছেন। অনিক একজন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। সিনেমাতে ববিতা নায়ক রাজ রাজ্জাক, জাভেদ, ওয়াসীম, ফারুক, সোহেল রানা, জাফর ইকবাল’সহ আরো বেশ কয়েকজন নায়কের বিপরীতে অভিনয় করেছেন।