দুর্গম পাহাড়ে মানবিকতার অভিযাত্রা
মো. আল আমিন, দীঘিনালা
দুর্গম পাহাড়ি পথ পেরিয়ে সীমান্তবর্তী জনপদে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আঁকাবাঁকা পাহাড়ি সড়ক, ঝুঁকিপূর্ণ নৌপথ এবং সর্বশেষ অল টেরেইন ভেহিক্যাল (এটিভি) ব্যবহার করে বিজিবির সদস্যরা পৌঁছান প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায়। এই দীর্ঘ ও কষ্টসাধ্য যাত্রা শুধু ভৌগোলিক বাধা অতিক্রম নয়, বরং পাহাড়ি জনপদের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক মানবিক অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
পার্বত্য অঞ্চলের শীতার্ত ও অসহায় মানুষের সহায়তায় সেক্টর সদর দপ্তর খাগড়াছড়ির আওতাধীন বাবুছড়া ব্যাটালিয়ন (৭ বিজিবি)-এর ব্যবস্থাপনায় দীঘিনালা উপজেলার সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকায় শীতবস্ত্র বিতরণ, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা এবং দুটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়।
এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার দীঘিনালা উপজেলার ৫নং বাবুছড়া ইউনিয়নের আরান্দিছড়া পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত দরজ আদম বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বিজিবির উদ্যোগে এক জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বাবুছড়া ব্যাটালিয়ন (৭ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইসতিয়াক আহাম্মদ ইবনে রিয়াজ, এসপিপি, পদাতিক। অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে আলমারি, ব্ল্যাকবোর্ড, চেয়ার, টেবিল ও বেঞ্চ প্রদান করা হয়। পাশাপাশি এলাকার দুঃস্থ ও শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। শীতের কনকনে ঠান্ডায় এসব সহায়তা পাহাড়ি মানুষের জীবনে স্বস্তি নিয়ে আসে।
এছাড়া দীঘিনালা সদর থেকে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত দুর্গম টেক্কাছড়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় কৈয়ারতলী বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আরেকটি জনসচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উপস্থিতিতে ৫০ জন শিক্ষার্থীর হাতে খাতা, কলম, পেন্সিল বক্সসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ তুলে দেওয়া হয়। নতুন শিক্ষা সামগ্রী পেয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে আনন্দ ও আগ্রহ লক্ষ করা যায়।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া এলাকাবাসীর মধ্যে বিজিবির প্রতি আস্থা, সম্মানবোধ ও কৃতজ্ঞতার অনুভূতি স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়।
কর্মসূচি শেষে বাবুছড়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইসতিয়াক আহাম্মদ ইবনে রিয়াজ বলেন, এত দুর্গম এলাকায় আগে কখনো মিডিয়া কর্মীদের উপস্থিতি দেখা যায়নি। তিনি জানান, সীমান্ত সুরক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধের পাশাপাশি বিজিবি নিয়মিতভাবে মানবিক ও সামাজিক দায়িত্ব পালন করে আসছে। বিজিবি শুধু সীমান্ত পাহারায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং স্থানীয় জনগণের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছে।
দুর্গম পাহাড়ি জনপদের মানুষের কাছে এই মানবিক সহায়তা একটি কর্মসূচির চেয়েও বেশি। এটি রাষ্ট্রের উপস্থিতি, আস্থা ও বিশ্বাসের একটি দৃশ্যমান বার্তা হিসেবে তাদের মনে স্থায়ী ছাপ ফেলেছে।











