ঢাকা | মে ২১, ২০২৪ - ১:৩৯ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

মিরসরাইয়ে ধ্বংস হচ্ছে উপকূলীয় বনাঞ্চল

  • আপডেট: Friday, March 22, 2024 - 9:57 am
মিরসরাই প্রতিনিধি : এ.এইচ. সেলিম।। 
ধ্বংসের কবলে মিরসরাইয়ের উপকূলীয় বনাঞ্চল
মানবসৃষ্ট বিপর্যয়ের কারণে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ধ্বংস হচ্ছে জীববৈচিত্র। হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ুর ক্ষতিকর প্রভাবে দেশের প্রাকৃতিক বনায়ন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মরুভূমির রূপ নিচ্ছে উপকূলীয় এলাকা। জলবায়ুর এ বিরূপ প্রভাব ও চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে গড়ে ওঠা অর্থনৈতিক অঞ্চলের কারণে মিরসরাইয়ের প্রায় ৭০ শতাংশ উপকূলীয় বনাঞ্চল ধ্বংস হয়েছে।
মিরসরাই উপকূলীয় বনবিট অফিস সূত্র জানায়, উপজেলায় মোট উপকূলীয় এলাকা ২৫ কিলোমিটার হলেও গত কয়েক বছর মুহুরী নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় নতুন চর জেগে ওঠায় বর্তমানে এর পরিমাণ কয়েকগুণ বেড়েছে।
জানা গেছে, শিল্পাঞ্চলের জন্য উপকূলীয় এলাকার ২০ হাজার একর সংরক্ষিত বন উজাড় হওয়ায় খাদ্য ও পানির সংকটে হুমকির মুখে জীববৈচিত্র। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগরের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজের জন্য উপকূলীয় ২৬ হাজার একর ম্যানগ্রোভ বন অধিগ্রহণ করে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। এর দুই-তৃতীয়াংশ বন এরইমধ্যে কেটে ফেলা হয়েছে। অবশিষ্ট বনাঞ্চলও উজাড়ের প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা প্রতিহত করতে মোট বনভূমির পরিমাণ বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে নতুন চারা লাগানো হলেও জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না।
প্রাকৃতিকভাবে ও মানুষের কারণে বনভূমি কমে যাওয়ায় বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান গাছ। ফলদ, ঔষধীসহ মহামূল্যবান গাছের যোগান নেমে এসেছে শূন্যের কোটায়। লবণাক্ততা সহিষ্ণু বিভিন্ন প্রজাতির গাছও কমে এসেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রকাশ্যে উপকূলীয় বনাঞ্চলের গাছ কেটে সাবাড় করছে দুর্বৃত্তরা। উপজেলার উপকূলীয় বনাঞ্চলে চলছে গাছ কাটার মহোৎসব। গাছ খেকোদের এমন কর্মকাণ্ড ঘিরে বনবিভাগ কর্মকতাদের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যদিও এমন পরিস্থিতিতে জনবল সংকটের অজুহাত মিরসরাই উপকূলীয় বন রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল গফুর মোল্লার। তার দাবি এক্ষেত্রে তাদের ভূমিকার চাইতেও বেজার ভূমিকা বেশি।
গোপন সূত্রে জানা গেছে, গাছ খেকোরা দিনের বেলায় বড় বড় গাছের ডালপালা কেটে নেয় এবং রাতের আঁধারে সেই গাছগুলোর মূল অংশ কেটে গুড়ি রেখে যায়। রাতের আঁধারে সড়কে গাছের গাড়ির শব্দে স্থানীয়দের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
এদিকে প্রাকৃতিক বনভূমি ধ্বংসের ফলে এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রায়। এক সময় এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা চলতো অনেকাংশে বনভূমি থেকে বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ করে। কিন্তু বর্তমানে সেই পথ সম্পূর্ণ বন্ধের পথে।
চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মুফিদুল আলম বলেন, মিরসরাইসহ এর আশপাশের এলাকায় যে হারে প্রাকৃতিক বনায়ন কমে আসছে তা সত্যিই উদ্বেগজনক। বিপন্ন বনায়নের তুলনায় কৃত্রিম বনভূমি গড়ে তোলাও সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে চরম বিপর্যয় নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে।
অপরদিকে জলবায়ু পরিবর্তনে চরম হুমকির মুখে পড়েছে এই অঞ্চলের জীববৈচিত্র। উদ্বেগজনক হারে বনভূমি কমে যাওয়ায় পাখিদের অভয়ারণ্য কমে এসেছে। একইসঙ্গে কমে গেছে বন্যপ্রাণীদের চারণ ও বাসভূমি।
বনবিভাগ, পশুসম্পদ অফিস ও স্থানীয় সূত্র জানায়, অতীতে উপজেলার পাহাড়ি ও উপকূলীয় বনে বিভিন্ন প্রজাতির বন মোরগ, হরিণ, বাঘ, হনুমান, শুকর, মহিষ, ছাগল, সাপ, গুঁইসাপ, কচ্ছপ, বনবিড়াল, বন্য হাতিসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী ও জীবজন্তুর দেখা মিলতো। কিন্তু বর্তমানে সচরাচর এসব প্রাণী আর দেখা যায় না।
এ বিষয়ে মিরসরাই উপকূলীয় বন রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল গফুর মোল্লা বলেন, আমাদের ভূমিকার চাইতে বড় ভূমিকা বেজা কর্তৃপক্ষের। কিন্তু তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা নেই। আমরা চেষ্টা করছি কিন্তু বেজা কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। অনেকবার বেজার শরণাপন্ন হয়েছি। কিন্তু তাদের কোনো সহযোগিতা পাচ্ছি না। আমাদের জনবল কম, ওনাদের আওতায়তো পুলিশ, আনসার আছে। আমি বলেছি যৌথভাবে যদি টহল বা কিছু করা যায় তাহলে বন্ধ করা সম্ভব।
তিনি আরও জানান, উপকূলীয় প্রায় ২৬ হাজার একর ম্যানগ্রোভ বন বেজা অধিগ্রহণ করে ফেলেছে। এর দুই-তৃতীয়াংশ এরইমধ্যে কেটে ফেলাও হয়েছে।