ঢাকা | এপ্রিল ২১, ২০২৪ - ৬:২০ অপরাহ্ন

সারা বিশ্বে যৌন রোগ ‘সিফিলিস সংক্রমন বাড়ছে

  • আপডেট: Thursday, July 13, 2023 - 8:15 am

মোঃ খায়রুল আলম খানঃ সিফিলিস বিশ্বের প্রাচীনতম যৌনরোগের অন্যতম। একসময় মনে করা হয়েছিল এর বিস্তার কমে গিয়েছে। কিন্তু এখন এই রোগ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।
চৌদ্দশ নব্বইয়ের দশকে প্রথমবারের মতো রেকর্ড করার পর থেকে সিফিলিস রোগকে অনেকগুলো নামে ডাকা হয়েছে যার বেশির ভাগই বেশ অপ্রীতিকর : ‘ফরাসি রোগ,’ ‘নিয়াপলিটান রোগ,’ ‘পোলিশ রোগ’ ইত্যাদি।

কিন্তু সিফিলিসের একটি নাম স্থায়ী রয়ে গেছে, ‘চরম নকলবাজ’। সিফিলিস অন্যান্য রোগের সংক্রমণকে নকল করতে ওস্তাদ, এবং এর প্রাথমিক লক্ষণগুলি খুব সহজেই নজর এড়িয়ে যায়। সময়মত চিকিৎসা করা না হলে, সিফিলিসের পরিণতি গুরুতর হতে পারে।
অ্যামস্টারডামের ৩৩-বছর বয়সী প্রজেক্ট অফিসার তুষার দুই দুবার সিফিলিসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। সে সময় তার যৌন সঙ্গীর কাছ থেকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে প্রথম অসুখের খবর পাওয়ার দিনটির কথা তার খুব মনে আছে।

‘সে সত্যিই বিরক্ত হয়েছিল,’ বলছেন তিনি। “এই অসুখের জন্য সে আমাকেই দোষারোপ করেছে, যা ‘উইন্ডো পিরিয়ডে’র কারণে একেবারে অসম্ভব। দায়ভার আমার কাঁধে ফেলার বিষয়টা আমার কাছে অদ্ভুত মনে হয়েছে এবং তার রাগারাগি কমাতে কিছুটা সময় লেগেছে।”
ওই সপ্তাহেই তুষার সিফিলিসের পরীক্ষা করান এবং চিকিৎসা শুরু করেন। “লোকেরা ভুল করে মনে করে যে সিফিলিস এমন একটি রোগ যার কোন চিকিৎসা নেই। শরীরে সিফিলিস অ্যান্টিবডি থাকা এবং সংক্রমণ না থাকার মানে যে কি মানুষ এখনো তা বুঝতেই পারে না।”

