ঢাকা | জানুয়ারী ২৮, ২০২৬ - ৯:৫৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম

লামায় সরই ইউনিয়নে মব সৃষ্টি করে জায়গা দখল ও বাগান কর্তন

  • আপডেট: Wednesday, January 28, 2026 - 6:54 pm

লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি।।

লামা উপজেলা সরই ইউনিয়নের ডলুছড়ি মৌজায় মব সৃষ্টি করে বাগান দখল, চাঁদা দাবি ও গাছগাছালি কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী চট্টগ্রাম জেলার খোরশেদ আলম চৌধুরী, পিতা- হাজী বেলায়েত হোসেন চৌধুরী জানান, সংঘবদ্ধ একদল চাঁদাবাজ ও ভূমিদস্যু চক্র তাঁর বাগান দখল ও গাছগাছালি কেটে নিচ্ছে। স্থানীয় আলী হোসন গংয়ের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগে প্রকাশ, জহিরুল ইসলাম, আলী হোসন, আলাউদ্দিন, নুরুল হক গং বিগত জুলাই বিপ্লবের পর জায়গা দখল করেন। মব সৃষ্টি করে সেখানে ঘর নির্মাণ ও ফলদ ও বনজ গাছ উজাড় করতে থাকে। এ বিষয়ে লামা সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালত ও নির্বাহী আদালতে মামলা করেছেন খোরশেদ আলম চৌধুরী। মামলায় উল্লেখ করা হয়, মব সৃষ্টিকারীরা পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছে। দাবিকৃত টাকা না পেয়ে অভিযুক্তরা খোরশেদ আলম চৌধুরীর ক্রয়কৃত ও মালিকানাধীন ৩০৩নং ডলুছড়ি মৌজায় আর/৩৭৭নং হোল্ডিংয়ে স্থিত ফলজ বাগান কেটে নিচ্ছে। এ সময় তারা বাগানের কেয়ারটেকারকে মারধর করে তাড়িয়ে দেয়।
বিগত ১০ জুলাই/২৪ তারিখে তারা মব সৃষ্টি করে বাগানের কর্মচারীদের ওপর হামলা করে। এরপর ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট আবারও দলবল নিয়ে হামলা চালায় আলী হোসন গং। এভাবে একের পর এক হামলা করে বাগানটি দখলে রাখার চেষ্টা করে। অতিসম্প্রতি বাগান থেকে সেগুন, গামারসহ বড় বড় বৃক্ষরাজি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। ২৭ জানুয়ারি স্থানীয় সংবাদকর্মীরা সরেজমিন গিয়ে গাছ কাটার দৃশ্য দেখতে পান।
এ সময় অভিযুক্ত আলী হোসেন, তাঁর পিতা নুরুল হক ও আলাউদ্দিন জানান, “জায়গাটি প্রকৃত মালিক আমরা। ১৯৯৬ সালে ৩৭৭নং হোল্ডিংয়ের ৫ একর জায়গা খোরশেদ আলম চৌধুরী আমাদের কাছ থেকে জায়গাটি কেনার প্রস্তাব দিলে আমরা বিক্রির জন্য সম্মত হই। তৎসময়ে খোরশেদ আলম চৌধুরী আমাদের নগদ দুই হাজার টাকা দেন এবং দেড় লাখ টাকার একটি ব্যাংক চেক প্রদান করে বায়নানামা দলিল সম্পাদন করে জায়গায় দখলে যান। কিছুদিন পর ব্যাংকে চেক নিয়ে টাকা তুলতে গেলে ব্যাংক ক্যাশিয়ার ওই অ্যাকাউন্টে টাকা নেই বলে জানান। তাৎক্ষণিক আমরা চেকটি নিয়ে খোরশেদ আলম চৌধুরীর নিকট গেলে তিনি চেকটি নিয়ে নেন এবং পরবর্তীতে নগদে টাকা পরিশোধের আশ্বাস দেন। এরপর থেকে আমরা সেই টাকা আর পাইনি।”
নুরুল হক গং আরও জানান, “খোরশেদ আলম চৌধুরী প্রভাবশালী আওয়ামী লীগের নেতা হওয়ায় আমরা তাঁর সঙ্গে বিবাদে জড়ানোর সাহস পাইনি। তবে তিনি বিগত ২০১৭ সালে উক্ত জায়গাটি রেজিস্ট্রি করার জন্য আবেদন করলে আমরা আপত্তি প্রদান করি। এরপর তিনি আমাদের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করেন। মামলায় সাক্ষী হাজির করতে না পারায় বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক ওই মামলা খারিজ করে দেওয়া হয়। তাদের সঙ্গে কোনোভাবে পেরে উঠতে না পারায় বিগত ২০২৪ সালের জুলাই মাসে আমরা আমাদের জায়গা দখলে নিয়েছি।”
অপরদিকে খোরশেদ আলম চৌধুরী জানান, তাদের কাছ থেকে নগদ টাকায় জায়গাটি ক্রয় করে সেখানে বিগত তিন দশক আগে লিচু বাগান ও বনজ বাগান সৃজনসহ স্থাপনা নির্মাণ করে তিনি নির্বিঘ্ন দখলে রয়েছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তীতে মব সৃষ্টি করে নুরুল হক গং তাঁর জায়গা থেকে কর্মচারী/ম্যানেজারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দেওয়ায় মারধর করে কর্মচারীদের তাড়িয়ে দিয়ে গাছগাছালি লুট করে নিচ্ছে। সম্প্রতি তাঁর বাগান থেকে গাছ কাটার সময় ডলুছড়ি রেঞ্জ কর্তৃপক্ষ কাঠসহ একটি পিকআপ গাড়ি জব্দ করেন।
সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, ওই জায়গায় একটি নতুন পাঞ্জেগানা মসজিদ ও একটি বড় লিচু বাগানের ভেতরে ছোট দুইটি টিনের ঘর এবং আধাপাকা পুরাতন একটি গোলঘর রয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, সেখানে খোরশেদ আলম চৌধুরী ফলদ ও বনজ বাগান সৃজন করে কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে তিন দশক ধরে দখলে ছিলেন।
প্রসঙ্গত, জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে সরই ইউনিয়নের ডলুছড়ি মৌজায় মব সৃষ্টি করে ফেয়ারি এগ্রো কমপ্লেক্সের শত একর বাগানের গাছগাছালি, স্থাপনা, গরু-মহিষ, ছাগল, মৎস্য খামার, হাঁস-মুরগিসহ প্রায় ১০ কোটি টাকার সম্পদ লুট করে নেয় একটি চিহ্নিত চক্র।