ঢাকা | জানুয়ারী ২১, ২০২৬ - ১১:১৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম

সাংবাদিকরা হচ্ছেন সত্যের প্রচারক-খাজা মাঈন উদ্দিন

  • আপডেট: Wednesday, January 21, 2026 - 7:31 pm

ঈদগাঁও (কক্সবাজার) প্রতিনিধি।
কক্সবাজার জেলার গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা বিষয়ক দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকাল থেকে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে।
কক্সবাজার জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ।
সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারী, সহ-সাধারণ সম্পাদক ইকরাম চৌধুরী টিপু, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক হাসানুর রশিদ, পাঠাগার ও মিলনায়তন সম্পাদক আনছার হোসেন এবং সদস্য মোহাম্মদ হাসিম।
এছাড়া সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সহ-সভাপতি এম আর মাহবুব, সাধারণ সম্পাদক এস. এম. জাফর ও যুগ্ম সম্পাদক ছৈয়দ আলম উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, আসন্ন নির্বাচন সাংবাদিকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকরা জনগণের অনির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন এবং নাগরিকের চেয়ে তারা একটু বেশিই জানেন। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সাংবাদিকরা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারেন।
তারা আরও বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে সাংবাদিকরা সরেজমিন পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে তা নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরতে পারেন এবং ভুল থেকে শিক্ষা নিতে পারেন।
প্রশিক্ষণে আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক ও মতামত লেখক খাজা মাঈন উদ্দিন। তিনি বলেন, সাংবাদিকরা লেখনীর মাধ্যমে এক ধরনের আধা-বিচারিক ব্যবস্থা জাতির সামনে তুলে ধরেন। নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে গণতন্ত্র থাকে না, আর গণতন্ত্র না থাকলে সাংবাদিকতার কাজও থাকে না। তিনি বলেন, ‘হোন্ডা দিয়ে গুন্ডা এনে ঠান্ডা করা’ নির্বাচনের দিন শেষ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে মিস ইনফরমেশন ও ডিস ইনফরমেশন দুটিই ক্ষতিকর। নির্বাচনকালীন সময়ে গুজব ও অপপ্রচারের বিষয়ে সাংবাদিকদের সতর্ক থাকতে হবে এবং মিথ্যার সঙ্গে আপস করা যাবে না। তার মতে, সাংবাদিকরা হচ্ছেন সত্যের প্রচারক এবং সবসময় সংখ্যাগরিষ্ঠ মতই যে সত্য হবে, তা নয়।
তিনি সাংবাদিকদের নৈতিকভাবে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণার আহ্বান জানান এবং বলেন, স্বাধীনতারও সীমাবদ্ধতা আছে। জুলাই না হলে বর্তমান সরকারের মতো সরকার গঠিত হতো না। জুলাই ছিল জনগণের সিল না মারা ম্যান্ডেট, জনগণের বিপ্লবও এক ধরনের ম্যান্ডেট।
তিনি মন্তব্য করেন, সাংবাদিকদের শহীদ হওয়ার প্রয়োজন নেই। নির্বাচন ভণ্ডুল হতে পারে, তাই ফলাফল সংগ্রহের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। সাংবাদিকরা যে কোনো বক্তার বক্তব্যকে পূর্ণতা দেন।
প্রশিক্ষণের প্রথম দিনে জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন, এআই ভেরিফিকেশন ও ইনফরমেশন ইন্টেগ্রিটি, গণমাধ্যমকর্মীদের দায়িত্ব ও কর্তব্য, মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকতা, নির্বাচনকালে শারীরিক ও ডিজিটাল নিরাপত্তা, নির্বাচন রিপোর্টিং, ভুয়া তথ্য, অপতথ্য, হেটস্পিচ, গুজব, প্রোপাগান্ডা মোকাবিলা এবং ফ্যাক্ট-চেকিং বিষয়ে ধারণা দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণে পৃথক ব্যাচ ও ভেন্যুতে কক্সবাজার জেলার জেলা ও উপজেলার মোট ১০০ জন গণমাধ্যমকর্মী অংশ নিচ্ছেন। উদ্বোধন ও বিভিন্ন সেশন চলাকালে কক্সবাজার প্রেস ক্লাব ও সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।