গত এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রে যৌন সংক্রামিত রোগ বা এসটিআইয়ের সর্বশেষ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে, সিফিলিসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে সবচেয়ে বেশি- ২০২০ সাল থেকে ২০২১ সালের মধ্যে সিফিলিসের কেস ৩২ শতাংশ বেড়ে গত ৭০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যায় পৌঁছেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র সিডিসি সতর্ক করছে, সিফিলিসের মহামারি কমে আসার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এবং সিডিসি কিছু ‘আতঙ্কজনক’ নতুন প্রবণতার দিকে ইঙ্গিত করছে যার কারণে এই রোগের সংক্রমণ হঠাৎ করেই বেড়ে গিয়েছে।
সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ‘কনজেনিটাল সিফিলিস’ অর্থাৎ জন্মগত সিফিলিস, যেখানে একজন মা গর্ভাবস্থায় তার সন্তানের দেহে এই রোগের সংক্রমণ ঘটান। সাধারণত তিনি নিজে এতে সংক্রমিত হন তার যৌন সঙ্গীর কাছ থেকে।
এই রোগের সংক্রমণে মৃত সন্তান প্রসব, শিশু মৃত্যু এবং আজীবন স্বাস্থ্য সমস্যা ঘটতে পারে। এ ঘটনা অনেক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞকে বিচলিত করে তুলেছে।
‘১৫ বা ২০ বছর আগে আমরা ভেবেছিলাম যে আমরা সিফিলিস নির্মূলের কাছাকাছি পৌঁছে গেছি,’ বলেছেন লিয়েন্ড্রো মেনা, সিডিসির যৌন রোগ প্রতিরোধ বিভাগের পরিচালক।
‘কোনো সন্দেহ নেই যে এখন আমরা সিফিলিসের বৃদ্ধি দেখতে পাচ্ছি, এমন এক হারে যেটি আমরা গত ২০ বছরে দেখিনি।’
সিফিলিসের সংক্রমণ যে কেবল যুক্তরাষ্ট্রে ঘটছে তা কিন্তু না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে বিশ্বব্যাপী সিফিলিসের ৭১ লাখ নতুন কেস ধরা পড়েছে। ২০২০ সালে ব্রিটেনে ১৯৪৮ সালের পর থেকে সিফিলিস কেস সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সিফিলিস রোগ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি যৌন স্বাস্থ্য বিষয়ক সেবা দানকারীরা একেবারে সামনে থেকে প্রত্যক্ষ করছেন।
‘২০০৫ সালে যখন আমি প্রথমবারের যৌন স্বাস্থ্য নিয়ে নার্সিং শুরু করি, তখন প্রাথমিক পর্যায়ের সিফিলিস কেস খুঁজে পাওয়া ছিল খুবই বিরল, এমনকি শহরের কেন্দ্রস্থলের ক্লিনিকেও এটা দেখা যেতো না,’ বলছেন ব্রিটেনের এসটিআই ফাউন্ডেশনের কো-চেয়ার জোডি ক্রসম্যান।
এখন ২০২০ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে সিফিলিস সংক্রমণের হার ৮.৪ শতাংশ বেড়েছে। ‘এখন বেশিরভাগ শহরভিত্তিক ক্লিনিকগুলিতে প্রতিদিন কমপক্ষে দুই থেকে তিনজন রোগীকে সিফিলিস চিকিৎসার জন্য হাজির হতে দেখা যায়।’
সিফিলিসের সংক্রমণ ঘটে ট্রেপোনেমা প্যালিডাম নামের একটি ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে।
এই রোগের লক্ষণগুলিতে রয়েছে চারটি ধাপ। প্রথম ধাপে নারী বা পুরুষের যৌনাঙ্গে এক ধরনের ব্যথাহীন কালশিটে বা ফুসকুড়ি দেখা দেয়। এই পর্যায়ে পেনিসিলিন ইনজেকশনের একটি ইন্ট্রামাসকুলার ডোজ সংক্রমণের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসাবে বিবেচিত হয়।
তবে চিকিৎসা না করা হলে সিফিলিসের কারণে দীর্ঘমেয়াদী স্নায়বিক এবং কার্ডিওভাসকুলার রোগ হতে পারে।
মার্কিন সীমান্তের ওপারে ক্যানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সিফিলিস মহামারি ছড়িয়ে পড়তে দেখেছেন টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের সংক্রামক রোগের চিকিৎসক ও গবেষক আইজ্যাক বোগোচ।
‘বিশ্বের একাধিক দেশেই এই প্রবণতাটি দেখা যাচ্ছে,’ বলছেন তিনি।
‘এটি খুবই উদ্বেগজনক কারণ সিফিলিসের চিকিৎসা করা সাধারণত খুবই সহজ, এবং এর চিকিৎসাও সহজলভ্য।
সুতরাং, এর অনেকটাই ঘটছে নানা দেশে জনস্বাস্থ্য পরিষেবাগুলোতে বিপর্যয়ের কারণে।’
কানাডায় ২০১১ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে সিফিলিস রোগের ঘটনা বেড়েছে ৩৮৯ শতাংশ, অন্যান্য যৌন রোগের সংক্রমণের তুলনায় যা অনেক বেশি।
সাম্প্রতিক দশকগুলোয় বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সিফিলিসের ঘটনা ঘটছে সমকামী, উভকামী এবং অন্যান্য পুরুষদের মধ্যে যারা পুরুষদের সাথে যৌনসংগম করেন।
তবে বিশ্বের কিছু দেশে পুরুষদের মধ্যে সিফিলিসের কেস কমে আসছে। যেমন, ক্যানাডায় পুরুষদের মধ্যে সিফিলিসের সংক্রমণের হার কমেছে।
কিন্তু একই সময়ে শুধু কানাডায় না সারা বিশ্বেই নারীদের মধ্যে সিফিলিসের হার বেড়েছে। এর ফলে অনেক দেশে এখন কনজেনিটাল সিফিলিসের হার বেড়েছে।
উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ জুড়ে ২০২১ সালে মা-থেকে শিশুর মধ্যে সিফিলিসের সংক্রমণের কেস ছিল ৩০,০০০টি। এটি এমন একটি পরিসংখ্যান যা স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বর্ণনা করেন ‘খুবই উঁচু’ বলে।
গর্ভাবস্থায় মায়ের দেহ থেকে অনাগত শিশুর দেহে সিফিলিসের সংক্রমণ ঘটলে তার পরিণতি হতে পারে বিপর্যয়কর: প্রসূতির গর্ভপাত হতে পারে, মৃত সন্তান প্রসব কিংবা অকাল প্রসব ঘটতে পারে, নবজাতকের জন্মের সময় ওজন কম হতে পারে এবং জন্মের পরপরই শিশুর মৃত্যুও ঘটতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগত সিফিলিসের হার এখন বাড়ছে। ২০১৬ সালের তুলনায় ২০২০ সালে সিফিলিসের কেস বেড়েছে ৩.৫ গুণ। ২০২১ সালে এই হার আরও বেড়েছে, যার ফলে ঐ বছর ২২০ টি মৃত-প্রসব এবং শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

