ঢাকা | জুলাই ১৮, ২০২৪ - ৫:৪০ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

শতবছরের জমির বিরোধ নিস্পত্তি করলেন কুদ্দুস মেম্বার

  • আপডেট: Friday, April 5, 2024 - 10:25 am

ইউসুফ আলী খান।।

“কাগজ যার জমি তার”, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নতুন ভূমি আইনে, ভূমি মন্ত্রণালয়ের এমন প্রসংশনীয় উদ্যোগের এক বাস্তব প্রমান মিলেছে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার গোহাইল ইউনিয়নে। প্রায় শতবছরেরও অধিক সময় ধরে দুই সরিকের মধ্যে চলা জমি-জমার বিরোধের নিস্পত্তি করে গ্রামবাসী ও এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রসংসার পাত্র হলেন বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার ৬নং গোহাইল ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের সুযোগ্য মেম্বার মোঃ আব্দুল কুদ্দুস।

জানা যায়, গোহাইল ইউনিয়নের খন্ডক্ষেত্র গ্রামের মৌজা: খন্ডক্ষেত্র, জে.এল-২০৪, ১৯২০ সালের রেকর্ড অনুসারে সাবেক ১০৭ দাগে খোলা ৪৪ শতক, ১০৮ দাগে পুকুর ৩৫শতক ও ১০৯ দাগে বাড়ি ৩৯ শতক। এস.এ খতিয়ান-৩৪ ও সি.এস খতিয়ান-৩৭ মূলে উক্ত সম্পত্তির আটআনা অংশের মালিক মৃত:ময়েজ উদ্দিন মন্ডল ও মৃত: ময়েন উদ্দিন মন্ডল উভয়ের পিতা: মৃত: ফয়েজ উদ্দিন মন্ডল। তাদের মৃত্যুর পর ওয়ারিশ সূত্রে আট আনা অংশের মালিক আশরাফুল ইসলাম রহিত, শহিদুল ইসলাম , মকবুল হোসেন মন্ডল, আবু জাফর মন্ডল ও আকরাম মন্ডল দিং।

অপর পক্ষে আটআনা অংশের মালিক মৃত: মজিবর রহমান মন্ডল, মৃত: মফেজ উদ্দিন মন্ডল ও মৃত: মহসিন মন্ডল, সকলের পিতা: মৃত: মানিক উল্লাহ মন্ডল। তারা আটআনা অংশের মালিক হওয়া সর্তেও উক্ত সম্পত্তির সিংহভাগ অংশ জবরদখল করে ভোগ দখল করতে থাকে এবং তাদের মৃত্যুর পর তাদের ওয়ারিশগণও একই ভাবে জবর দখলে রেখে উক্ত সম্পত্তি ভোগ করে আসছিলো।

সার্ভেয়ার সূত্রে জানা যায়, ইতিপূর্বেও ময়েজ উদ্দিন ও ময়েন উদ্দিনের পুত্রসকল জবরদখলকারিদের সাথে দফায় দফায় সালিশি বৈঠক করে কোনও প্রতিকার তো মেলেই নি বরং এটি দীর্ঘ্যদিনের একটি পারিবারিক সংঘাতে রুপ নেয়। বর্তমানে সরকারিভাবে অন-লাইন খতিয়ান (পিন পরচা) প্রকাশ হবার পর ফয়েজ উদ্দিন মন্ডলের ৪র্থ প্রজন্মের অংশিদার হিসাবে মো: আশরাফুল ইসলাম রহিত দিং ও মানিক উল্লাহ মন্ডলের ৩য় প্রজন্মের অংশিদার হিসাবে মোসলেম উদ্দিন দিং এর মধ্যে একই বিরোধ দেখা দেয়। ফলে গত ১৮ নভেম্বর ২০২৩ইং স্থানীয় মেম্বার কুদ্দুসকে অবগত করে ইউসুফ আলী মানুসসহ ৫জন সার্ভেয়ারের একটি টিম জমি সার্ভে করে জায়গাটি চিহ্নিত করলেও সিমানা খুঁটি পুততে বাধা প্রদান করে মোসলেম উদ্দিন দিং পক্ষ।

ফলে একাধিকবার গ্রাম্য সালিশে বিষয়টির প্রতিকার না পেয়ে অবশেষে আশরাফুল ইসলাম রহিত দিং বাদী হয়ে এই সম্পত্তির বৈধ হকদার হিসাবে অবৈধভাবে জবর দখলের বিরুদ্ধে গত ০৭/১২/২০২৩ইং তারিখে ৬নং গোহাইল ইউনিয়ন পরিষদে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে, উক্ত ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলী আতোয়ার তালুকদার ফজু উল্লেখিত বিষয়ে তদন্তপূর্বক ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুল কুদ্দুসকে সালিশি মিমাংসার দায়িত্বভার অর্পন করেন। এরপর থেকে আব্দুল কুদ্দুস মেম্বার টানা দুইমাস যাবত কয়েক দফা বৈঠক করে অনেক প্রচেষ্টার পর অবশেষে দুইপক্ষকে এক টেবিলে বসাতে সক্ষম হন।

তারই ধারাবাহিকতায় গত ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ইং, বুধবার চেয়ারম্যান আলী আতোয়ার তালুকদার ফজুর নির্দেশে সার্ভেয়ার ইউসুফ আলী মামুনসহ দুইজন দফাদারের সহযোগীতায় উভয় পক্ষের দলিলপত্র পর্যালোচনা করে নালিশি সম্পত্তি মাপযোগ করতে থাকেন। সেখানেও দুই পক্ষের মধ্যে নানা বাক বিতন্ডার সৃষ্টি হয় এবং এক পর্যায়ে জবরদখলকারিদের উগ্র ব্যবহারে সালিশকার্য পরিত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন মেম্বার কুদ্দুস।

অবশেষে নানা চড়াই উতরাই পেরিয়ে নিজ বিচক্ষণতায় উভয়পক্ষকে পুর:রায় বৈঠকে বসিয়ে প্রথমে নালিশি ২১৩ দাগের ৪৪ শতক খোলা উভয়পক্ষের মধ্যে সুষ্ঠুভাবে ভাগ-বন্টন করে প্রায় একশত বছরের অধিক সময় ধরে চলা বিরোধের নিস্পত্তি করেন এবং শিঘ্রই নালিশি ২১২ দাগে ৩৯ শতক বাড়ি সমবন্টন করা হবে বলেও জানান তিনি।

এ ঘটনায় গ্রামবাসি ও উপস্থিত গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ সকলেই কুদ্দুস মেম্বারের নিরপেক্ষ সালিশ কার্যের ভূয়সী প্রসংশা করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিডিএসসি বগুড়া’র সভাপতি মানবাধিকার কর্মী আবু সাহেদ, বিএমএসএফ বগুড়া’র প্রচার সম্পাদক মাকসুদ আলম হাওলাদার, গ্রামের নেতৃস্থানীয় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন মোত্তালেব আকন্দ ও আল মাসুম রব্বানী প্রমুখ।