চিৎমরমে পামোক্ষা মহাথের’র ১২তম আচারিয়া পূজা উদযাপন
কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি।
রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চিৎমরম বৌদ্ধ বিহারে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে মার্গ (মাংগঁইং)-এর ৬ষ্ঠ মহাসংঘনায়ক, পরম পূজনীয় ভদন্ত পামোক্ষা মহাথের’র ১২তম আচারিয়া (গুরু পূজা) সম্পন্ন হয়েছে।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দিনব্যাপী নানাবিধ ধর্মীয় ও মাঙ্গলিক কর্মসূচির মাধ্যমে এই পুণ্যময় আয়োজন উদযাপন করা হয়।
কর্মসূচির শুরুতে ভোরে বিশ্বশান্তি কামনায় সমবেত প্রার্থনা ও সূত্রপাঠের মাধ্যমে দিনের সূচনা হয়। ভোরের আগেই কাপ্তাইসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন দুর্গম এলাকা থেকে শত শত পুণ্যার্থী বিহার প্রাঙ্গণে সমবেত হন। সাদা পোশাকে সজ্জিত দায়ক-দায়িকাদের উপস্থিতিতে পুরো বিহার প্রাঙ্গণ এক আধ্যাত্মিক মিলনমেলায় পরিণত হয়।
দুপুরে অনুষ্ঠিত বিশেষ ধর্মসভায় উপস্থিত বিশিষ্ট ভিক্ষুগণ পামোক্ষা মহাথের’র জীবনী, তাঁর ত্যাগময় জীবনাদর্শ এবং বৌদ্ধ ধর্মের অহিংসা ও শান্তির বাণী নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় শিষ্য ও পুণ্যার্থীরা মহাসংঘনায়কের চরণে শ্রদ্ধা নিবেদন করে আশীর্বাদ গ্রহণ করেন।
সন্ধ্যায় সমবেত উপাসক-উপাসিকাদের অংশগ্রহণে সহস্র প্রদীপ প্রজ্বলন করা হয় এবং দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ধর্মপ্রাণ উপাসকরা বলেন, পরম পূজনীয় ভদন্ত পামোক্ষা মহাথের পার্বত্য চট্টগ্রামের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের এক আলোকবর্তিকা। তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাতেই প্রতি বছর এই আচারিয়া পূজা উদযাপিত হয়ে আসছে। এই আয়োজন গুরু–শিষ্যের সম্পর্ক, ত্যাগের মহিমা ও ধর্মীয় শৃঙ্খলার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
বিকেলে সমবেত প্রার্থনা ও পঞ্চশীল গ্রহণের মধ্য দিয়ে ১২তম আচারিয়া পূজার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। অনুষ্ঠানকে ঘিরে চিৎমরম বৌদ্ধ বিহার সংলগ্ন এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ ও ছোটখাটো মেলার আয়োজন দেখা যায়।
অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন করতে পূজা উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট হ্লাথোয়াই অং মারমা ও সদস্য মংসুই প্রু মারমাসহ উদযাপন কমিটির শিষ্য-প্রশিষ্য ও দায়ক-দায়িকাবৃন্দ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।











