ঢাকা | জানুয়ারী ৯, ২০২৬ - ৫:২৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

ভারতে কারাবন্দী জেলে সাগরে নিরাপত্তা চায় কুতুবদিয়ার জেলেরা

  • আপডেট: Tuesday, January 6, 2026 - 6:57 pm

(কুতুবদিয়া) কক্সবাজার প্রতিনিধি। বঙ্গোপসাগরে সীমান্ত চিহ্নিত করতে বয়া স্থাপন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহলকারী জাহাজের উপস্থিতি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন কুতুবদিয়ার জেলেরা। ঘন কুয়াশা ও অরক্ষিত সাগর সীমানার কারণে ভুলবশত জেলেরা ঢুকে ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হচ্ছে। জেলে পরিবারের অভিযোগ, দেশের বঙ্গোপসাগরে সীমানা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ বয়া স্থাপন, ট্রলারে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহলকারী জাহাজের উপস্থিতি বাড়ানো হলে দেশীয় জেলেরা উপকৃত হবে। এতে ভারতীয় সাগরে ভুলবশত জেলেরা ঢুকে পড়া রোধ হবে এবং সেই দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হয়রানি থেকেও মুক্তি মিলবে বলে দাবি স্বজনদের।
জানা যায়, গত ১৭ নভেম্বর বাঁশখালী শেখেরখীলের জাহাঙ্গীর আলমের মালিকানাধীন এমভি মায়ের দোয়া নামের ফিশিং ট্রলারে ২৬ জনের মধ্যে ১৩ জন জেলে কুতুবদিয়ার। গত ১৯ নভেম্বর উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের নজরুল ইসলামের মালিকানাধীন এফবি আদিব-২ নামের ফিশিং ট্রলারে ২৮ জন, গত ১ ডিসেম্বর আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের আব্দুল আলিমের মালিকানাধীন এমভি আল্লাহ মালিক নামের ফিশিং ট্রলারে ১৫ জন এবং গত ১৭ ডিসেম্বর বড়ঘোপ ইউনিয়নের জসিম উদ্দিনের মালিকানাধীন এমবি রূপসী সোলতানা নামের ফিশিং ট্রলারে ২৪ জনসহ মোট ৮০ জন জেলে ভারতে কারাবন্দী রয়েছেন।
স্থানীয় জেলেরা জানান, সাগরে নির্দিষ্ট কোনো সীমানা নেই। তাদের মতে, সাগরের পানির গভীরতা বা চলন্ত ট্রলারের ঘণ্টা হিসাব নির্ণয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত সীমানা নির্ধারণ করা হয়। সে ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময়ে সাগরের পানি অস্বাভাবিক হওয়ায় জেলেদের পরিমাপেও ত্রুটি হয়। এছাড়াও ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেশের সীমানায় ঢুকে জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও অহরহ রয়েছে।
কারাবন্দী জেলে পরিবারের অভিযোগ, সাগরের সীমানা নির্ধারণ করা থাকলে তাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি ভারতে কারাবন্দী হতো না। ভবিষ্যতে অন্য জেলে পরিবারগুলো যাতে তাদের মতো সমস্যায় না পড়ে, সে জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
উপজেলা মৎস্যজীবী ফেডারেশনের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ জানান, ঘন কুয়াশা ও সাগরের সীমানা চিহ্নিত না থাকার কারণেই এসব দুর্ঘটনা ঘটছে। মাত্র তিন-চার কিলোমিটার এলাকায় সাগরে বয়া স্থাপন বা সীমানা নির্ধারণের ব্যবস্থা করা হলে এ সমস্যা দূর হবে। এছাড়াও প্রতিটি ট্রলারে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমেও এই সমস্যা রোধ করা সম্ভব।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জামশেদ আলম রানা জানান, সাগরের সীমানা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা না থাকার কারণে ভুলবশত ট্রলারগুলো ভারতে ঢুকে যাচ্ছে। ফলে ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে এসব জেলে আটক হয়ে বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। বিষয়টি ভালোভাবে জেনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে কীভাবে নিষ্পত্তি করা যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম দ্রুত গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে, ভারতের কাকদ্বীপের কাছাকাছি বাংলাদেশ সাগরের সীমানা থাকায় শীতকালীন সময়ে কুয়াশায় বিভ্রান্ত হয়ে অনেক জেলে সেখানে ঢুকে পড়েন। এ পর্যন্ত জেলে আটকের ঘটনাগুলো ওই স্থানেই ঘটেছে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ওই এলাকায় বাংলাদেশ সীমানায় জেলেদের সতর্ক করতে জোরালো ভূমিকা পালনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।