কিন্তু জাতীয় পর্যায়ের এসব পরিসংখ্যানের মধ্যে দেশের ভেতরে কোন কোন জায়গায় কিছু নাটকীয় ঘটনা লুকিয়ে থাকে।
যেমন, মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের ডাক্তাররা গত পাঁচ বছরে জন্মগত সিফিলিসের ঘটনা ৯০০ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন।
আর এসব ঘটনা সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় ঘটছে কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান এবং হিস্প্যানিক নারীদের মধ্যে।
উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যে মার্শফিল্ড ক্লিনিক রিসার্চ ইন্সটিটিউটের সহযোগী গবেষণা বিজ্ঞানী মারিয়া সুন্দরম বলছেন, ‘আমাদের জনস্বাস্থ্য এবং চিকিৎসা পরিকাঠামোতে যে অন্তর্নিহিত বৈষম্য এবং বর্ণবাদ রয়েছে এসব ঘটনায় সেটাই প্রতিফলিত হয়।’
নারীদের সবচেয়ে দুর্বল গোষ্ঠী, যারা ঘরবাড়ি হারিয়েছেন কিংবা মাদক নেশার সাথে লড়ছেন, তারাই সিফিলিস রোগে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।
আর বিশ্বব্যাপী কোভিড-১৯ মহামারি এই বৈষম্যগুলিকে অনেকগুলি বাড়িয়ে দিয়েছে।
‘জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তারা একমত যে সিফিলিস-সহ বিভিন্ন যৌন রোগ সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার সাথে সম্ভবত কোভিড মহামারি চলার সময় এসটিআই প্রতিরোধ ব্যবস্থাগুলোর কাজে ব্যাঘাতের একটা সম্পর্ক রয়েছে,’ বলছেন সুন্দরম।
সিফিলিস রোগের মহামারির পেছনে যেসব সমস্যা কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে তা হলো: যৌনরোগ পরীক্ষা কেন্দ্রে সেবা নিতে গিয়ে সমস্যা, সিফিলিসকে ঘিরে লজ্জা এবং সামাজিক কলঙ্ক এবং সম্ভবত ভাষাগত বাধা।
ব্রাজিলের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, স্কুলে যাননি এমন কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের মধ্যে জন্মগত সিফিলিসের হার অনেক বেশি।
অনেক ক্ষেত্রেই, সিফিলিস স্ক্রিনিং করে এমন পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে সেবা নেওয়ার ক্ষেত্রে নারীদের সমস্যায় পড়তে হয়।
ক্যালিফোর্নিয়ার কার্ন কাউন্টির আরেকটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, কনজেনিটাল সিফিলিসের সংক্রমণ নির্ভর করছে নারীদের ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস, মেডিকেল ইনস্যুরেন্স, এবং গর্ভবতী মহিলাদের ওপর যৌন সহিংসতা কিংবা বাড়িতে সহিংসতার ওপর। এসব নারীদের মধ্যে অর্ধেকই হলেন হিস্প্যানিক, লাতিনো কিংবা স্প্যানিশ বংশোদ্ভূত।
অস্ট্রেলিয়ায় ২০২০ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, সিফিলিসের হার ২০১৫ সালের তুলনায় প্রায় ৯০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
যদিও জীবনযাত্রার ব্যয়-সংকট এবং কোভিড মহামারি নানা দেশের জনস্বাস্থ্য পরিষেবা খাতকে দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, সেখানে যৌন রোগ সংক্রমণের প্রতিও মানুষের আচরণ এবং দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন ঘটেছে।
‘নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে এইচআইভি/এইডসের অ্যান্টি-রেট্রোভাইরাল থেরাপি চালু হওয়ার পর বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটেছিল,’ বলছিলেন সিডিসির যৌন রোগ প্রতিরোধ বিভাগের পরিচালক লিয়েন্ড্রো মেনা।
‘এখন এইচআইভি সংক্রমণ প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় অগ্রগতির কারণে এইচআইভিকে একটি দীর্ঘস্থায়ী রোগ হিসাবেই দেখা হচ্ছে।
এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি কমে আসায় কনডম ব্যবহার কিংবা যৌনরোগের বিরুদ্ধে অন্যান্য প্রতিরোধ নিতে মানুষের মধ্যে আগ্রহ এখন অনেকখানিই কমে গেছে।’
জাপানের গবেষকরা ডেটিং অ্যাপ এবং সিফিলিসের সাথে সম্পর্ক থেকে মানুষের যৌন অভ্যাসের পরিবর্তন দিকটি বোঝার চেষ্টা করছেন।
গবেষণা থেকে তারা এই উপসংহারে পৌঁছেছেন যে ডেটিং অ্যাপ ব্যবহারের সাথে ‘সিফিলিস সংক্রমণের সম্পর্ক উল্লেখযোগ্য।’
এসব অ্যাপের ব্যবহারের ফলে অনিরাপদ যৌনমিলনের ঘটনা ক্রমশই বাড়ছে।
সাসাকি চিওয়াওয়া, যিনি জাপানের যুব সম্প্রদায় এবং যৌন সংস্কৃতি নিয়ে লেখালেখি করেন, তিনিও যৌনকর্মীদের সাথে কথোপকথনের সময় একই চিত্র দেখতে পেয়েছেন।
চিওয়াওয়া বলছেন, এখন বেশিসংখ্যক যৌনকর্মীরা আর কনডম ব্যবহার করছেন না এবং তাদের গ্রাহকদের এসটিআই পরীক্ষারও কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

