ঢাকা | জানুয়ারী ২৯, ২০২৬ - ১২:৩৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম

আলুর ন্যায্যমূল্য না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, প্রণোদনা দেবে সরকার

  • আপডেট: Thursday, January 29, 2026 - 9:54 am

নিজস্ব প্রতিবেদক।। ন্যায্যমূল্য না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আলু চাষে কৃষকের আগ্রহ কমেছে। এতে গতবারের তুলনায় চলতি মৌসুমে উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছে কৃষি বিভাগ। গত বছর আলু চাষ করে চাষিরা লাভবান হননি। এ কারণে কৃষকরা এ ফসলের চাষ কমিয়ে অন্য সবজি চাষে ঝুঁকছেন । এজন্য সরকার আলু চাষিদের প্রণোদনা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।

কোনো সবজির অতিরিক্ত ফলনে কৃষকরা সাধারণত তেমন ক্ষতিগ্রস্ত হন না। তবে অতিরিক্ত উৎপাদিত আলু রপ্তানি হচ্ছে না; তাই এ খাদ্যপণ্যের উৎপাদন চাহিদার কাছাকাছি রাখতে হয়। কিন্তু, বেশি ফলন হলে তখন কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হন।

এ প্রসঙ্গে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইংয়ের অতিরিক্ত পরিচালক (মনিটরিং ও বাস্তবায়ন) ড. জামাল উদ্দীন বলেন, দুটি কারণে এবার আলুর চাষ কম হয়েছে। প্রথমত, ন্যায্যমূল্য না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এ ফসল চাষে আগ্রহ কমেছে কৃষকের। এছাড়া কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকেও কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে আলু চাষ কমিয়ে অন্য সবজি, যেমনÑবেগুন, মিষ্টি কুমড়া, লাউসহ ১০ ধরনের সবজি চাষের জন্য; যাতে কোনো সবজির অতিরিক্ত ফলনে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত না হন। যেহেতু এসব আলু রপ্তানি হচ্ছে না; তাই সরকারও চাচ্ছে চাহিদার কাছাকাছি উৎপাদন রাখতে।

চাহিদার অতিরিক্ত উৎপাদিত আলু ফললেও সে হারে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে না কেন? এ প্রসঙ্গে ড. জামাল উদ্দীন বলেন, ৯০ লাখ টনের মতো দেশে চাহিদা থাকলেও গত মৌসুমে আলু উৎপাদন হয় ১ কোটি ১৫ লাখ ৭৩ হাজার মেট্রিক টন। এরপরও বেশিরভাগ অতিরিক্ত ফসল রপ্তানি করা হচ্ছে না। কারণ, অতিরিক্ত কীটনাশক ও সার ব্যবহারের কারণে এ খাদ্যপণ্য বিদেশে রপ্তানির যোগ্য নয়। তবে সানসাইন, গ্র্যানোলা, ডায়মন্ড, ম্যাজেস্টিক, প্রাডা, সান্তানা, কুইন এ্যানি, কুম্বিকা, ডোনেটা ও বারি আলু-৬২ মতো উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন আলু দেশের বাইরে রপ্তানি হচ্ছে।

তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, রপ্তানি উপযোগী জাতের আলুর চাষ এখনো সীমিত। সে ধরনের আলু বেশি উৎপাদন করা গেলে দেশের চেহারা বদলে যেতে পারে।

বাংলাদেশ আলু রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি ফেরদৌসী বেগম বলেন, ভালো মানের আলুর ঘাটতির মধ্যেও বিএডিসি-র সানসাইন নামের নতুন একটি জাতের চাষ হয়েছে। যা রপ্তানি বাজারে ভালো করছে। ‍বিদেশে আলুর প্রচুর চাহিদা রয়েছে, যা পূরণে রপ্তানিকারকরা প্রচুর কাজ করছেন।

বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য মতে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৩২ হাজার ৩৯২ মেট্রিক টন, ২০২১-২২ অর্থবছরে ৬২ হাজার ৭২৬ মেট্রিক টন, ২০২০-২১ অর্থবছরে ৫১ হাজার ৭৬৩ মেট্রিক টন আলু রপ্তানি হয়েছিল। এর মধ্যে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে দেশ থেকে আলু রপ্তানির আয় ছিল সর্বোচ্চ ৩৩ মিলিয়ন ডলারের বেশি। যা গত কয়েক বছর ১০ মিলিয়ন ডলারের আশপাশে নেমে এসেছে।

সচিবালয়ে কৃষি ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, আলুর উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় চাষিরা আলুর দাম পাননি। এজন্য সরকার আলু চাষিদের প্রণোদনা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।