ঢাকা | জানুয়ারী ১৭, ২০২৬ - ১২:৩৯ অপরাহ্ন

চাল-ডাল-চিনির দাম বাড়তি, কমছে ডিম-সবজি

  • আপডেট: Friday, January 16, 2026 - 1:10 pm

মেট্রো অনলাইন।। রোজার মাসখানেক আগে চিনি ও ডালজাতীয় পণ্যের বাজার কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী। গত ১৫ থেকে ২০ দিনে চিনির কেজিতে পাঁচ থেকে ১০, আর অ্যাংকর ডালের কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়েছে। চালের কেজিতেও মানভেদে বেড়েছে দুই থেকে তিন টাকা। তবে শীতের তীব্রতার কারণে গত সপ্তাহে বেড়ে যাওয়া সবজি ও ডিমের দাম কমতির দিকে রয়েছে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মহাখালী ও নাখালপাড়া সমিতির বাজার ঘুরে এমন তথ্য জানা গেছে।

গত কয়েক মাস অনেকটা স্থিতিশীল ছিল চিনির বাজার। দাম কমে এক পর্যায়ে খোলা চিনির কেজি নেমেছে ৯০ টাকায়। তবে সপ্তাহ দুয়েক আগে পাইকারি বাজারে দাম বেড়েছে। ফলে খুচরা পর্যায়ে ফের ১০০ টাকায় উঠেছে চিনির কেজি। আর প্যাকেট চিনির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১০৫ টাকা দরে।

অ্যাংকর ডালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়, যা সপ্তাহ দুয়েক আগে ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়। তবে এক মাস আগে দর ছিল ৬৫ থেকে ৭০ টাকা; অর্থাৎ এক সপ্তাহে অ্যাংকর ডালের কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়েছে।

কারওয়ান বাজারের ইয়াসিন জেনারেল স্টোরের স্বত্বাধিকারী মনোয়ার হোসেন বলেন, পাইকারি পর্যায়ে চিনির বস্তায় (৫০ কেজি) ২০০ থেকে ২৫০ টাকা বেড়েছিল। এর প্রভাবে খুচরা বাজারে কেজিতে পাঁচ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। একইভাবে অ্যাংকর ডালের বস্তায় (২৫ কেজি) ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেড়েছে। এ কারণে খুচরায় কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়েছে। অন্যদিকে, ছোলার বাজার স্থিতিশীল দেখা গেছে। প্রতি কেজি কেনা যাচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়।

এদিকে বাজারে নতুন আমন মৌসুমের চাল আসতে শুরু করেছে। এতে নতুন চালের দাম কিছুটা কম থাকলেও পুরোনো চাল বিক্রি হচ্ছে কিছুটা বাড়তি দামে। নতুন মাঝারি চালের (বিআর-২৮, ২৯ ও পাইজাম) কেজি ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হলেও একই মানের পুরোনো চাল বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়। মানভেদে ব্র্যান্ডের সরু চালের (মিনিকেট) কেজি কিনতে ক্রেতাকে কেজিতে গুনতে হবে ৭২ থেকে ৮২ টাকা। সপ্তাহখানেক আগে এ ধরনের চালের দাম অন্তত দুই থেকে তিন টাকা কম ছিল। এ ছাড়া মোটা চালের (চায়না ইরি) কেজি বিক্রি হচ্ছে কমবেশি ৫৫ টাকা দরে। এ সময় এ ধরনের চালের কেজি এখন থাকার কথা ৫০ থেকে ৫২ টাকা।

নাখালপাড়ার মুদি দোকানদার হেলাল মিয়া বলেন, বাজারে নতুন চাল এলেও পুরোনো চালের চাহিদা বেশি থাকে। সেজন্যই দাম কিছুটা বাড়তি। তবে পুরোদমে নতুন চাল এলে দাম স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

বাজারে বোতলজাত তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও দু-তিন ধরে খোলা সয়াবিন তেলের কিছুটা টান রয়েছে। তবে দাম বাড়েনি। ভোজ্যতেল ও চিনির ব্যাপারে জানতে চাইলে মেঘনা গ্রুপের জ্যেষ্ঠ সহকারী মহাব্যবস্থাপক তাসলিম শাহরিয়ার বলেন, গ্যাস সংকটে কারখানাগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান চিনির উৎপাদন কমিয়েছে। তবে বাজারে তাদের পণ্য দুটির নিয়মিত সরবরাহ রয়েছে বলে জানান তিনি।

বেশ কয়েক মাস ধরে মুরগির বাজার সহনীয় পর্যায়ে ছিল। দীর্ঘ সময় পর ব্রয়লার মুরগির কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ থেকে ১৭৫ টাকা দরে। আর সোনালি জাতের মুরগি কিনতে ক্রেতাকে কেজিতে খরচ করতে হবে ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা।

গত সপ্তাহে বেড়ে যাওয়া ডিমের দাম ফের কমেছে। ফার্মের বাদামি রঙের প্রতি ডজন ডিম কমবেশি ১১০ ও সাদা রঙের ডিমের ডজন ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

গত কয়েক দিন শীতের তীব্রতার কারণে চাষিদের সবজি তুলতে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল। সেজন্য গত সপ্তাহে বেশ কিছু সবজির কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছিল। তবে চলতি সপ্তাহে ফের কমে আগের অবস্থানে এসেছে। পর্যাপ্ত জোগান থাকায় বেশির ভাগ সবজির কেজি ৪০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে রয়েছে। গতকাল প্রতি কেজি নতুন আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা, শিম ৪০ থেকে ৬০ টাকা, শালগম ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং বেগুন ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

 

বরাবরের মতো দামি সবজির তালিকায় রয়েছে বরবটি। প্রতি কেজি কিনতে হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। আর মানভেদে টমেটোর কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং কাঁচামরিচ ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। তবে ফুলকপির দাম পাঁচ থেকে ১০ টাকা বেড়ে ৪০ থেকে ৫০ এবং বাঁধাকপি প্রতিটি ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। একইভাবে কিছুটা বেড়ে মুলার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা দরে। এ ছাড়া মাছের দামে তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।