যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশ্নফাঁস: ৫ সরকারি কর্মচারীসহ গ্রেপ্তার ৭
নিজস্ব প্রতিবেদক।। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ৫ সরকারি কর্মচারীসহ মোট ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ডিবি সাইবার ইনভেস্টিগেশন বিভাগ।
আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। গত দুদিনে ঢাকা ও এর আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিনিময়ে প্রতি পদের জন্য ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার চুক্তি করত। অগ্রিম জামানত হিসেবে নেওয়া হতো ব্যাংক চেক ও নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৫ জন বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে কর্মরত। তাঁরা হলেন— জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কম্পিউটার অপারেটর জাহাঙ্গীর ও এস এম ইমদাদুল ইসলাম এবং অফিস সহায়তাকারী নূর মোহাম্মদ; প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক আসাদুল ইসলাম এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের ডেটা এন্ট্রি অপারেটর মো. রুবেল ইসলাম। এছাড়া চক্রের বাকি দুই সদস্য হলেন চাকরিপ্রত্যাশী মো. মফিজুল ইসলাম ও তাঁর সহযোগী মো. হাসিনুর রহমান সুজন।
ডিবি পুলিশ জানায়, গত ১০ অক্টোবর পরীক্ষা শুরুর দিন ভোর ৪টা ৪৩ মিনিটে নূর মোহাম্মদ একটি বিশেষ সূত্র থেকে প্রশ্নপত্রের অস্পষ্ট ছবি পান। সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে এনবিআরের কম্পিউটার অপারেটর জাহাঙ্গীর তাঁকে প্রশ্নপত্রের স্পষ্ট ছবি পাঠান। এরপর নূর মোহাম্মদ উত্তরপত্র তৈরি করে চক্রের অন্য সদস্যদের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেন। এই কাজে আসাদুল, রুবেল, মফিজুল ও সুজন সরাসরি যুক্ত ছিলেন। চক্রটি মূলত হোয়াটসঅ্যাপের ভুয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে এই জালিয়াতি চালাত।
গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে ১০০ টাকার ১১৬টি ও ৫০ টাকার ৪টি খালি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, বিভিন্ন ব্যাংকের চেকের ৪৮টি পাতা, ১টি পূরণকৃত ব্যাংক চেক, ১ সেট ফাঁসি হওয়া প্রশ্নপত্র, ১৯ পাতা প্রবেশপত্র, ২৫টি শিক্ষাগত সনদপত্র এবং ৮টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
এই জালিয়াতির মূল উৎস এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিজস্ব কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী এর সাথে জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলছে। উল্লেখ্য, গত ১০ অক্টোবর প্রশ্নফাঁসের প্রমাণ মেলার পর পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে পরীক্ষাটি স্থগিত করেছিল কর্তৃপক্ষ।











