৩৬ বছরেও সংস্কার করা হয়নি কাপ্তাই ঢাকাইয়া কলোনির সিঁড়ি: ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল
কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি।
রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ৪নং কাপ্তাই ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের গণবসতিপূর্ণ পাড়া ঢাকাইয়া কলোনি। কর্ণফুলীর কোল ঘেঁষে অবস্থিত এই পাড়ায় শত শত পরিবারের বসবাস। লোকসংখ্যা প্রায় দুই হাজারের কাছাকাছি। সংসারের নিত্যনৈমিত্তিক কাজে এই পাড়ার বাসিন্দাদের সবসময় নদীতে নামতে হয়। এছাড়া নদীর ওপারে চিৎমরম ইউনিয়নের কিছু পাড়ার লোকজনও নৌকাযোগে এই পাড়ার মধ্য দিয়ে কাপ্তাই নতুনবাজার এলাকায় বাজার করতে আসেন।
কিন্তু নদীতে নামার একটি মাত্র সিঁড়িটি বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যে কোনো সময় এটি ভেঙে পড়ে হতাহতের আশঙ্কা করছেন এলাকার লোকজন। ৩৬ বছরেও এটির সংস্কার করা হয়নি।
স্থানীয় লোকজন জানান, ১৯৯০ সালে তৎকালীন কাপ্তাই ৬৫ সেনা ব্রিগেড জনগণের সুবিধার্থে ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে এই সিঁড়িটি নির্মাণ করে দেন। কাপ্তাই নতুনবাজার হতে কর্ণফুলী নদীর পাড় ঘেঁষে এই সিঁড়িটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের পর থেকে এলাকায় আরও বসতি বৃদ্ধি পায়। বসবাসরত হাজারো লোকজন এই সিঁড়ি দিয়ে কর্ণফুলী নদীতে গোসলসহ দৈনন্দিন কাজ সম্পন্ন করে থাকে। কাপ্তাই ইউনিয়ন হতে চিৎমরম পাশ্ববর্তী ইউনিয়নের লোকজনও এই সিঁড়ি দিয়ে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করে থাকে।
৩৬ বছর আগে নির্মিত সিঁড়িটি বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কর্ণফুলী নদীর জোয়ার-ভাটার প্রভাব এবং বর্ষা মৌসুমে সিঁড়ির নিচের বেইচের মাটি ও পলেস্তার ধসে গিয়ে এটি শূন্যের ওপর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে।
৪নং কাপ্তাই ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ও এলাকার বাসিন্দা আবু তাহের জানান, ১৯৯০ সালে কাপ্তাই ৬৫ সেনা ব্রিগেড ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে এলাকার জনগণের সুবিধার্থে এই সিঁড়িটি নির্মাণ করে দেন। বর্তমানে সিঁড়ির অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যে কোনো সময় এটি ধ্বসে হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে।
৫নং ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য মো. ইমান আলী জানান, এই সিঁড়ি ব্যবহার করে প্রতিদিন কাপ্তাই ও চিৎমরম—দুই ইউনিয়নের শত শত মানুষ যাতায়াতসহ দৈনন্দিন সকল কাজ সম্পন্ন করে থাকে। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এটি সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও শেষ পর্যন্ত তা আর করা হয়নি। ফলে এলাকার লোকজন বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণভাবে এই সিঁড়ি দিয়ে চলাচল করছে। প্রশাসন বা পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড দ্রুত এটি সংস্কার বা পূর্ণ পুনর্নির্মাণ করে দিলে আমাদের সমস্যা সমাধান হবে।
যোগাযোগ করা হলে রাঙামাটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তয়ন কুমার ত্রিপুরা বলেন, এই সিঁড়িটি সংস্কার করা জরুরি। তবে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড বা রাঙামাটি জেলা পরিষদ চাইলে এই সিঁড়িটি পুনর্নির্মাণ করে দিতে পারে।











