ঢাকা | জানুয়ারী ২৯, ২০২৬ - ৪:১৮ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ঘিরে বিজিবির সর্বাত্মক প্রস্তুতি

  • আপডেট: Wednesday, January 28, 2026 - 6:50 pm

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) একটি পেশাদার, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাহিনী হিসেবে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং ভোটারদের ভোটাধিকার সুরক্ষায় পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে গুইমারা সেক্টরের অধীন রামগড় ব্যাটালিয়ন (৪৩ বিজিবি) সদর দপ্তরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ আহসান উল ইসলাম। প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে বিজিবি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সকল নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করবে।
রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থেকে সকল রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে বিজিবি সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।
তিনি আরও বলেন, ভোটাররা যেন নিরাপদ, শান্ত ও ভয়মুক্ত পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে বিজিবি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে মাঠে দায়িত্ব পালন করবে।
সীমান্তে কঠোর নজরদারি, চোরাচালান ও অনুপ্রবেশ রোধে বিশেষ ব্যবস্থা
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র পাচার কিংবা সীমান্ত-সংশ্লিষ্ট অপরাধ নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিরূপ প্রভাব ফেলতে না পারে। এ লক্ষ্যে সীমান্তে টহল, নজরদারি ও গোয়েন্দা কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং সব ধরনের অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে বিজিবি অতিরিক্ত সতর্কতা ও তৎপরতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।
১ ফেব্রুয়ারি থেকে মাঠে ৩৭ হাজারের বেশি বিজিবি সদস্য
বিজিবি সূত্র জানায়, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বিজিবি পূর্ণমাত্রায় মোতায়েন থাকবে। দেশের ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার সীমান্ত সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি সারাদেশে ৩৭ হাজারেরও বেশি বিজিবি সদস্য নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন।
দেশের ৪৯৫টি উপজেলার মধ্যে কুতুবদিয়া, হাতিয়া, সন্দীপ, দাকোপ, মনপুরা ও রাঙ্গাবালি—এই ছয়টি উপজেলা ব্যতীত ৪৮৯টি উপজেলায় বিজিবি যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করবে। এর মধ্যে সীমান্তবর্তী ৬১টি উপজেলায় বিজিবি এককভাবে নির্বাচনী দায়িত্বে থাকবে।
পার্বত্য অঞ্চলে ৩৪৪ ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা, ১০টি বেইজ ক্যাম্প
ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক জানান, বিজিবি চট্টগ্রাম রিজিয়নের অধীন গুইমারা সেক্টরসহ তিনটি ব্যাটালিয়ন দুই জেলার সাতটি উপজেলায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবে। পার্বত্য দুর্গম এলাকায় নির্বাচন পরিচালনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও তা মোকাবিলায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
গুইমারা সেক্টরের আওতাধীন তিনটি সংসদীয় আসনের ৩৪৪টি ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১০টি বেইজ ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এসব বেইজ ক্যাম্প থেকে মাটিরাঙ্গা, গুইমারা, মানিকছড়ি, লক্ষীছড়ি, রামগড়, মীরসরাই ও ফটিকছড়ি উপজেলার ভোটকেন্দ্রগুলোতে পর্যায়ক্রমে নিরাপত্তা দায়িত্ব পালন করা হবে।
ড্রোন, কে-৯ স্কোয়াড, র‍্যাপিড অ্যাকশন টিম প্রস্তুত
তিনি জানান, নির্বাচনী নিরাপত্তা জোরদারে গুইমারা সেক্টরের অধীনস্থ ব্যাটালিয়নের সদস্যদের নিয়মিত নির্বাচনী মহড়া পরিচালনা করা হয়েছে। রায়ট কন্ট্রোলসহ বিভিন্ন সরঞ্জামের ব্যবহার বিষয়ে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ড্রোনের মাধ্যমে নির্বাচনী এলাকায় সার্ভেইল্যান্স পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবল প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রয়োজনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নন-লেথাল ওয়েপন বা অমারণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে।
বিজিবি আরও জানায়, ঝুঁকি বিবেচনায় সারাদেশের ৩০০টি আসনেই বিজিবি মোবাইল ও স্ট্যাটিক ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। উপজেলা ভেদে দুই থেকে চার প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি বিশেষায়িত কে-৯ ডগ স্কোয়াড ইউনিট, র‍্যাপিড অ্যাকশন টিম, হেলিকপ্টারসহ কুইক রেসপন্স ফোর্স সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে।
শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচন নিয়ে আশাবাদ
প্রেস ব্রিফিংয়ে লেঃ কর্নেল মোঃ আহসান উল ইসলাম বলেন, গুইমারা সেক্টরের আওতাধীন যামিনীপাড়া, খেদাছড়া ও রামগড় ব্যাটালিয়নের সকল সদস্য নির্বাচন-পূর্ব, নির্বাচনকালীন ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সংবিধান ও আইনের আলোকে সরকারের নির্দেশনা অনুসরণ করে নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সরকার, নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।
প্রসঙ্গত, পার্বত্য ও সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বিজিবির ব্যাপক প্রস্তুতি ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা নির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তা বিষয়ে সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বাড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।