যৌনকর্মীরা যদি সংক্রমিত হন, তখন তারা একে ‘দুর্ভাগ্য’ বলে ধরে নেন। ‘স্বাস্থ্যের ঝুঁকির চেয়ে অর্থ উপার্জনকেই তারা অগ্রাধিকার দেন।’

বেশির ভাগ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলছেন, সিফিলিস রোগ মোকাবেলার পথটি সোজা: এর বিরুদ্ধে লড়াই করার ওষুধ আমাদের হাতে আছে। অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধের ঘটনা বাড়লেও পেনিসিলিন এক্ষেত্রে এখনো সেরা চিকিৎসা।
নিরাপদ যৌন চর্চাকে উৎসাহিত করার জন্য আরও বেশি পরীক্ষার প্রয়োজন, সিফিলিসের সাথে সামাজিক কলঙ্ক দূর করতে আরও বেশি করে প্রচারের পাশাপাশি এই বিষয়টি নিয়ে জনসচেতনতাও বাড়াতে হবে।
ব্রিটেনের এসটিআই ফাউন্ডেশনের জোডি ক্রসম্যান বলেছেন, ‘আমরা সামাজিক প্রাণী, তাই সর্দি-জ্বর পরীক্ষায় যতখানি লজ্জা রয়েছে তার চেয়ে বেশি লজ্জা এসটিআই রোগ নির্ণয়ে থাকা উচিত না।’

‘আমরা এসটিআই পরীক্ষার ফোকাসকে ভীতিকর কিছু থেকে এমন কিছুতে পরিবর্তন করার চেষ্টা করছি যা আমাদের যৌন সুস্থতার অংশ, যা নিরাপদ ও উপভোগ্য যৌন জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’
কিন্তু বিজ্ঞানীরা এখনো পর্যন্ত কোনো একটি একক তত্ত্বে পৌঁছাতে পারেননি যে কেন অন্যান্য যৌনরোগের তুলনায় সিফিলিস বেশি দ্রুত হারে বাড়ছে।
লিয়েন্ড্রো মেনা বলছেন, এই রোগের যেসব প্রচলিত জীবাণু রয়েছে সেগুলো যে আরও বেশি মারাত্মক হয়ে উঠেছে তারও কোনো জোরালো প্রমাণ নেই।
অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা কমে আসার সঙ্গে সিফিলিস সংক্রমণ বেড়েছে এই ব্যাখ্যাও মেনে নেয়া যায় না, বলছিলেন ক্যানাডার গবেষক আইজ্যাক বোগোচ।
ওদিকে অ্যামস্টারডামের তুষার এখন প্রতি তিন মাস পর পর যৌনরোগের পরীক্ষা করাচ্ছেন।
‘সিফিলিস সম্পর্কে কথা বলতে আমাদের স্বাচ্ছন্দ্য থাকা উচিত,’ বলছেন তিনি।
‘তথাকথিত জ্ঞানী লোকেরা বৈজ্ঞানিকভাবে বিষয়টি নিয়ে চিন্তা না করেই অন্যকে দোষারোপ করার পথ বেছে নেয়, আসলে আমরা সবাই সেক্স করছি। সেখানে কিছু ঘটনা ঘটতেই পারে।’